Aside

স্যেকুলার শিহ্মা ব্যবস্হার কুফল

ক্লাস সিক্সে পড়া একটা বাচ্চা মেয়ে!এখনো হয়তো তার পিরিয়ড হয় নাই। অথবা হলেও পিরিয়ডের ভয়ে আর টেনশনে সিটিয়ে থাকার কথা। ছোট ছোট ফ্রগ পড়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা। কার্টুন নেটওয়ার্কে কার্টুন দেখার কথা। অথচ এই বয়সী একটা মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিপ কিস করছে।
ক্লাস এইটে পড়া একটা ছোট ছেলে! ক্রিকেট ব্যাট,ফুটবল এগুলো যার ধ্যান হওয়ার কথা,সায়েন্স ফিকশন আর কিশোর থ্রিলার যার প্রেম হওয়ার কথা সে তার গার্লফ্রেন্ডের ঠোঁটে কিস করে।
এই দায়ভার কার?? কেন আগের জেনারেশন এমন ছিলো না? আর কেন এই জেনারেশন এভাবে বখে যাচ্ছে?
এখনকার অভিভাবকরা ফাইভ -সিক্সে না উঠতেই এন্ড্রয়েড ফোন কিনে দেয়। পিসিতে দেয় অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। বাচ্চা পর্ণোগ্রাফি আর চটি পেজ পড়ে পড়ে কৈশোরে যৌবন এনে ফেলে! বাবা-মার সেগুলো নজরেই আসে না। ওই সিক্সে পড়া মেয়েটার অথবা এইটে পড়া ছেলেটার কি দোষ??
ক্লাস সিক্স- সেভেনের বইয়ে যৌনতা,যৌন পরিবর্তন এসব নিয়ে বাচ্চাদের পড়তে হয়।এগুলো নাকি তাদের জানতে হবে। এইসব অজানা জিনিস বইয়ে পড়ে অতিরিক্ত জানার আগ্রহ থেকেই কিন্তু সিক্স- সেভেনে পড়া ছেলেটি পাশের বান্ধবীটিকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করে । পিরিয়ড কি জিনিস এইটা একটা মেয়ে মায়ের কাছেই জানতে পারে। বয়োসন্ধিকালের পরিবর্তন সম্পর্কে একটা ছেলে তার বাপ-ভাই অথবা সিনিয়রের কাছেই জানতে পারে।আগের জেনারেশন শিখছে না? ওই জিনিসগুলা
বইয়ে দিয়ে কোমলমতি বাচ্চাদের বিপরীত লিঙের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর কি আদৌ কোন দরকার আছে?
ক্লাস সেভেনে শারীরীক শিক্ষা বইয়ে যখন রজঃস্রাব সম্পর্কে পড়েছিলাম পড়ার পর কিছুই বুঝি নাই। পড়ে আম্মুর কাছে জেনে লজ্জায় মরে গেছি।তারপর যেদিন শারীরীক শিক্ষা ক্লাসে রজঃস্রাব সম্পর্কে পড়ানো হলো আর ছেলেরা আমাদের মেয়েদের দিকে তাকিয়ে মুখ টেপাটিপি করে হাসতেছিল সেদিন আমরা আমরা লজ্জায় মাথা নিচু করেছিলাম। ক্লাস সিক্সের একটা ছেলেকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জানানোর উপকারিতাটা কোথায়? মেয়েদের সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলাতে? ছেলেটার কেন দোষ হবে?
কয়েকবছর আগে এক মিনিট কথা বললে পাঁচ-ছয়টাকা লাগতো। এখন পচিশ পয়সায় এক মিনিট কথা বলা যায়।গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড ঘন্টার পর ঘ্ন্টা কথা বলে। ইন্টারনেট হয়ে গেছে একেবারে সহজলভ্য। ভিডিও চ্যাট হয়,ভয়েস চ্যাট হয়। প্রাসঙ্গিক কথা হয়,অপ্রাসঙ্গিক কথা হয়। আর থাকতে না পেরে কিছুদিন পর লিটনের ফ্লাটে। দুদিন পরপর খবরের কাগজে আত্নহত্যা আর মার্ডারের খবর আসে।
এক ঘণ্টা কথা বলতে যদি তিনশো টাকা লাগতো আর এক জিবি ডাটা কিনতে যদি হাজার টাকা লাগতো স্টুডেন্টরা প্রয়োজন ছাড়া অকাজে এসব ব্যবহারের সুযোগ পেতোনা।
হুম! দেশ তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে । কিন্তু যাদেরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সবকিছু সহজলভ্য করার এই প্রচেষ্টা সেই জেনারশনের দশ- বার বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা যখন লিপকিস করে তখন মাথাটা নিচু হয়ে আসে।
অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে,শিক্ষাব্যবস্থার চেন্জ আনতে হবে,সমাজের সিস্টেম্টা বদলাতে হবে। ধরে ধরে স্টুডেন্টদের টিসি দেয়া কোন সমাধান নয়।
তবে সবথেকে বড় কথা হলো যেসব বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে সুস্থ পারিবারিক বন্ধন আর প্রোপার কাউন্সেলিং পেয়ে আসে তাদের নৈতিকতা নষ্ট হয় না। আপনি যখন সন্তানের বাবা-মা অথবা পরিবারের বড় কেউ আপনি একটু সতর্ক থাকুন।খেয়াল রাখুন আপনার সন্তানের প্রতি।তাকে নৈতিক আর ধর্মীয় শিক্ষা দিন। আপনার সন্তান,দ্বায়িত্ব আপনারই….

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s