Gallery

মুসলিম উম্মাহর মুসিবতের কারণ ও হেফাজতের পথ

20100102025758

মুসলিম উম্মাহর মুসিবতের কারণ ও হেফাজতের পথ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি রব্বুল আলামীন। দুরুদ ও সালাম রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি, তার পরিবারবর্গ, বংশধর, সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও সালেহীণ (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম)-গণের প্রতি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর বান্দা ও রসূল। নিশ্চয়ই শুভ পরিণতি কেবলমাত্র রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদীন এবং সাহাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-গণের অনুসৃত কল্যাণময় আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বিপর্যয়ের মুল কারণ হল আল্লাহর কিতাব ও রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ছেড়ে দিয়ে নিজেদের মনগড়া পন্থার অনুসরণ ও বিজাতীয় অনুকরণ। আর আনুসাংগিক কারণ হল খিলাফাতের বিলুপ্তি, পরকালের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়া, দুনিয়ার লোভ-লালসা, আখিরাতের প্রতি উদাসীনতা, সম্পদের মোহ, মৃত্যুভীতি, পারস্পরিক বিরোধ ইত্যাদি। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর উপর আপতিত লাঞ্ছনার কারণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদীস গন্থসমূহে বহু মূল্যবান বানী লিপিবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্য থেকে বাছাইকৃত কতিপয় আয়াত ও হাদীস সবার বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পেশ করা হল। ইসলামের বিধানাবলীর প্রতি অবহেলা প্রদর্শনঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “আর যে আমার জিকির (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ করা হবে এবং আমি কিয়ামতের দিন তাকে অন্ধ করে উঠাব। সে বলবে- হে আমার রব! আমাকে কেন অন্ধ করে উঠালেন, আমিতো (দুনিয়ায়) চুক্ষষ্মান ছিলাম। তিনি (আল্লাহ) বলবেন : যেমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াত সমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে, তেমনিভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।” -(সূরা ত্ব-হা : আয়াত১২৪-১২৬) তিনি আরও বলেন : “মুমিনগণ! তোমরা ইসলামের মধ্যে পুরোপুরি দাখিল হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আদেশ আসার পরও যদি তোমরা পথভ্রষ্ট হও, তাহলে জেনে রেখ! নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞানী।”-(সূরা বাকারাহঃ আয়াত ২০৮-২০৯) তিনি আরও বলেন : “তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশবিশেষে বিশ্বাস কর ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যের যারা এরকম করে তাদের ইহজীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর তোমরা যা করছো আল্লাহ্ সে-বিষয়ে অজ্ঞাত নন।” -(সূরা বাকারাহঃ আয়াত-৮৫) তিনি আরও বলেন : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করে (তার জেনে রাখা উচিত), অতি সত্তর আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদের তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাকে ভালবাসবে, তারা ঈমানদারদের প্রতি থাকবে অত্যন্ত সদয় এবং কাফেরদের প্রতি থাকবে অত্যন্ত কঠোর, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে আর কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন, আল্লাহ ব্যাপকতার অধিকারী ও মহাজ্ঞানী।”- (সূরা মায়েদা : আয়াত-৫৪) তিনি আরও বলেন : “আমি তোমাদের আগে অনেক মানব জাতিকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা সীমালংঘন করেছিল। তাদের নিকট সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নিয়ে তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন। কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবেই আমি সীমালংঘনকরীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি। অতঃপর তোমরা কীভাবে এবং কেমন কাজ কর তা দেখার জন্য আমি তাদের পরে তোমাদেরকে দুনিয়ায় খলীফা বানিয়েছি।”-(সূরা ইউনুসঃ আয়াত ১৩-১৪) প্রকৃত দ্বীনী ইলম ও আমলের অভাবঃ হযরত আবু উবাইদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং হযরত মু’আজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “ইসলামের সূচনা হয়েছে নবুওয়াত ও রহমতের শাসনের মাধ্যমে। এরপর হবে খেলাফত ও রহমতের শাসন। এরপর হবে অত্যাচার লুটেরা বাদশাহের শাসন। এরপর হবে অহংকারী প্রভাবশালী বাদশাহের শাসন, তখন জমিনে অন্যায়, অবিচার, ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। সেকালের লোকেরা রেশম, ব্যভিচার এবং মদকে হালাল করে ফেলবে। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত এর মাধ্যমেই তাদেরকে রিজিক দেওয়া হবে এবং সাহায্য করা হবে”। -(শুয়াইবুল ঈমান আল বায়হাকি : ৫/১৬) হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ”আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি, যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই বাকি থাকবে না এবং কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না। মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও মানুষ হেদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট জীব। তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিতনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিতনায় আবর্তিত হবে।” -(সুনানে বায়হাকী) হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পর এমন একটি কাল আসবে যখন মানুষের মাঝে দ্বীনী ইলম থাকবে না। সর্বত্রজুড়ে সয়লাব হবে শুধু ফিতনা-ফাসাদের। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) আরয করলেনঃ হে রাসূল! ফিতনা-ফাসাদ কি? তিনি ইরশাদ করলেন- হত্যা ও খুন! – (সুনান ইবনে মাজাহঃ ৪০৪৯, জামে তিরমিযিঃ ২১৩১, মুসনাদ আহমাদঃ ১৯১৯৪ ও বায়হাকী) দুনিয়ার মোহ ও মৃত্যুভীতিঃ বিশ্বময় মুসলিম নিধনঃ হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক সময় আসবে, যখন তোমাদের নিধনের জন্য বিভিন্ন (কাফের) গোষ্ঠি একে অপরকে আহবান করবে। ঠিক যেমন অভুক্ত খাদকদের আহবান করা হয়, (মুখরোচক খাবারের) পাত্রের প্রতি। তখন একজন বলে উঠলেন, আমাদের সংখ্যাসল্পতার কারণে কি সেদিন এমন দুরাবস্থা হবে? ইরশাদ হলো-বরং সেদিন সংখ্যায় তোমরা অনেক বেশি, অনেকটা প্রবাহমান পানির ফেনার মতো (পরিমাণে অধিক অথচ অন্ত:সারশূন্য) থাকবে। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভয়-ভীতি তুলে দিবেন (তারা তোমাদের খুবই নগণ্য ভাববে)। আর তোমাদের অন্তরে ‘ওয়াহান-বা দুর্বলতা’ সৃষ্টি করে দিবেন। জনৈক প্রশ্নকর্তা জানতে চাইলেন-‘ওয়াহান’ কি? ইরশাদ হলো-দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুভীতি। – [আবু দাঊদঃ ৪২৯৭] হযরত মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : দুটি ক্ষুধার্ত বাঘকে বকরীর পালের মধ্যে ছেড়ে দিলে তারা পালের এই পরিমাণ ক্ষতি করে না যে পরিমাণ মানুষের সম্পদের লোভ ও সম্মানের লিপ্সা তার দ্বীনকে ক্ষতি করে। – (জামে তিরমিযি -২৩৭৬) হযরত কাব ইবনে ইয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “প্রত্যেক জাতির জন্য একটা ফিতনা আছে। আমার উম্মাতের জন্য ফিতনা হলো সম্পদ।” -[তিরমিযী] মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একে অপরের ক্ষতি করতে চাওয়াঃ অন্যের ক্ষতি করতে চাওয়াঃ হযরত আবু সিরমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘’যে ব্যাক্তি অন্যের ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহ্‌ তায়ালা তার ক্ষতি করেন। তেমনি ভাবে যে ব্যাক্তি অন্যের উপর কঠিন হয় আল্লাহ্‌ তায়ালাও তার উপর কঠিন হন’’ -[ইবন মাযাহ ২৩৭১] হযরত উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘’তুমি কারোর কোনো ধরনের ক্ষতি করো না। তেমনিভাবে তোমরা পরস্পর একে অপরের ক্ষতি করার প্রতিযোগিতা করো না’’ -[ইবন মাযাহঃ ২৩৬৯,২৩৭০] মুসলাম ভাইয়ের কোন বিপদ দেখে খুশি প্রকাশঃ হযরত ওয়াছিলা ইবনে আসকয়ীল লাইছী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তুমি (কোন) মুসলাম ভাইয়ের কোন বিপদ দেখে খুশি প্রকাশ করো না। কেননা, হতে পারে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন। আর তোমার উপর ঐ মুসিবত চাপিয়ে দিবেন। -(তিরমীযী- ২/৭৩, শুয়াবুল ঈমান- ৫/৩১৫, মেশকাত-৪১৪) ন্যায়ের উপদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোর পরিত্যাগঃ সবাই আযাবপ্রাপ্ত হবে আর দুয়া কবুল হবে নাঃ হযরত হুজাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “ঐ সত্তার কসম যারা কুদরতী হাতে আমার প্রাণ, তোমরা সৎকর্মের আদেশ করতে থাক এবং অন্যায় কর্মের বাধা দিতে থাক। অন্যথায় খুব শীঘ্রই হয়তো আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবেন। তখন তোমরা আল্লাহ্‌ তা’আলার দরবারে আযাব হটিয়ে দেওয়ার জন্য দু’আ করবে। কিন্তু তিনি কবুল করবেন না।” -(তিরমিযীঃ হাদীস নং ২/৩৯) হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই মা’রূফ এর আদেশ করবে, মুনকার থেকে নিষেধ করবে, কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহ প্রদান করবে, অন্যথায় আল্লাহ যে কোন আযাবে তোমাদের সকলকেই ধ্বংস করবেন কিংবা তোমাদের মধ্য হতে সর্বাধিক পাপাচারী, অন্যায়কারী ও যালিম লোকদেরকে তোমাদের ওপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দিবেন। এ সময় তোমাদের মধ্যকার নেককার লোকেরা মুক্তিলাভের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া ও কান্নাকাটি করবে; কিন্তু তাদের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।” –(মুসনাদে আহমদ) হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবেন। তখন তোমরা দোয়া করলেও তিনি সেই দোয়া কবুল করবেন না।” -(তিরমিযীঃ হাদীস নং- ২১১৫ : হাসান) সবাই শাস্তি প্রাপ্ত হবেঃ হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোন অপছন্দ কথা বা কর্ম লক্ষ্য করে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে না, অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে শাস্তি দিবেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন কোন সম্প্রদায়ের মাঝে পাপ হতে থাকে এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম ব্যক্তিরা প্রতিরোধ না করে, তখন আল্লাহ সকলকেই শাস্তি দেন।” – [তিরমিযী ও আবু দাউদ] বনি ইসরাঈলী সম্পদায়ের বিপর্যয়ঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রথমে পাপ ও অনিষ্টকারীতা এভাবে অনুপ্রবেশ করে- এক ব্যক্তি যখন অপর ব্যক্তির সাথে মিলিত হত তখন তাকে বলত, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় কর, যা করছ তা পরিত্যাগ কর কেননা এ কাজ তোমার জন্য বৈধ নয়। পরদিনও সে তার সাথে মিলিত হয়ে তাকে পুর্ববস্থায় দেখতে পেত কিন্তু সে আর তাকে নিষেধ করত না। এভাবে সেও তার পানাহার ও ওঠা-বসায় শরীক হয়ে পড়ে। যখন তারা এমন অবস্থায় পৌঁছে গেল, তখন আল্লাহ তাদের একের অন্তরের (কালিমা) দ্বারা অপরের অন্তরকে অন্ধকার করে দিলেন। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন: (৭৮) ইসরাঈল জাতির মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তারা দাঊদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার জবানে অভিশপ্ত হয়েছিল, কারণ তারা অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী ছিল। (৭৯) তারা যে সকল খারাপ কাজ করত, তা করা থেকে তারা একে অন্যকে নিষেধ করত না। তারা যা করত তা কতই না খারাপ কাজ ছিল! (৮০) তাদের অনেককে আপনি কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন। কত খারাপ তাদের কাজ, যা তারা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য করেছে, যে কারণে আল্লাহ তাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা চিরকাল শাস্তির মধ্যেই থাকবে। (৮১) তারা যদি আল্লাহর প্রতি, নবীর প্রতি এবং যা নবীর প্রতি নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনত তাহলে তারা কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের অনেকেই পাপাচারী। (সূরা মায়েদা: ৭৮-৮১) অতঃপর তিনি (মহানবী) বলেন : কখনও নয়! আল্লাহর শপথ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করতে থাক এবং অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে (লোকদেরকে) বিরত রাখ, জালিমের হাত শক্ত করে ধর এবং তাকে টেনে তুলে সত্য-ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত কর। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের পরস্পরের অন্তরকে মিলিয়ে দিবেন। অতঃপর বনি ইসরাঈলদের মত তোমাদেরকেও অভিশপ্ত করবে। -(আবু দাউদ : সহীহ) পাপী ও নীরব দর্শকের পরিণামঃ হযরত নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর বিধানকে যারা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আর যারা অবহেলা করে তাদের দৃষ্টান্ত হল সমুদ্রগামী একটি জাহাজের আরোহীদের মত, যারা লটারীর মাধ্যমে এর দুই তলায় আসন নির্ধারণ করল। একদল উপরে আর একদল নীচের তলায়। নীচের তলার লোকেরা উপরের তলায় উঠত পানি সংগ্রহ করতে। ফলে উপরের লোকদের ওখানে পানি পড়ত। উপর তলার লোকেরা বলল, তোমরা আমাদের এখানে পানি ফেলে আমাদের কষ্ট দিচ্ছ। সুতরাং আমরা তোমাদেরকে উপরে উঠতে দিব না। নীচের তলার লোকেরা বলল, তাহলে আমরা জাহাজের তলা ফুটো করে পানি সংগ্রহ করব। এই অবস্থায় যদি উপরের তলার লোকেরা নীচের তলার লোকদের হাত ঝাপটে ধরে ছিদ্র করা থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে পারে তবে সকলেই বেঁচে যাবে। কিন্তু তারা যদি এদেরকে এ কাজ করতে ছেড়ে দেয় তবে সকলেই ডুবে মরবে। (সহীহ বুখারী ও তিরমিযী-২১১৯ : হাসান ও সহীহ্) দুনিয়ার মোহে আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগঃ মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন : “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচআখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতিকরতে পারবে না,আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।” – (সূরা তওবাঃ আয়াত ৩৮- ৩৯) তিনি আরও বলেন : “(হে নবী)! আপনি বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা-মাতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই-বোন, তোমাদের বংশ, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের এমন ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা পছন্দ কর; আল্লাহ তা’য়ালা ও তার রাসুল এবং তার রাস্তায় জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় না হয়, তাহলে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।” -(সুরা তওবাঃ আয়াত ২৪) তিনি আরো বলেন : “হে নবী!আপনি বলে দিন যদি তোমাদের ভাই , তোমাদের স্ত্রীগণ , তোমাদের আত্মীয় –স্বজন তোমাদের সেই ধন –সম্পদ যা তোমরা উপার্জন করেছো ,বানিজ্য যার ক্ষতি হওয়াকে তোমরা ভয় কর আর তোমাদের সেই ঘর যা তোমরা খুবই পছন্দ কর ,আল্লাহ্‌,তার রসূল এবং জিহাদের চেয়ে ও অধিকতর প্রিয় হয় ,তাহলে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তার চূড়ান্ত ফয়সালা তোমাদের সম্মুখে পেশ করেন। বস্তুত; আল্লাহ ফাসিক লোকদের কখনো হেদায়েত করেন না।” -(সূরা তাওবাহঃ আয়াত২৪) হযরত ইবন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “তোমরা যদি নিজেদের মধ্যে ব্যবসা করতে থাক,আর ষাঁড়ের লেজের পেছনে চলতে থাক, এবং কৃষকহিসাবে থেকেই সন্তুষ্ট হয়ে যাও আর জিহাদ ছেড়ে দাও, আল্লাহ তখন তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন যতক্ষন তোমরা তোমাদের দীনে ফিরে না যাও”। -(আবুদাউদ : সহীহ) মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো। – [সূরা আলে-ইমরানঃ আয়াত ১৪৫] মুসলিম উম্মাহর মাঝে পারস্পরিক বিরোধঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ “আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে”। -[সূরা আল-আনফাল:৪৬] হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেহেশ্তের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছু শরিক করে না আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যে লোকের সাথে তার মুসলমান ভাইয়ের শত্রুতা রয়েছে তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এদের অবকাশ দাও যেন নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নিতে পারে। আর অন্য বর্ণনায় আছেঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের কার্যকলাপ পেশ করা হয়। -[মুসলিম] হযরত আবু আইয়ূব আনছারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘তিন দিনের বেশী কোন মুসলমানের জন্য অপর মুসলিম ভাই হ’তে সম্পর্ক ছিন্ন রাখা হালাল নয়। তাদের উভয়ের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম করে। -(বুখারী ও মুসলিম) অন্য বর্ণনায় এসেছে- ‘কোন মুসলমানের জন্য অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন রাখা হালাল নয়। যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে এবং মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ -(আহমাদ, আবুদাঊদ ও মিশকাত-৫০৩৫) হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘মানুষ এমনভাবে আত্মগর্বে লিপ্ত হয়ে পড়ে যে, অবশেষে তার নাম উদ্ধত-অহংকারীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়, ফলে তার উপর সেই আযাবই নেমে আসে যা তাদের উপর নেমে থাকে’। -{তিরমিযী, হাদীস নং – ২০০০} সময় দ্রুত চলে যাওয়াঃ হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, সময় নিকটবর্তী হবে (অর্থাৎ যাতায়াত এবং সংবাদ আদান প্রদানে বেশী সময় লাগবে না)। এবং ধর্ম বিদ্যার মৃত্যু হবে। বিপদাপদ দেখা দিবে, কৃপণতা দেখা দিবে এবং হারাজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন ‘হারাজ’ কি? উত্তরে আল্লাহর হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত (সাঃ) বললেন, হত্যা। – (বুখারী ও মুসলীম) হযরত ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কোন জাতির উপর মহান আল্লাহ আযাব অবতীর্ণ করেন, তখন তাদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত লোককে তা গ্রাস করে ফেলে। তারপর বিচারের দিন তাদেরকে কৃতকর্মের ভিত্তিতে পুনরুত্থিত করা হবে।’’ – (বুখারী ও মুসলীম) সামাজিক মুল্যবোধ ও নৈতিক অবক্ষয়ঃ অহংকারী প্রভাবশালী বাদশাহের শাসনঃ হযরত আবু উবাইদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং হযরত মু’আজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “ইসলামের সূচনা হয়েছে নবুওয়াত ও রহমতের শাসনের মাধ্যমে। এরপর হবে খেলাফত ও রহমতের শাসন। এরপর হবে অত্যাচার লুটেরা বাদশাহের শাসন। এরপর হবে অহংকারী প্রভাবশালী বাদশাহের শাসন, তখন জমিনে অন্যায়, অবিচার, ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। সেকালের লোকেরা রেশম, ব্যভিচার এবং মদকে হালাল করে ফেলবে। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত এর মাধ্যমেই তাদেরকে রিজিক দেওয়া হবে এবং সাহায্য করা হবে”। -(বায়হাকিঃ হাদীস ৫/১৬) পাঁচটি অপরাধের ভয়াবহ পরিনামঃ হযরত ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্র্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে মুহাজির দল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই তোমরা যেন তা প্রত্যক্ষ না কর। (১) যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে তখন সে জাতির মাঝে প্লেগ ও এমন রোগ ব্যাপক হবে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। (২) যে জাতি মাপে কম দিবে সে জাতি দুর্ভি, খাদ্য সংকট এবং শাসকগোষ্ঠির অত্যাচারের শিকার হবে। (৩) যে জাতি যাকাত দেয়া বন্ধ করবে সে জাতির জন্য বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না। (৪) যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভংগ করবে সে জাতির উপরে তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করে দেয়া হবে, যারা তাদের বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে। (৫) যে জাতির শাসকগোষ্ঠী আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী দেশ শাসন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে সন্ত্রাস/গৃহযুদ্ধ স্থায়ী রাখবেন। -(বায়হাকী ও ইবনে মাজাহ) কয়েকটি অপরাধের পরিণতিঃ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যখন আমার উম্মত দশটি কাজ করবে, তখন তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কাজগুলো কি কি? তখন তিনি বললেনঃ ১. যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে মনে করা হবে। ২. যখন আমানত হিসেবে রক্ষিত সম্পদকে লুটের মাল হিসাবে গ্রহণ করা হবে। ৩. যখন যাকাতকে জরিমানার মত মনে করা হবে। ৪. স্বামী যখন স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে। ৫. যখন মানুষ বন্ধুর প্রতি সদাচারী এবং পিতার সাথে দুর্ব্যবহারকারী হবে। ৬. মসজিদে হৈ চৈ হবে। ৭. জনগণের নেতা হবে সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী। ৮. যখন মানুষকে তার ক্ষতির আশংকায় সম্মান প্রদর্শন করা হবে। ৯. যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের হিড়িক পড়ে যাবে। ১০. যখন উম্মতের পরবর্তীরা র্ববর্তীদেরকে অভিশাপ দেবে। তখন আগুনের বাতাস আসবে, মাটির ধস ও দেহের বিকৃতি ঘটবে।” (সুনানে তিরমিযী ও সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস- ১৫৪১) অনুরূপ বর্ননাঃ হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যখন মানুষ গনীমতের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করতে থাকবে। আমানতের সম্পদকে গনীমতের সম্পদ মনে করতে থাকবে। যাকাতকে বোঝা মনে করতে থাকবে। দ্বীনী ইলম অর্জন করবে দুনিয়ার উদ্দেশ্যে। স্ত্রীর আনুগত্য করবে, মাকে কষ্ট দিবে। বন্ধুকে আপন মনে করবে, পিতাকে পর মনে করবে। মসজিদে হৈচৈ করবে। ধর্মহীন লোকেরা গোত্রপতি হবে। নীচ শ্রেণীর লোকেরা জাতির নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হবে। অনিষ্টতার ভয়ে মানুষের সম্মান করা হবে। গায়িকা নারী ও বাদ্যযন্ত্রের প্রাবাল্য হবে। মানুষ ব্যাপকভাবে মদ পান করবে। পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের অভিসম্পাত করবে। তখন রক্তিম ধোঁয়া এবং কঠিক প্রকম্পনের অপেক্ষা করবে। অপেক্ষা করবে মাটি ধ্বসে যাওয়ার। আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়ার। আর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণের। এসব আযাবের সাথে সাথে কেয়ামতের অন্যান্য আলামতেরও অপেক্ষা করবে। যখন সুতাছেঁড়া তাসবীর গোটার মত একটার পর একটা আপতিত হতে থাকবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২২১১, কানুযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-৩৮৭১৪, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৬৯, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৯১) অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাবঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান, পরে তারা তারই ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, যার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারি, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায়নি। (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং-৪০০৯) অনুরূপ বর্ণনাঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘‘যে জনগোষ্ঠীর-মধ্যেই ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তথায় মৃত্যুর আধিক্য ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে।’’ -(মুয়াত্তা মালিক, কিতাবুল জিহাদ, হাদিস নং-৮৭০) সুদী অর্থ ব্যবস্থা ও প্রকাশ্য অশ্লীলতাঃ হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন এলাকায় যিনা ও সুদ ব্যাপক হয় তখন ঐ এলাকার লোকেরা নিজেদের উপর আল্লাহর শাস্তিকে হালাল করে দেয়। অন্য হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত: যখন কোন বস্তিতে যিনা ব্যাপক হয় ও তাদের মাঝে প্রকাশ্যে যিনা হতে থাকে তখন তাদের মাঝে এমন নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি ও বালা-মুসিবত ব্যাপক হতে থাকে যেগুলো পূর্ববর্তী লোকেরা শুনেও নাই। -(তারগীবঃ – ৩/১১৮) মারাত্মক গোনাহের কারণে ঈমানের নূর বিলুপ্ত হয়ঃ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় মুমিন থাকেনা। কোন চোর চুরি করা অবস্থায়। কোন শরাবখোর শরাব পান করা অবস্থায় মুমিন থাকে না। মানুষের চোখের সামনে কোন নিরীহ লোকের উপর অক্রমনকারী মুমিন থাকে না। -(বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ী) অত্যাচারী পুরুষ ও উলংগ নারীঃ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : দুই ধরণের মানুষ জাহান্নামে যাবে যাদেরকে এখনো কেউ দেখেনি। (১) ঐসমস্ত পুরুষ যাদের কাছে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে ও তা দ্বারা তারা মানুষদেরকে মারবে। (২) ঐসমস্ত নারী যারা পোশাক পরার পরও উলংঙ্গ থাকবে। তারা পুরুষদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে এবং পুরুষের দিকে আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার চুল উটের কোহানের মত উঁচু বানিয়ে রাখবে। তারা জান্নাতে যাবে না এবং জান্নাতের খোশবুও পাবে না। অথচ জান্নাতের খোশবু এমন এমন দূর থেকে পাওয়া যাবে। -(মুসলিম: ২ খ. ২০৫ পৃ.) হযরত হোজায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আমাদের কাছে দুইটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারমধ্যে একটি আমি দেখেছি এবং অন্যটির জন্য অপেক্ষা করছি। ঈমান এবং আমানত মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তিনি আরো বলেন যে মানুষ পবিত্র কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা ভুলে যাবে। তিনি আরো বললেন যে, কোন লোক নিদ্রায় যাবে তারপর তার অন্তর থেকে আমানত নিয়ে নেয়া হবে। শুধু একটি বিন্দুর মত দাগ থাকবে। এরপর সে আবার নিদ্রামগ্ন হবে এবং অবশিষ্ট আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন মানুষ ব্যবসা করবার জন্য সকালে বাসা থেকে বের হবে কিন্তু কেউই আমানত ফেরত দিবে না। বলা হবে অমুক অমুক ব্যক্তি বিশ্বাসী এবং কোনও কোনও ব্যক্তিকে বলা হবে যে সে অনেক জ্ঞানী! সে কি চতুর! সে কি মার্জিত! কিন্তু সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও তার মধ্যে থাকবে না। -(বুখারী ও মুসলিম) নারী জাতির ফিতনাঃ হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্র্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার পরে আমি পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাইনি। -(ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন) হযরত আবূ সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ”নিশ্চয় দুনিয়া মধুর ও সবুজ (সুন্দর আকর্ষনীয়)। আর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে এর প্রতিনিধি নিয়োজিত করে দেখবেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করছ? অতএব তোমরা যদি সফলকাম হতে চাও তাহলে দুনিয়ার ধোঁকা থেকে বাঁচ এবং নারীর ফিতনা থেকে বাঁচ। কারণ, বনী ইসরাঈলের সর্বপ্রথম ফিতনা নারীকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল।” -[মুসলিম: ২৭৪২, তিরমিযী: ২১৯১, ইবনু মাজাহ: ৪০০০, আহমাদ: ১০৭৫৯] ধর্মীয় বিষয়ে মারাত্মক বাড়াবাড়ি করাঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ”হে মানব সকল! তোমরা ধর্মীয় বিষয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী সকল উম্মত কেবল এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।” -( ইবনে মাজাহঃ ৩০৮৫ ও ইবনে হিব্বানঃ ১০১১) হযরত যিয়াদ বিন হুদায়ের রাদিয়াল্লাহু‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে একদিন হযরত ওমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু‘আনহু বললেন, তুমি কি জানো কোন্ বস্তু ইসলামকে ধ্বংস করে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, ইসলামকে ধ্বংস করে তিনটি বস্তু : (১) আলেমের পদস্খলন (২) আল্লাহর কিতাব নিয়ে মুনাফিকদের ঝগড়া এবং (৩) পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন’। -(দারেমীঃ ২১৪ সনদ ছহীহ) হযরত আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমি তোমাদেরকে যেসব বিষয় নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাক। আর যেসব বিষয়ে আদেশ করেছি, যথাসম্ভব তা পালন কর। বেশী বেশী প্রশ্ন করা আর নবীদের সথে মতবিরোধ করা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করে দিয়েছে। -[বুখারীঃ ৭২৮৮ ও মুসলিম: ১৩৩৭] মুসলিম উম্মাহর উপর বিপদ-আপদ কিভাবে আপতিত হবে??? হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সমন্ত পৃথিবীকে ভাঁজ করে আমার সামনে রেখে দিয়েছেন। অতঃপর আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। পৃথিবীর যে পরিমাণ অংশ গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের রাজত্ব পৌছবে। আমাকে লাল ও সাদা দু’টি ধনাগার দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ব্যতীত এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দিবে। এ কথা শুনে আমার প্রতিপালক বললেন, হে মুহাম্মদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো প্রতিহত হয় না। আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করবো না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে দেবো না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও তিনি বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক সমবেত হয়ে চেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলমানগণ পরস্পর একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে। -{সহীহ মুসলিমঃ হাদীস নং ৬৯৯৪} একের পর এক বিপদ আসাঃ হযরত হোজায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, একটি খাটের যেমন একটি তক্তার পর আরেকটি তক্তা হয়, সেরকম বিপদাপদও হৃদয়ের উপর পতিত হবে। যে হৃদয় তা পান করবে তার উপর একটি সাদা চিহ্ন অংকিত হবে। এইভাবে দুটি হৃদয় হবে। একটি শেত পাথরের মত শুভ্র হবে। যে পর্যন্ত জমীন ও আসমান বিদ্যমান থাকবে সে পর্যন্ত কোনও বিপদাপদ তার বিনষ্ট করতে পারবেনা। অন্য হৃদয়টি উলটানো পানির পেয়ালার মত কালো ও অপরিষ্কার হবে। এটা কোন প্রকার ন্যায় ও মঙ্গল জানবে না এবং অমঙ্গলকেও পরিত্যাগ করবে না। কিন্তু সেচ্ছাকৃত ইচ্ছা দিয়ে পরিচালিত হবে। -(মুসলিম) জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগঃ হযরত আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, অতি শীঘ্রই বিপদাপদ আপতিত হবে। সাবধান! ক্রমাগত বিপদাপদ ঘটবে। সাবধান! পুনরায় বিপদাপদ নেমে আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি পথ চলা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে এবং পথ চলা ব্যক্তি দৌড়ে লিপ্ত থাকা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে। সাবধান! যখন এটা ঘটতে থাকবে তখন ছাগল ও মেষের অধিকারী যেন তার নিজের ছাগল এবং মেষের নিকটেই থাকে। আর যার জমি আছে সে যেন তার জমির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যার উট, মেষ, ছাগল বা জমি নাই তার কি অবস্থা হবে ? উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে যেন তার তরবারি পাথরের সাহায্যে শান দিতে থাকে এবং সম্ভব হলে জয়ী হয়। হে আল্লাহ! আমি কি আমার সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি ? (তিনি তিনবার এই কথা বললেন) অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাকে পছন্দ না করা হয় এবং আমাকে কোন পাহাড়ে নিয়ে কেউ যদি তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে কিংবা তীর এসে যদি আমাকে হত্যা করে তখন আমার অবস্থা কি হবে? এর উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে তোমার এবং তার গোনাহর বোঝা করবে এবং জাহান্নামে নীত হবে। – (বুখারী ও মুসলিম) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখন তুমি দুষ্টু লোকদের ভিতরে পতিত হবে? তাদের সন্ধিনামা ও আমানত নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা মতবিরোধে লিপ্ত হতে থাকবে। তারা হবে এরকম (এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় অজ্ঞুলি সমূহকে আলাদা করে দেখালেন) তখন সে বললো, তখন আপনি আমাকে কি করতে নির্দেশ দেন? এর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা জান তা সম্পাদন করবে এবং যা জান না তা পরিত্যাগ করবে। তুমি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকবে এবং জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে এবং তোমার রসনাকে সংযত করবে। তুমি যা জান তা গ্রহন করবে এবং যা জান না তা গ্রহন করবে না। তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে নিবিষ্ট থাকবে এবং জন সাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে। – (তিরমিজী) ঘরে ঘরে বিপদ আপদঃ হযরত ওমাছাহ বিন জায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মদীনা শরীফের উচ্চ স্থানের মধ্যে একটি সুউচ্চ পর্বতে উঠে বললেন : আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখছো? সাহাবাগণ উত্তরে বললো, না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি বৃষ্টিপাতের ন্যায় তোমাদের ঘরে বিপদ-আপদ নিপতিত হতে দেখছি। – (বুখারী ও মুসলীম) নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহনঃ হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘‘সত্বর এমন এক সময় আসবে যে, ছাগল-ভেড়াই মুসলিমের সর্বোত্তম মাল হবে; যা নিয়ে সে ফিতনা থেকে তার দ্বীনকে বাঁচানোর জন্য পাহাড়-চূড়ায় এবং বৃষ্টিবহুল (অর্থাৎ তৃণবহুল) স্থানে পলায়ন করবে।’’ – [সহীহুল বুখারী ১৯, ৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮, নাসায়ী ৫০৩৬, আবূ দাউদ ৪২৬৭, ইবনু মাজাহ ৩৯৮০, আহমাদ ১০৬৪৯, ১০৮৬১, ১০৯৯৮, ১১১৪৮, ১১৪২৮] ঈমানের পরীক্ষা, গোনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও বিপদ-আপদ আপতিত হয়ঃ মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন : “তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমরা অতি সহজেই জান্নাতে চলে যাবে? অথচ তোমরা এখনো সেই লোকদের অবস্থা অতিক্রম করোনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বহু বিপদ মুসিবত ও দুঃখ কষ্ট। তাদেরকে অত্যাচারে নির্যাতনে এমনভাবে জর্জরিত করে দেয়া হয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত তৎকালীন রাসূল এবং তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তারা আর্তনাদ করে বলে উঠেছিল আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? তখন তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হয়েছিল, আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।” -(সূরা বাকারাহ : ২১৪) তিনি আরও বলেন : ‘‘অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্য্যধারণকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত।” -[সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৫৫-১৫৭] হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার মঙ্গল চান, তখন তিনি তাকে তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে (পাপের) শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার অমঙ্গল চান, তখন তিনি তাকে (শাস্তিদানে) বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পুরোপুরি শাস্তি দেবেন।’’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘‘বড় পরীক্ষার বড় প্রতিদান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো জাতিকে ভালবাসেন, তখন তার পরীক্ষা নেন। ফলে তাতে যে সন্তুষ্ট (ধৈর্য্য) প্রকাশ করবে, তার জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যে (আল্লাহর পরীক্ষায়) অসন্তুষ্ট হবে, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’’ -[মুসলিমঃ ২৩৯৬ ও ইবনু মাজাহঃ ৪০৩১] হযরত সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত কে? উত্তরে তিনি বলেনঃ ‘নবীগণ, অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। দ্বীনী অবস্থান পাকাপোক্ত হ’লে পরীক্ষা কঠিন হয়। দ্বীনী অবস্থান দুর্বল হ’লে পরীক্ষাও শিথিল হয়। মুছীবত মুমিন ব্যক্তিকে পাপশূন্য করে দেয়, এক সময়ে দুনিয়াতে সে নিষ্পাপ অবস্থায় বিচরণ করতে থাকে’। -(তিরমিযীঃ ২৩৯৮; ইবনু মাজাহঃ ৪০২৩ ও সহীহুল জামেঃ ৯৯২) হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট (আমাদের দুঃখ-দুর্দশা ও অত্যাচার-নির্যাতন সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি তার চাদরটিকে বালিশ বানিয়ে কাবা ঘরের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা তাকে বললাম : আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চান না? আপনি কি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দোয়া করেন না? তখন তিনি বললেন : তোমাদের ওপর আর কি দুঃখ নির্যাতন এসেছে? তোমাদের পূর্বেকার ঈমানদার লোকদের অবস্থা ছিল এই যে, তাদের কারো জন্য গর্ত খোড়া হতো এবং সে গর্তের মধ্যে তার দেহের অর্ধেক পুতে তাকে দাঁড় করিয়ে তার মাথার ওপর করাত দিয়ে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা হতো। কিন্তু এ অমানুষিক অত্যাচার তাকে তার দ্বীন থেকে বিরত রাখতে পারতো না। আবার কারো শরীর থেকে লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়িয়ে হাড় থেকে গোশত আলাদা করে ফেলা হতো। কিন্তু এতেও তার দ্বীন থেকে ফিরাতে পারতো না। আল্লাহর কসম, এ দ্বীন অবশ্যই পূর্ণতা লাভ করবে। তখন যেকোন উটারোহী লানআ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ নিরাপদে সফর করবে। আর এ দীর্ঘ সফরে সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না। এবং মালিক তার মেষ পালের ব্যাপারে নেকড়ে ছাড়া আর কারো ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা খুবই তাড়াহুড়া করছো।” -( সহীহুল বুখারী) মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয় প্রতিরোধে আমাদের দায়িত্বঃ উম্মাহর মাঝে বিরামহীন সংশোধনী প্রয়াসঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “তোমাদের আগে যে সকল জাতি চলে গিয়েছে তাদের মধ্যে এমন লোক কেন থাকল না, যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বাধা দিতে পারত? তবে কিছু সংখ্যক লোক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে রক্ষা করেছিলাম। আর যালিমদেরকে যে ঐশ্বর্য্য দেয়া হয়েছিল সেগুলো নিয়েই তারা মেতে রইল, তারা ছিল পাপাচারী। আপনার প্রভু এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে এমন জনপদ ধ্বংস করে দেবেন যার অধিবাসীরা সংশোধনরত।” -(সূরা হূদঃ আয়াত ১১৬-১১৭) ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনাঃ মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না। [সূরা বাক্বারাহঃ আয়াত ১৫৩-১৫৪] সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করাঃ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ্ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দিবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ্ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ্ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” -[সূরা ত্বালাক, আয়াত ২-৩] সর্বদা কল্যাণকর কাজে আত্ম নিয়োগ করাঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ফিতনা ফাসাদও বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়ার পূর্বেই তোমরা কল্যাণকর কাজে আত্ম নিয়োগ করো। এ বিপর্যয় তোমাদেরকে অন্ধকার রাতের মতো গ্রাস করে নেবে। কোন ব্যক্তির ভোর হবে মুমিন অবস্থায় আর সন্ধ্যা হবে কাফের অবস্থায়। আর তার সন্ধ্যা হবে মুমিন অবস্থায় আর সকাল হবে কাফের অবস্থায়। মানুষ দুনিয়ার সামান্যতম স্বার্থের বিনিময়ে নিজের দ্বীনকে বিকিয়ে দেবে। -(মুসলিমঃ হাদীস নং ২২১) লোভ-লালসা থেকে আত্মরক্ষা এবং ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক থাকাঃ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “দুনিয়াটা একটা শ্যামল সবুজ সুমিষ্ট বস্তু। আল্লাহ এখানে তোমাদের প্রতিনিধি বানিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তোমরা কি করছো তা দেখছেন। সুতরাং, এই দুনিয়ায় নিজেদের-কে লোভ-লালসা থেকে আত্মরক্ষা করো এবং ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক থাকো।” -[মুসলিম] সদা-সর্বদা তওবা ও ইস্তেগফার করাঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে সব ধরণের বিপদাপদ হতে মুক্ত করবেন, সব রকমের দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন এবং এমন উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। -[আবু দাঊদ ও ইবনে মাজাহ] সুন্নাহ-কে মজবুতভাবে আঁকড়ে থাকাঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত প্রসংগেঃ হযরত মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে থাকবে, পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ”। -[ মুয়াত্তা ইমাম মালেকঃ হাদিস নং ৩৩৩৮] খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত প্রসংগেঃ হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে বসলেন। অতঃপর আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় উপদেশ দিলেন যে, চক্ষু সমূহ অশ্রুসজল হয়ে গেল এবং হৃদয় সমূহ ভীত-বিহবল হয়ে পড়ল। এমন সময় একজন বলে উঠলো, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটা যেন বিদায়ী উপদেশ। অতএব আপনি আমাদেরকে আরও বেশী উপদেশ দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। আমি তোমাদের আমীরের আদেশ শুনতে ও মান্য করতে উপদেশ দিচ্ছি যদিও তিনি একজন হাবশী গোলাম হন। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা সত্বর বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধরবে। তাকে কঠিনভাবে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত সমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। সাবধান! দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টিসমূহ হ’তে দূরে থাকবে। কেননা (দ্বীনের মধ্যে) যেকোন নতুন সৃষ্টি হ’ল বিদ‘আত। আর প্রত্যেক বিদ‘আত হ’ল পথভ্রষ্টতা।’ -[আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ] সাহাবাগণের সুন্নাত প্রসংগেঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্র্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “বানী-ইসরাইলীগণ বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মাত বিভক্ত হবে তিয়াত্তর দলে, সকলেই জাহান্নামে যাবে, কিন্তু একটি মাত্র দল জান্নাতে যাবে। সাহাবাগণ (রা) জিজ্ঞাসা করলেন- এই দল কারা? রসূলুলাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : যারা আমার ও আমার সাহাবাগণের ছুন্নাতের উপর কায়েম থাকবে।” – (তিরমিযীঃ ২৫৭৮, আবু দাউদ ও তারগীবঃ ৪৮) উম্মতের মধ্য সর্বদাই হক্বের পক্ষে সংগ্রাম করাঃ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমার উম্মতের একটি দল সর্বদাই হক্বের পক্ষে লড়াই করবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তারা বিজয়ী থাকবে। – [মুসলিমঃ হাদীস নং-৫০৬৩) একই বিষয়েঃ হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক সর্বদা সত্যের (দীনে হকের) ওপর বিজয়ী হয়ে থাকবে। যারা তাদের সহায়তা করা ছেড়ে দেবে তারা তাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত তারা এভাবেই হকের ওপর অবিচল থাকবে। – (মুসলিমঃ হাদীস নং-৪৭৯৮) অনুরূপ বর্ণনাঃ হযরত সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি গুমরাহকারী বাদশাহদেরকে ভয় করছি এবং তিনি আরো বলেন কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটা দল সর্বদা হকের উপর কায়েম থাকবে। তাঁরা সর্বদা দ্বীনের উপর কায়েম থাকবেন ও কামিয়াব হবেন, তাঁদেরকে কেউ কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। – [তিরমিজী: ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা- ৪৭] বিপদ- আপদ থেকে মুক্তির জন্য কতিপয় দোয়ার আমল করাঃ দুনিয়ার বুকে বিপদ-আপদ থেকে হেফাজতের জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে। সেখান থেকে সহজে আমল যোগ্য কয়েকটি ছোট ছোট দোয়া সবার বিবেচনা ও আমলের জন্য পেশ করা হল- সব ধরনের অনিষ্টতা থেকে হিফাজতের দোয়াঃ হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কোন বান্দা প্রতিদিন সকালে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করলে কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। بِسْمِ اللّهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيمُ অর্থাৎ আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমীনের কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। – (তিরমিযী-৩৩২৪ : হাসান ও সহীহ, আবু দাউদ, নাসাই ও ইবনে মাজাহ্) কোন সম্প্রদায় থেকে ক্ষতির আশংকা হলে দোয়াঃ হযরত আবু মুসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করতেন তখন বলতেন : اَللّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ (হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখী করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি)- আবু দাউদ ও নাসাই। বিপদগ্রস্থ বা রোগাগ্রস্থ ব্যক্তিকে দেখে দোয়াঃ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্থ বা ব্যাধিগ্রস্থ লোককে দেখে বলে- اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ عَافَانِيْ مِمَّا ابْتَلَاكَ بِه وَفَضَّلَنِيْ عَلى كَثِيْرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلًا (সমস্ত প্রসংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন এবং তার বহু সংখ্যক সৃষ্টির উপর আমাকে মর্যাদা দান করেছেন)- সে কখনো উক্ত বিপদ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে না। -তিরমিযী: হাসান। মুসিবতের সময় পাঠ করার দোয়াঃ হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি : কোন ব্যক্তির উপর কোন বিপদ এলে যদি সে বলে- إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ – اَللّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلُفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا (আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চাইতে ভাল বস্তু দান করুন)- মহান আল্লাহ তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চাইতে উত্তম বস্তু দেন। -(সহীহ মুসলিম) বিপদের সময় পাঠ করার দোয়াঃ হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদের সময় দোয়া করতেন : لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ الْحَلِيْمُ الْحَكِيْمُ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمُ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ رَبُّ السَّموَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ لْكَرِيْمُ – (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহা জ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমীন ও মহাসম্মানিত আরশের প্রভু)- [বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাই ও ইবনে মাজাহ] বিপদের সময় দোয়া ইউনুস পাঠ এবং এর ফজিলতঃ হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নবী যুন-নুন (ইউনুস আলাইহিসসালাম) মাছের পেটে অবস্থান কালে যে দোয়া করেছিলেন তা হল : لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ (তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত)। কোন মুসলিম ব্যক্তি কোন বিষয়ে এ দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করেন। -(তিরমিযী ও নাসাই) দেনার বিপদ থেকে মুক্তির দোয়াঃ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। একটি চুক্তিবদ্ধ দাস তার কাছে এসে বলে, আমি আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, আমি তোমাকে এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব যা আমাকে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর পর্বত পরিমান দেনাও থাকে তবে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেন, তুমি বল : اَللّهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ (হে আল্লাহ! তোমার হালাল দ্বারা আমাকে তোমার হারাম থেকে দুরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ভিন্ন অপরের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে স্বনির্ভর কর)- [তিরমিযী : হাসান, বায়হাকী ও হাকেম] ফজরবাদ পাঠ করার বিশেষ দোয়াঃ হযরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর দুই পা ভাজ অবস্থায় কারো সাথে কথা বলার পূর্বে দশ বার বলে- لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ (অর্থাৎ – আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তার কোন শরীক নাই, সার্বভৌমত্ব তারই, সব প্রশংসা তারই জন্য, তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান), তার আমল নামায় দশটি নেকী লেখা হয়, দশটি গুনাহ বিলুপ্ত করা হয় এবং দশগুন মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। সে ঐ দিন সব রকমের বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে, শয়তানের ধোঁকা থেকে তাকে পাহারা দেয়া হবে এবং ঐ দিন র্শিক ছাড়া অন্য কোন গুনাহ তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে না। – [তিরমিযী : হাসান ও সহীহ] বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় পড়ার দোয়াঃ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি তার বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় বলে : بِسْمِ اللّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ (আল্লাহর নামে বের হলাম এবং আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ছাড়া অকল্যাণ রোধ বা কল্যাণ হাসিল করার শক্তি কারো নাই)- তাকে বলা হয় তোমাকে হেদায়াত দেয়া হয়েছে, যথেষ্ট দেয়া হয়েছে এবং হেফাজতের ব্যবস্থা করা হয়েছে আর শয়তান তার থেকে দুরে চলে যায়। (তিরমিযী, আবু দাউদ ও নাসাই) আবু দাউদ পরে আরও বৃদ্ধি করেছেন- শয়তান অন্য শয়তানকে বলে, তুমি এর উপর কেমন করে নিয়ন্ত্রন লাভ করবে যাকে হেদায়াত দান করা হয়েছে, যথেষ্ট দেয়া হয়েছে এবং হেফাজতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপদ-মুসিবতে আপতিত হলে পাঠ করার দোয়াঃ মুমিনগণের উপর কোন মুসিবত আপতিত হলে আল্লাহ তা’য়ালা পাঠ করার জন্য যে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন- اَلَّذِيْنَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُّصِيْبَةٌ قَالُوا ] إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ[ – যখন তাদের উপর কোন মুসিবত আপতিত হয় তখন তারা বলে : (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য আর আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে) – সূরা বাকারাহঃ আয়াত ১৫৬। জালিম শাসকদের জুলুম থেকে মুক্তির জন্য হযরত মুসা (আলাইহিসসালাম) এর দোয়াঃ এই দোয়া নিয়মিত পাঠে জালিম শাসকদের অন্যায় ও জুলুম থেকে মুক্তির দৃঢ় সম্ভাবনা রয়েছে। عَلَى اللّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ ০ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ ০ – আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিমদের নির্যাতনের শিকার বানাবেন না। আমাদেরকে আপনার রহমতে কাফিরদের কবল থেকে রক্ষা করুন। – (সূরা ইউনুসঃ আয়াত ৮৫-৮৬) জালিমদের জুলুম ও নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য মাজলুম ঈমানদার বান্দাগণের দোয়াঃ এই দোয়া নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে সমাজের জালিম সম্প্রদায়ের জুলুম থেকে মুক্তির আশা করা যায়। رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِيًّا وَّاجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِيْرًا – হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালিমদের এ জনপদ থেকে মুক্ত করুন। আপনার পক্ষ থেকে কাউকে আমাদের অভিভাবক করে দিন, আপনার নিকট থেকে কাউকে আমাদের সাহায্যকারী করে দিন। – (সূরা নিসাঃ আয়াত ৭৫) আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করুন! সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদীন ও সাহাবা (রাদিয়াল্লাহুম)-গনের আদর্শের উপর সর্বদা কায়েম রাখুন! তাঁদের বরকতময় জামাআতের সংগে আমাদের হাশর করুন! আ-মী-ন। [পুরো লেখাটি সংগৃহিত]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s