Gallery

পাঠ্যবইয়ে কি ঢুকলো আর কি বের হলো (১)

12651289_186085121749693_7157882058871769632_n.jpg

বর্তমানে যে পাঠ্যপুস্তক চলছে তার আগের পাঠ্যপুস্তক, অর্থাৎ ২০১০-২০১১ সালের পাঠ্যপুস্তকের সাথে মিলালে বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে কি প্রবেশ করানো হয়েছে এবং কি বের করে দেওয়া হয়েছে সেটা বের হবে। আসুন বিষয়গুলো দেখি-

ক্লাস-২, বাংলা বই:
আগের পাঠ্যপুস্তকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে মুসলমানদের শেষ নবীর একটি জীবন চরিত ছিলো। ঐ ঘটনাটিতে মদীনা শহরে যখন শত্রুরা আক্রমণ করলো তখন মহানবী তার সঙ্গীদের নিয়ে পরিখা খনন করলেন, যেন শত্রুরা প্রবেশ না করতে পারে। ঘটনাটি হচ্ছে, মহানবী নিজেও ঐ সবার সাথে পরিখা খননে অংশ নিলেন। এতে বাচ্চাদের কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হলো। এ ঘটনাটি সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্লাস-৩, বাংলা বই:
খলিফা হযরত আবু বকর (র.) নামক একটি শিক্ষামূলক প্রবন্ধ ছিলো। ছাত্র-ছাত্রীদের এই ঘটনার মাধ্যমে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিলো। এর প্রবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বদলে ঢুকানো হয়েছে ‘একজন পটুয়ার কথা’ শিরোনামে কামরুল হাসানের জীবনী। এ প্রবন্ধটিতে হিন্দুয়ানী ব্রতচারিদের কালচার সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

ক্লাস-৪, বাংলা বই:
খলিফা হযরত ওমর (র) নামে একটি শিক্ষামূলক প্রবন্ধ ছিলো। সেখানে খলিফা ওমরের জীবনী উল্লেখ করে ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছিলো।
এছাড়া কবি গোলাম মোস্তফার কবিতা প্রার্থনা কবিতা (অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি, বিচার দিনের স্বামী, যত গুনগান হে চির মহান, তোমারি অন্তর্যামি) কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে (অন্যক্লাসে দেওয়া হয়েছে)। এর বদলে প্রবেশ করেছে সুকুমার রায়ের ‘আবোল-তাবোল’ নামে একটি কবিতা।

ক্লাস-৫, বাংলা বই:
প্রথমেই বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বিদায় হজ্জ’ নামক মুসলমানদের শেষ নবীর জীবন চরিত। এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত ‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। কবিতাটি এরকম-
“বাদশাহ আলমগীর,
কুমারে তাহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া, দেখেন
বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্রে হস্তে নিয়া, ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে…..”

এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে শহীদ তিতুমীর নামক একটি জীবন চরিত। এ প্রবন্ধটিতে তীতুমীরের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ ছিলো। এছাড়া বাদ গেছে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন চরিত।

এর বদলে প্রবেশ করেছে ‘হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা।” এখানে বাংলাদেশী এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম কথা বলা হয়েছে। (যদিও পরবর্তীতে নেপাল সরকার বিষয়টি মুসা ইব্রাহিমের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলো।)
এছাড়া বইটিতে প্রবেশ করানো হয়েছে হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ নামক একটি কবিতা। অনেকেই দাবি করেছেন হুমায়ুন আজাদের বই নামক এই কবিতার মাধ্যমে কৌশলে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআনকে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং বাচ্চাদের শেখানো হয়েছে-তারা যেন ঐ গ্রন্থের দিকে না যায়। যেমন বই কবিতায় হুমায়ুন আজাদ বলেছে-
“যে বই তোমায় দেখায় ভয়
সেগুলো কোন বই-ই নয়
সে বই তুমি পড়বে না।
যে বই তোমায় অন্ধ করে
যে বই তোমায় বন্ধ করে
সে বই তুমি ধরবে না”

উল্লেখ্য মুসলমাদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে পাপ কাজ করলে জাহান্নামের ভয় দেখানো হয়েছে। আবার মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থে অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে। এটাকে বলা হয়েছে ‘অন্ধ’ শব্দ দ্বারা। এছাড়া কোরআনে মুসলিম নারীদের পর্দার জন্য ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এখানে সেটাও ‘বন্ধ’ শব্দ দ্বারা নিয়ে আসা হয়েছে এবং শিশুদের বলা হচ্ছে ঐ গ্রন্থটি না পড়ার জন্য।

(চলবে)

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s