Gallery

নারী-পুরুষের ফ্রি মিক্সিং 2

আমি ছেলে-মেয়ে ফ্রি মিক্সিং এর বিরুদ্ধে। আমি নিজের বুদ্ধিজাত কোনো চেতনার ভিত্তিতে এই মত অবলম্বন করিনি, বরং ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান আছে তার ভিত্তিতে এবং সমাজের বর্তমান দশা দেখেই এমনটি করেছি। অনেকে আপত্তি তুলছে যে ছেলে-মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং তো খারাপ কিছু নয়। নিজে ভালো তো জগত ভালো। কেউ কেউ বলছে যে, ফ্রি মিক্সিং এর মাধ্যমে ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে চিনতে পারছে, জানতে পারছে। ফলে তারা পছন্দমতো বিয়ে করতে পারছে। এবং তারা হ্যাপি আছে।
আগের চেয়ে এখনকার সময় আরেঞ্জ ম্যারিজের হার অনেক কমেছে। যারা ধার্মিক, বোকা ধরণের এবং এক বা একধিকবার ছ্যাকা খেয়েছে তারাই এখন আরেঞ্জ ম্যারিজের ট্র্যাডিশনকে ধরে রেখেছে। সত্যি বলতে আমিও দেখেছি যে ক্লাসমেটদের সাথে অনেকের মধ্যে বিয়ে হয়েছে। তবে তাদের আফ্যেয়ার চলাকালীন সময়ে আমি তাদেরকে বিয়ে করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কেউই তা করেনি। তারা ৫-৬ বছর সম্পর্ক রেখেছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক ভ্যালিড হতে পারে, কিন্তু ইসলামে এধরনের বিবাহপূর্ব সম্পর্কের কোনো ভ্যালিডিটি নেই।
রাসূল (সা) বলেছেন, ‘মানুষ তার সমগ্র ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে জিনা করে। দেখা হচ্ছে চোখের জিনা,ফুঁসলানো কণ্ঠের জিনা, তৃপ্তির সাথে কথা শোনা কানের জিনা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের জিনা, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে পথ চলা পায়ের জিনা, এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি পালিত হয়, তখন লজ্জাস্থান তার পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে’ (বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ)।
যাদের মধ্যে বিবাহপূর্ব ভালোবাসার সম্পর্ক আছে তারা অবশ্যই উল্লিখিত ধরণগুলোর কোনো না কোনো একটি ধরণের যিনায় লিপ্ত।
পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর থেকে ইসলাম নারী-পুরুষদের মেলামেশার ব্যাপারে খুবই স্ট্রিক্ট। কুরআনে এসেছে,
‘হে নবী আপনি আপনার পত্নী গনকে ও কন্যা গনকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগনকে বলুন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবেনা, আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (আল আহযাব, আয়াত-৫৯)
কোনো নারী বা পুরুষকে দেখে অন্তরে কুমন্ত্রণা আসার আশঙ্কা থাকলে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলীকে বললেনঃ “আলী,দ্বিতীয়বার দৃষ্টি দিয়ো না , কারণ প্রথমবার তোমাকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দ্বিতীয়বার নয়। (তিরমিযি, আবু দাউদ; আলবানীর মতে হাসান)
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা) থেকে বর্ণিত, ফযল ইবনে আব্বাস (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট ছিল। এমন সময় খাস’আম গোত্রের এক মহিলা তাঁর কাছে ফতওয়া জিজ্ঞেস করার জন্য আসলেন। ফযল (রা) তার দিকে তাকাল এবং মহিলাও ফযলের দিকে তাকাতে লাগলেন । তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযলের(রা) চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন।
যেসব ভাইয়েরা অবাধে পর্ণগ্রাফি দেখেন, তাদের এই হাদীসগুলো নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখা উচিত। আজকাল দেখা যায় অনেক বোনেরা বোরকা পরে ছেলেদের সাথে অবাধে মেলামেশা করছে, ছেলেদের সাথে হাতাহাতি পর্যন্ত করছে। তাদের চিন্তা করে দেখা উচিত যে, যেই বিষয়টাকে বন্ধ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা শরীরের পর্দা, দৃষ্টির পর্দার বিধান নাযিল করলেন সেটাই যদি বন্ধ না করা হয়, তাহলে আর এই পর্দার প্রয়োজন কী। আসলে কি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পর্দা করছেন, নাকি এতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য মিশ্রিত হয়েছে—তা একটু চিন্তা করে দেখা উচিত।
আপনাদের পছন্দ হোক আর না হোক যারা বিবাহপূর্ব সম্পর্ককে মদদ দেয়, আমি সোজাসাপ্টা কথায় বলতে চাই যে তারা মূলত ব্যাভিচারকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর যারা ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয় তাদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে:
“যারা পছন্দ করে যে ঈমানদারদের মধ্যে বেভিচার প্রসার লাভ করুক,তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি রয়েছে,আল্লাহ্ জানেন ,তোমরা জান না। (সুরা আন নুর-১৯)
তাছাড়া আমাকে কেউ কেউ নোমান আলী খান বা অন্যান্য বিশিষ্ট আলীমদের কথা বলেছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন যে, এই আলিমরা এত জানেন কিন্তু তারা তো এমন ধরণের অবাস্তবসম্মত কথা বলেন না।
নোমান আলী খান যেখানে অবস্থান করেন সেখানে থেকে ‘ফ্রি মিক্সিং বন্ধ করুন’ একথা বলা আর না বলা সমান। তবুও তার মুখ থেকে আমি রিলেশনের ব্যাপারে নেগেটিভ কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন, আপনাদের যদি কাউকে ভালোলাগে তবে তার বাবার কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিন। শুধু শুধু ঝুলিয়ে রাখবেন না।…
তাছাড়া এমন এমন অনেক ঘটনা আমি জানি যেখানে দুজন ছেলে-মেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছে কিন্তু বিয়ের ৫ বছর/১০ বছর/ ১৫ বছর পর পরনারী বা পরপুরুষের আসক্ত হয়ে পড়েছে। এবং এদের অনেকেরই শেষ পরিণতি হয়েছে ডিভোর্স। প্রফেসর ইসমাঈল আবদ’ আল বারি’ কর্তৃক প্রায় ১৫০০ পরিবারের ওপর চালানো অন্য এক জরিপের ফলাফল ছিল এমন যে শতকরা ৭৫ ভাগ “ভালবেসে বিয়ে” এর পরিণতি ছিল ডিভোর্স যেখানে “প্রথাগত বিয়ে” এর ক্ষেত্রে শতকরা ৫ ভাগেরও কম। ( http://shomokalin.com/article/question-affair-that-leads-to-marriage)
আপনারা স্বীকার করুন আর না করুন আমার মতে, ফ্রি মিক্সিং এর মাধ্যমেই আমাদের দেশে জন্ম হচ্ছে অসংখ্য ঐশীদের। লিভ টুগেদার এখন খুবই স্বাভাবিক। স্ত্রীর জায়গায় স্ত্রী থাকছে আর সম্পর্ক গড়ে উঠছে বহু নারীর সঙ্গে।
আমি জানি যে আল্লাহ তায়ালা এমন কিছু সৃষ্টি করেননি যার পুরোটাই খারাপ। ভালো কিছুই নেই। তার মানে আল্লাহ তায়ালা যেসব জিনিসকে হারাম ঘোষণা করেছেন সেগুলোর মধ্যেও কিছু না কিছু কল্যাণ আছে। এর উদাহরণ আমরা কুরআনেও দেখতে পাই। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন:
‘তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। ’ (আল বাকারা, আয়াত-২১৯)
অর্থ মদের মধ্যেও কিছু ভালো আছে, কিন্তু তারপরও এটি হারাম। কারণ কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ বেশি।
ঠিক তেমনিভাবে ফ্রি মিক্সিং এর কিছু ভালো দিক থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু ইসলামে নিষিদ্ধ এর মানে ভালর চেয়ে খারাপ অনেক বেশি। তবে যত যুক্তি বুদ্ধির কথাই বলি না কেন, আমিও হয়তো ফ্রি মিক্সিংকে সাপোর্ট করতাম। যুক্তি দিয়ে তর্ককে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু আল্লাহর হারাম ঘষিত বিধানকে হালাল বলে দেওয়া যাবে না। তর্ককে এগিয়ে নেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়, আমার উদ্দেশ্য শুধু আল্লাহর বিধানটিকে আপনাদের কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া। তাছাড়া একজন সচেতন মানুষ হিসেবেও আমি কখনোই ফ্রি মিক্সিংকে লাইসেন্স দিয়ে দিতে পারি না। কখনোই না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s