Gallery

Trinity বা ত্রিতত্ত্ব কি প্রকৃত ঈশ্বর ধারণা হতে পারে?

Wahabi Kursi

Trinity বা ত্রিতত্ত্ব খ্রিষ্টধর্মের বৈশিষ্ট্য।খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদের মতে, পিতা ঈশ্বর (God the father), পুত্র ইশ্বর (God the son), পবিত্র আত্মা ঈশ্বর (God the spirit)।অর্থ্যাৎ, খ্রিষ্টানগণ বিশ্বাস করেন, একই খোদা সমমর্যাদাসম্পন্ন ও সমশক্তিসম্পন্ন তিনটি রূপের মধ্যদিয়ে প্রকাশ ঘটে – পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা।তাদের মতে,এই তিন ঈশ্বরের প্রত্যেকটি হলো পূর্ণ ও স্বতন্ত্র ঈশ্বর।
তবে এ ধারণাটি নিঃসন্দেহে বাইবেলের সাথে বৈপরীত্য বিধান করে।বাইবেল অনুযায়ী সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সমশক্তিসম্পন্ন ও সমমর্যাদাসম্পন্ন কেউ হতে পারে না।

১/”My father is greater than I”
→আমার পিতা আমার চেয়ে মহান।(যোহন ১৪:২৮)
২/ “My father is greater than all.”
→আমার পিতা সকলের চেয়ে মহান।(যোহন ১৬:২৯)
৩/… “I cast out devils by the sprite of god..
→.আমি সকল মন্দ আত্মাকে তাড়াই ঈশ্বরের শক্তিতে..(মথি ১২:২৮)

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পুত্র এবং আত্মা কেউই ঈশ্বরের সমশক্তিসম্পন্ন নয়।:::

এবার আরেকটি বৈপরীত্য দেখুনঃ ঈশ্বরের পুত্র কয়জন?

১/Job (১:৬, ২:১)- আর একদিন প্রভুর সভায় যোগ দিতে ঈশ্বর “”সন্তানেরা”” এসে উপস্থিত হলেন,…

২/ 1st Epistle of 1John (৫:১)- এতেই আমরা জানতে পারি যে, ঈশ্বরের “”সন্তানদের”” ভালবাসি; যখন ঈশ্বরকে ভালবাসি ও তার আজ্ঞাগুলি পালন করি।

এখানে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে,ঈশ্বরের সন্তানের কথা বলা হয়েছে।এখন যদি ঈশ্বরের সন্তান যদি একের অধিক কমপক্ষে দুই ধরি,তবু এটা (১+২+১)= ৪ হচ্ছে,এখানে ত্রিতত্ত্ব কোথায় পাচ্ছেন? আর পবিত্র আত্মাই বা কয়জন??

ত্রিতত্ত্ববাদ সম্পর্কে বাইবেলে কোনো আয়াত নেই।যা Trinity এর কাছাকাছি ছিল তা খ্রিষ্টান পন্ডিতদের দ্বারা বাতিল ঘোষিত হয়েছে।

কুরআনে ত্রিতত্ত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে- ” তারা নিশ্চয় (যীশুর শিক্ষায়) অবিশ্বাসী,যারা বল,”আল্লহ হলেন তিনের মধ্যে তৃতীয়,অথচ আর কোনো খোদাই নেই একমাত্র আল্লহ ছাড়া।” (৫:৭৪)

বাইবেলে ঈশ্বর সম্পর্কে বলা হয়েছে- “হে ইসরাঈলীরা শোন! আমাদের প্রভু ঈশ্বর একক প্রভু।(মার্ক ১২:২৯)

“কিন্তু সেদিনের ও সেক্ষনের কথা কেউ জানে না,স্বর্গের দূতেরাও জানেনা, পুত্রও জানে না- কেবল পিতাই জানেন।(মার্ক ১৩:৩২)

দেখুন পুত্র যদি ঈশ্বর হয় তবে কি তার কিছু অজানা থাকতে পারে?

আর অলৌকিকভাবে পুরুষের সংস্পর্শ ব্যতীত জন্মলাভ কখনো এটা প্রমাণ করে না যে,যীশু ঈশ্বর ছিলেন।

রুশ বিজ্ঞানী Dr. Ignor Golman বিনাপিতায় জন্মলাভ সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং এরকম জন্মের সম্ভাবনা স্বীকার করেছেন।তাছাড়া (Sunday Pictorial,November 1955) সংখ্যায় প্রকাশিত করে যে,বিজ্ঞানীদের মতে কোন কোন নারীর দেহে এক প্রকার টিউমার হয়ে থাকে,এতে পুরুষের ন্যায় শুক্রকীটের উদ্ভব হয়। কখনো কখনো এই টিউমার থেকে শুক্রকীট বের হয়ে ডিম্বাকোষ প্রবেশ করে এবং কখনো কখনো গর্ভের সঞ্চার করে,তবে এটা বিরল।তাহলে,আমরা দেখতাম পুরুষের হস্তক্ষেপ ব্যতীত গর্ভ সঞ্চার সম্ভব,যীশুর সৃষ্ট রহস্যকে কেন্দ্র করে,তাকে সৃষ্টিকর্তার খেতাব দেওয়া অযৌক্তিক।

Trinity কে অনেক খ্রিষ্টান পানির সাথে তুলনা করে, পানি যেমন কঠিন, তরল এবং বায়বীয় অবস্থায় থাকতে পারে; তেমনি ঈশ্বরও পুত্র এবং পবিত্র আত্মা রুপে থাকতে পারে।

তবে এখানে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার যে,পানি যে অবস্থায় থাকুক না কেন,তাতে মৌলিক উপাদান হিসেবে কিন্তু কেবল H2O হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনই থাকে।কিন্তু ঈশ্বর ও পুত্র কি এক জিনিস? ঈশ্বরকে কেউ দেখি নি,তার আহারের প্রয়োজন নেই অথচ যীশু রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন এবং আহার করতেন।যাই হোক এই পানিতত্ত্বও কিন্তু Trinity কে সমর্থন করলো না।

Trinity এর এ বিষয়টি আসলেই অযৌক্তিক (১+১+১=১??)।অনেক খ্রিষ্টান তখন আবার বলে এটা এমন হবে (১.১.১=১)।আমি এক্ষেত্রে বলতে চাই যে,তাহলে আপনারা এ তত্ত্বকে ত্রিতত্ত্ব বলেন কেন? এখানে তো তিনের কোনো বালাই নাই।আর তাদের দেওয়া (১.১.১=১) এ ইকুশেয়নকে তাহলে আর Trinity বলা যায় না,একে তাহলে বহুঈশ্বরনীতি বলতে হয় কারণ (১.১.১.১.১.১.১.১.১…….œঅসীম=১)।

যাই হোক আমরা এটুকু বুঝতে সক্ষম যে,Trinity প্রকৃত ঈশ্বর ধারণা আনতে ব্যর্থ। যীশু খ্রিষ্ট তথা ঈসা ইবনে মরিয়ম ছিলেন আল্লহ প্রেরিত রাসূল; যিনি অলৌকিক ভাবে কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ব্যতীত জন্মলাভ করেন,যিনি আল্লহর ইচ্ছায় অনেক অলৌকিকত্ব দেখিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s