Gallery

সুস্থ সমালোচনা অসুস্থ সমালোচনা.

আলহামদু লিআহলিহী ওয়াস সলাতু
লিআহলিহা।
নিজের সমালোচনা এমনই একটি বিষয়
যা কখনো কেউ পছন্দ করে না। উঁচু দরের
মানুষ হলে বেশীর বেশী হজম করতে পারে।
আর যদি অনেক উঁচু দরের মানুষ হন
তবে সমালোচনা থেকে নিজের
দোষত্রুটি বের
করে তা সংশোধনে মনযোগী হন। কিন্তু
সাধারণভাবে মানুষের সবচে অপ্রিয় বিষয়ের
একটি হল অন্যের মুখে নিজের সমালোচনা।
পক্ষান্তরে মানুষের নিকট সবচেয়ে শ্রুতিমধুর
বিষয় হলো অন্যের সমালোচনা।
আপনি খ্যাতি অর্জন
করতে চাইলে সমালোচনা করুন; বহু মানুষ
পেয়ে যাবেন আপনার দলে যোগ দেওয়ার
জন্য। দেখবেন যে পত্রিকা সব সরকারের
সমালোচনা করতে পারে তাদের কাটতি সব
সময় বেশী। এটা আমাদের সমাজের
একটি বৈশিষ্ট হয়ে দাড়িয়েছে।
তবে একটি সুস্থ সমাজের জন্য সুস্থ
সমালোচনাও অত্যান্ত জরুরী। একই
সাথে অসুস্থ সমালোচনা সমাজের
মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও দলাদলি সৃষ্টির
অন্যতম কারণ। তাই অন্যায় সকল কাজের
মতো আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তা’আলা সমালোচনার ক্ষেত্রেও সত্য
ও ন্যায়বান হওয়ার আদেশ দিয়েছেন
এবং অন্যায় ও অবিচার থেকে বিরত
থাকতে বলেছেন। তিনি তার সকল
নবীদেরকেকে পাঠিয়েছেন মানুষকে তাঁর
এককত্বের দিকে আহবান করে তাওহীদের
পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করতে। তিনি নিষিদ্ধ
করেছেন বিদ’আহ, মুসলিমদের মধ্যে হিংসা-
বিদ্বেষ, দলাদলি করা, দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ
ও গীবত করা।
অত্যন্ত দুখজনক হলেও সত্য যে আজকাল
যারা ইসলামের দাওয়াহর কাজ করেন,
নিজেদেরকে স্কলার, স্টুডেন্ট অফ নলেজ
বা তালিবুল ইলম মনে করেন তাদের
মাঝে ফেলো দা’ঈ, স্টুডেন্ট অফ নলেজ ও
তালিবুল ইলমদের ভুল-ত্রুটি, ও
দুর্বলতা নিয়ে, প্রকাশ্যে ও
গোপনে আলোচনা সমালোচনার এক
ভয়াবহ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে।অনেক সময়
তারা পরস্পরের ভুল-ত্রুটির অডিও-ভিডিও
মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে হেয়
প্রতিপন্ন করেন। অথচ যে ইসলামের দাওয়াত
তারা দিয়ে থাকেন সেই ইসলামের মূলনীতির
সাথে একাজ অনেক দিক থেকেই সাংঘর্ষিক।
যেমনঃ
১। এর দ্বারা একজন মুসলিমের অধিকার
ক্ষুণ্ণ করা হয়, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
আর এক্ষেত্রে যাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ
করা হয় তারা সাধারণ শ্রেণির মানুষও নন;
বরং তারা হলেন মুসলিম সমাজের সেই সকল
জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি যারা মানুষের
মাঝে দ্বীনী জ্ঞানের আলো বিতরণে,
মানুষের আকীদা-বিশ্বাস ও আমল-আখলাক
সংশোধনের কাজে সাধ্য
অনুযায়ী চেষ্টা করেন। অতএব
তারা হলে সমাজের সম্মানিত শ্রেণীর মানুষ।
২। এর দ্বারা মুসলিমদের মাঝে দলাদলি ও
অনৈক্যের বীজ বপন করা হয়, অথচ উম্মাহর
জন্য ঐক্য এক অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়;
বিশেষ করে উম্মাহর এই সঙ্গকটময় মুহুর্তে।
তাছাড়া যারা দ্বীনের প্রচারে নিয়োজিত
তাদের গীবত করে ও
দোষত্রুটি প্রকাশ্যে সমালোচনার
মাধ্যমে তাদের ছোট করার মধ্যে একমাত্র
ইসলামের শত্রু, কাফির মুশরিক ও
মুনাফিকদেরই স্বার্থ থাকতে পারে। অতএব
মু’মিনদের মধ্য থেকে ভুলক্রমে কেউ একাজ
করে ফেললে তার উচিত একাজ থেকে বিরত
থাকা এবং যেভাবে জনসমক্ষে সমালোচনা
করেছে সেইভাবে জনসমক্ষে ক্ষমাপ্রার্থনা
করে।
৩। এ কাজ দ্বারা ইসলাম বিদ্বেষী,
পাশ্চাত্যমনা, ধর্মনিরপেক্ষ নাস্তিকদেরই
উপকার হয়। এরা এর দ্বারা নানা রকম গুজব
ছড়িয়ে সমাজে ইসলামের দা’ঈদেরকে হেয়
প্রতিপন্ন করে ইসলামের
দাওয়াতী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার
সুযোগ পায়। অথচ ইসলামী ভ্রাত্রিত্ববোধ
কখনো ইসলামবিরোধীদেরকে মুসলিমদের
বিরুদ্ধে কোনো সুযোগ
তৈরি করে দেওয়াকে সমর্থন করে না।
৪। এর দ্বারা সাধারণ শ্রেণির
মানুষেরা নানা রকম গুজব, গীবত ও
নামীমাহ্মুলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
দুর্বলচিত্ত ও স্বল্প জ্ঞানী মানুষদের জন্য
শয়তানের দ্বার খুলে যায়। তারা দা’ঈদের
প্রতি আস্থা হারায়; যার অনিবার্য
পরিণতি হলো ইসলাম
থেকে দূরে সরে যাওয়া।
৫। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়,
যে বিষয়টাকে কেন্দ্র
করে কারো সমালোচনা করা হয় তা হয়
মিথ্যা, না হয় অর্ধ-মিথ্যা, না হয় অনুমান,
না হয় ভুল পর্যবেক্ষণ,
কিংবা একচোখা দর্শন, যা মুলত শয়তানের
উসকে দেওয়া। অথচ আল্লাহ আল্লাহ
তা’আলা বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা,
তোমরা বেশী বেশী অনুমান করা থেকে বিরত
থাকো; কেননা কিছু অনুমান
হলো পাপাচার’।(সূরা আল হুজুরাত আয়াত
১২)।
একজন মু’মিনের কোনো কথার যতোক্ষণ
পর্যন্ত ভালো কোনো ব্যখ্যা দাড়
করানো যায় ততোক্ষণ পর্যন্ত কিছুতেই
উচিত নয় তার কথার কোনো খারাপ অর্থ
খুঁজে বের করা।
৬। কোনো স্কলার যদি কোনো ইজতেহাদ
করেন সেটা কোনো দোষের বিষয় নয়
যদি তিনি তার যোগ্য হয়ে থাকেন। যদি তার
ইজতেহাদের কেউ বিরোধিতা করেন, তারাও
তা করতে পারেন, যদি তার ইজতেহাদকে ভুল
মনে করেন। কিন্তু সর্বাবস্থায়
তা করতে হবে দ্বীনী মেজাজ ও
ভদ্রতা বজায়
রেখে এবং আন্তরিকভাবে সত্যান্বেষণের
মানসিকতা রেখে।
৭। যদি কারো কোনো কাজ সুস্পষ্টভাবেই
ভুল প্রমাণিত হয় তবে প্রথমে তাকে তার
ভুল সংশোধনের জন্য একাকিত্বে উপদেশ
দিতে হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়
যে বিষয়টিকে জনসাধারণের দ্বীনী কল্যাণের
জন্য প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে হবে,
সেক্ষেত্রেও তা করতে হবে সম্ভাব্য
সর্বোচ্চ বিনয়ের সাথে। ব্যক্তিগত
আক্রমন, কটাক্ষ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল
না করে এবং কারো নিয়তের উপর
হামলা না করে। আল্লাহ
তা’আলা বলেছেনঃ ‘হে ঈমানদাররা,
কোনো সম্প্রদায় যেন অপর
সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস
না করে; হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের
চেয়ে উত্তম’। (আল হুজুরাত, আয়াতঃ ১১)
যে যারা দা’ঈদের অকারণ সমালোচনা করেন
আমি তাদেরকে বলবো তাওবা করতে। আর
যদি সত্যিই আপনি ভালো মুসলিম এবং তাঁর
শুভাকাংখী হন তাহলে একটু সময় করে তার
সাথে গিয়ে সাক্ষাত করুন। কিছু
হাদিয়া তোহ্ফা দিন; তারপর আন্তরিকতার
সাথে তাকে বুঝিয় বলুন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই
ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমীন!!!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s