Gallery

ব্যভিচারের শাস্তি কি? রজম কি কুরআন বিরোধী শাস্তি? Part 1

images (2).jpg

ব্যভিচার (Fornication) হল দুজন অবিবাহিত(নারী-পুরুষ) বা অবিবাহযোগ্য (রক্তসম্পর্ক বা সমলিঙ্গ , রক্তসম্পর্কীয় যৌনতা অজাচারের অন্তর্ভূক্ত) ব্যক্তির মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত সংঘটিত যৌনকর্ম।
Fornication is generally consensual sexual intercourse between two people not married to each other.(Wikipedia)

ইসলামে ব্যভিচার একটি জঘন্য অপরাধ। হত্যার পরই এটি সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। আল্লহ ইহকালে এবং পরকালে উভয় সময়ই এর শাস্তির কথা বলেছেন।তবে তাওবাকারীর কথা ভিন্ন।
সূরা ফুরকান (৬৭-৭০) ” এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যা হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত
তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।
ﻳُﻀَﺎﻋَﻒْ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻭَﻳَﺨْﻠُﺪْ ﻓِﻴﻪِ ﻣُﻬَﺎﻧًﺎ
কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে।
ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺁﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻬِﻢْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺕٍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ

কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ﻭَﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺘَﺎﺑًﺎ
আল্লহ ইহকালের শাস্তির কথা বলছেন এবং আবার বলছেন পরকালে দ্বিগুণ শাস্তির কথা বলছেন।আবার যে তাওবা করছে তাকে ক্ষমা করার কথাও বলছেন।নিশ্চয় তিিন অত্যন্ত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল।

ব্যভিচারের শাস্তি কখন হয় এ বিষয় নিয়ে আগে বলিঃ
ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﺍْ ﺍﻟﺰِّﻧَﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ
ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀ ﺳَﺒِﻴﻼً
আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।(সূরা নূর ২)

★ ব্যভিচার করলে যদি তা গোপন থাকে তাহলে এক্ষেত্রে তার জন্য তওবা করায় যথেস্ট।

(১)
ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺁﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻬِﻢْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺕٍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ

কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সূরা ফুরকান ৬৯)

ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺗَﺎﺑُﻮﺍ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِ ﺫَﻟِﻚَ
ﻭَﺃَﺻْﻠَﺤُﻮﺍ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻏَﻔُﻮﺭٌ
ﺭَّﺣِﻴﻢٌ
কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।(সূরা নূর ৫)

“”কেউ যদি ব্যভিচার করে এবং আল্লহ তালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লহ তার গোনাহ মাফ করে দিবেন।আল্লহ শিরক যদি ক্ষমা করেন,তাহলে ব্যভিচার কেন ক্ষমা করবেন না?””

মূল বক্তব্যে হলো অপ্রকাশিত এবং অপ্রমাণিত ব্যভিচারের জন্য কোনো শাস্তি নেই। যদি ব্যভিচার গোপন থাকে এবং ব্যভিচারী তাওবা করে তাহলে হয়তো সে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।কিন্তু যদি প্রমাণিত হয় তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।সমাজে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে-” চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ো ধরা”।এখানেও বিষয়টা অনেকটা ঐরকমই।অপ্রকাশিত এবং অপ্রমাণিত ব্যভিচারের কোনো শাস্তি নেই।

নিচের হাদিসটি দেখুনঃ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন- তোমরা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকো যা আল্লহ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।এরপরও যে শয়তানের পড়ে তা করে ফেলে সে যেন তা লুকিয়ে রাখে। যখন আল্লহ তা গোপনই রেখেছেন।তবে সে যেন এ জন্য আল্লহ তালার নিকট তাওবা করে নেয়। কারণ যে ব্যক্তি তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে তার উপর আমরা অবশ্যই আল্লহ তালার বিধান প্রয়োগ করবো। (হাকিম ৪/২৭২)

দেখেছেন নবী সাঃ কি বললেন? যদি কেউ ব্যভিচার করে যে যেন তা গোপন রাখে।আর আল্লহর কাছে যেন তাওবা করে; এটাই যথেষ্ট।কিন্তু যদি তা প্রকাশিত হয় তবে তার উপর আল্লহর বিধান প্রয়োগ করা হবে। সুতরাং শাস্তি কেবল প্রকাশিত ব্যভিচারের জন্য।আর নবী সাঃ ব্যভিচারকে গোপন রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং শাস্তি দেওয়াটাই অপছন্দ করেছেন।

যেমন হযরত মায়িয বিন মালিক রাঃ যখন রাসূল সাঃ এর নিকট বার বার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করছিলেন তখন রাসূল তার প্রতি এতটুকুও ভ্রুক্ষেপ করেন নি।চার বারের পর তিনি তাকে এও বলেনঃ হয়তো বা তুমি তাকে চুমু দিয়েছো, ধরেছো কিংবা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করেছো।কারণ এতে করে তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে আল্লহ তা’আলার নিকট খাঁটি তওবা করার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যভিচারের জন্য তওবা করায় যথেষ্ট। তবে যদি ব্যভিচার করার কথা প্রকাশিত হয়ে পড়ে তাহলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।এর অনেকগুলো কারণ রয়েছেঃ

আমরা জানি,নামায পড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ফরয।তবে কেউ যদি নামায না পড়ে তাহলে এতে সে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে,কিন্তু এতে অন্যের কিংবা সমাজের কোনো ক্ষতি হয় না।কিন্তু ব্যভিচার এমন একটি পাপ যা একা হয় না; অন্যে আর একজন পুরুষ কিংবা নারীর প্রয়োজন হয়।সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। ডিভোর্স বৃদ্ধি পায়, সমাজে মর্যাদার হ্রাস ঘটে।বিভিন্ন যৌন রোগ সৃষ্টি হয়।যেমন- সিফিলিস, গনোরিয়া,এইডস ইত্যাদি।এবং ব্যভিচারের প্রসারের ফলে এগুলো মহামারী আকার ধারণ করে।তাই ব্যভিচার বন্ধের জন্য দৃষান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন।কারণ যদি কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে এটা ব্যপকভাবে প্রসার পেত।তাই ব্যভিচারীর শাস্তির প্রয়োজন।

আমরা জানলাম ব্যভিচারের শাস্তি কখন হয় এবং কেন শাস্তি হওয়া উচিত।এবার ব্যখিচারের শাস্তি কি তা জানতে হবে।

১)বিবাহিতদের ব্যভিচারের শাস্তি প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।
২)অবিবাহিতদের ব্যভিচারের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত।

তার আগে ব্যভিচারের শাস্তির পূর্বশর্ত আগে জেনে নিঃ

আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী কোন শাস্তি প্রয়োগ করা সবচেয়ে কঠিন? আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলব ব্যভিচারীর শাস্তি।
ব্যভিচার প্রমাণ করতে চার জন সাক্ষী আনতে হবে।

ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺮْﻣُﻮﻥَ ﺍﻟْﻤُﺤْﺼَﻨَﺎﺕِ
ﺛُﻢَّ ﻟَﻢْ ﻳَﺄْﺗُﻮﺍ ﺑِﺄَﺭْﺑَﻌَﺔِ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀ
ﻓَﺎﺟْﻠِﺪُﻭﻫُﻢْ ﺛَﻤَﺎﻧِﻴﻦَ ﺟَﻠْﺪَﺓً ﻭَﻟَﺎ
ﺗَﻘْﺒَﻠُﻮﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﺷَﻬَﺎﺩَﺓً ﺃَﺑَﺪًﺍ
ﻭَﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻔَﺎﺳِﻘُﻮﻥَ
যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না,তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত
করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।(সূরা নূর ৪)

ব্যভিচার প্রমাণ করতে হলে চার জন সাক্ষী লাগবে।যদি না আনতে পারে তাহলে তাকে ৮০ টা বেত্রাঘাত করতে হবে।

নিচের হাদিসটা দেখুনঃ
“(৪৩৮৮-বুখারী) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।হিলাল ইবনু
উমাইয়া রাসুলুল্লাহ এর কাছে শারিক ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর ব্যভিচারের অভিযোগ করল।নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, সাক্ষী (হাযির কর) নতুবা শাস্তি তোমার
পিঠে পরবে। হিলাল বলল,ইয়া রাসুলুল্লাহ! যখন
আমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য
কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন,সাক্ষী নতুবা শাস্তি
তোমার পিঠে। হিলাল বললেন, শপথ সে সত্তার,
যিনি আপনাকে সত্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে পাঠিয়েছেন,নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা এমন বিধান
অবতীর্ণ করবেন, যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিবেন। তারপর জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করা হল-
“যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে”থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন,“যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে” পর্যন্ত। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে [১] ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন।।হিলাল
এসে সাক্ষী দিলেন [২] আর রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আল্লাহ।তা’আলা তো জানেন যে তোমাদের দুজনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাবাদী।
তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে?
স্ত্রীলোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাঁধা দিল এবং বলল , নিশ্চয়ই এটি তোমার উপর
অবশ্যম্ভাবী। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন,
একথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল।এমন কি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চয়ই প্রত্যাবর্তন করবে।
পরে সে বলে উঠল,আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করবনা।সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল।[৩] নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ।যদি সে কালো, ডাগর চক্ষু,বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট
সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারিক ইবনু
সাহমার। পরে সে অনুরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, যদি এ।বিষয়ে আল্লাহর কিতাব
কার্যকর না হত,তাহলে অবশ্যই আমার ও তার
মধ্যে কি ব্যপার যে ঘটত। ১/খাওলা। ২/ আনিত
অভিযোগেরসত্যতা সম্পর্কে শপথ
করলেন। ৩/ পঞ্চম বার শপথ করল।

মহানবী সাঃ সাক্ষী ছাড়া কোনরকম সিদ্ধান্ত দিলেন না।আর সাহাবীর প্রশ্নও অনেক যুক্তিযুক্ত যে, আমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য
কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তবুও কিন্তু বললেন, সাক্ষী নতুবা শাস্তি
তোমার পিঠে।

এবার যুক্তিতে আসি…
মানুষ যখন ব্যভিচার করে সাধারণতই তা গোপনে করে।এখন এ অবস্থায় দুইজন ব্যভিচার করছে এবং তাদের চারজন ব্যভিচার করতে দেখবে এটা প্রায় অসম্ভব। তাদের দুই একজন দেখতে পারে এটা স্বাভাবিক কিন্তু পরপর চারজন দেখবে এটা প্রায় অসম্ভব। আর যদি প্রমাণ করতে না পারে তাহলে তো ৮০ বেত্রাঘাতেরও ব্যাপার আছে।হযরত উমর (রাঃ)ও ব্যভিচার করতে দেখেছিলেন এবং তিনি তখন খলিফা ছিলেন; ইচ্ছা করলে শাস্তি দিতে পারতেন কিন্তু সাক্ষীর অভাবে তা সম্ভব হয় নি। তাই বলেছিলাম ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া অসম্ভব একটা ব্যাপার।

তাহলে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, নবী (সাঃ) তাহলে কিভাবে ব্যভিচারের শাস্তি দিয়েছেন? আচ্ছা, আপনি ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া নিয়ে যতগুলো হাদিস আছে লক্ষ্য করে দেখবেন প্রত্যেকে যারা ব্যভিচার করেছে সকলে নিজে এসে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা ব্যভিচার করেছে।তারপরও নবী (সাঃ) তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।কিন্তু তাদের বারবার স্বীকারোক্তির কারণে শাস্তি দিয়েছেন। মায়িয বিন মালিক রাঃ এর ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া তার স্পষ্ট প্রমাণ।মুসলিম স্কলাররা বলেন, ইসলামের যুগে কোনো ব্যভিচারের শাস্তি সাক্ষীর ভিত্তিতে হয় নি,সব হয়েছে মৌখিক স্বীকারোক্তিতে।

সাহাবীদের যুগে এবং তার পরবর্তী যুগের মানুষেরা অধিক তাকওয়াবান ছিলেন।যেহেতু পৃথিবীর শাস্তি তার পাপের কাফফারা হয়ে যায় তাই তারা পাপের কথা স্বীকার করে নিজেদের পবিত্র করেছে।কিন্তু বর্তমানে এমনকি কোনো মানুষ পাওয়া যাবে যে অবশ্যম্ভাবী এমন শাস্তির কথা জেনেও তার পাপের স্বীকারোক্তি দিবে?

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া খুবই কঠিন কাজ।

এবার আমরা ব্যভিচারের শাস্তি কি তা জানবঃ

১) অবিবাহিত নারী পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি একশ বেত্রাঘাত (সূরা নূর২) এবং হাদিস অনুসারে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন।(বুখারী, মুসলিম)

এ বিষয় নিয়ে কারো মতভেদ নেই বলে আমার মনে হয়। তবে বিবাহিতদের ব্যভিচারের শাস্তি নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে।তারা কুরআন এবং হাদিস থেকে কিছু ব্যাখ্যা দেয়,তাদের দাবি যৌক্তিক।তবে আশা করি নিচের আলোচনায় এ সম্পর্কে আপনার অনেকটা পরিষ্কার ধারণা দিতে পারব।

হাদিস অনুসারে বিবাহিতদের ব্যভিচারের শাস্তি রজম অর্থ্যাৎ প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।সহীহ বুখারী,মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এ হাদিসগুলো পাবেন।তাই এটা কোনো দ্বিধা ছাড়ায় মেনে নিচ্ছি।রজমের বিধান কার্যকর নেই যারা দাবি করেছে তাদের যুক্তি খন্ডন করার চেষ্টা করব।আমি কারো সমালোচনা করছি না।সবাইকে সম্মান করি।কেবল আমার মতামত দিব।পর্যায়ক্রমে যুক্তিখন্ডন করার চেষ্টা করব।ইনশাআল্লহ।

(১ নং প্রশ্নঃ) কুরআনে নূরের ২ নং আয়াতে বেত্রাঘাতের কথা আছে।আর সেখানে অবিবাহিত ব্যভিচারী বলাও নেই?

ﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻴَﺔُ ﻭَﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻲ ﻓَﺎﺟْﻠِﺪُﻭﺍ
ﻛُﻞَّ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِّﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣِﺌَﺔَ ﺟَﻠْﺪَﺓٍ
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﺧُﺬْﻛُﻢ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﺭَﺃْﻓَﺔٌ ﻓِﻲ
ﺩِﻳﻦِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ﻭَﻟْﻴَﺸْﻬَﺪْ
ﻋَﺬَﺍﺑَﻬُﻤَﺎ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻣِّﻦَ
ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ
ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ;তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর
বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়,যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক।মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের
শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।(সূরা নূর ২)

(Sahih International) The [unmarried]
woman or [unmarried] man found guilty
of sexual intercourse – lash each one of
them with a hundred lashes, and do not
be taken by pity for them in the religion
of Allah , if you should believe in Allah
and the Last Day. And let a group of the
believers witness their punishment.

Sahih Iinternational এখানে অর্থ unmarried করেছে তবে অন্যান্যরা ব্যভিচারীই রেখেছে।এখন আপনি বলবেন যে, এটা কিন্তু পরিষ্কার না যে, এটা বিবাহিতদের জন্য না অবিবাহিতদের জন্য।জ্বি আপনার কথা সঠিক এখানে স্পষ্ট না।তবে যেহেতু হাদিসে আছে অবিবাহিতদের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।এখানে তাহলে আপনাকে অর্থ অবিবাহিতই করতে হবে।এতে কুরআন এবং হাদিসের প্রকৃত সমন্বয় হবে।

আচ্ছা আরেকটা বিষয় এ আয়াতটি সকল ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না।কারণ আল্লহ সূরা নিসার ২৪ নং আয়াতে দাসী ব্যভিচারীর শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক করে দিয়েছেন।তাই উক্ত আয়াত দ্বারা যদি বলেন সকল ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত তাহলে কি বলবেন দাসীর শাস্তিও ১০০ বেত্রাঘাত? নিশ্চয় না।

(২নং প্রশ্নঃ) সূরা নিসার ২৫ নম্বর আয়াতে বিবাহিত দাসীর শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক বলা হচ্ছে।কিন্তু রজমের অর্ধেক হয় কীভাবে?

আল্লাহপাক বলেছেন-
ﻭَﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻊْ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻃَﻮْﻟًﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻜِﺢَ ﺍﻟْﻤُﺤْﺼَﻨَﺎﺕِ
ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﻓَﻤِﻦْ ﻣَﺎ ﻣَﻠَﻜَﺖْ ﺃَﻳْﻤَﺎﻧُﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﻓَﺘَﻴَﺎﺗِﻜُﻢُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﺈِﻳﻤَﺎﻧِﻜُﻢْ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺾٍ ﻓَﺎﻧْﻜِﺤُﻮﻫُﻦَّ ﺑِﺈِﺫْﻥِ
ﺃَﻫْﻠِﻬِﻦَّ ﻭَﺁَﺗُﻮﻫُﻦَّ ﺃُﺟُﻮﺭَﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ ﻣُﺤْﺼَﻨَﺎﺕٍ ﻏَﻴْﺮَ
ﻣُﺴَﺎﻓِﺤَﺎﺕٍ ﻭَﻟَﺎ ﻣُﺘَّﺨِﺬَﺍﺕِ ﺃَﺧْﺪَﺍﻥٍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃُﺣْﺼِﻦَّ ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﺗَﻴْﻦَ
ﺑِﻔَﺎﺣِﺸَﺔٍ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻬِﻦَّ ﻧِﺼْﻒُ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺤْﺼَﻨَﺎﺕِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏِ
ﺫَﻟِﻚَ ﻟِﻤَﻦْ ﺧَﺸِﻲَ ﺍﻟْﻌَﻨَﺖَ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﺼْﺒِﺮُﻭﺍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜُﻢْ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ (25 )

“তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন ও ঈমানদার নারী বিয়ে করার মত আর্থিক সঙ্গতি রাখে না,তারা নিজেদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার ক্রীতদাসীদের
বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে বেশী জানেন।তোমরা একে অপরের সমান।
সুতরাং তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের মালিকের অনুমতি নিয়ে।তারা ব্যভিচারী অথবা উপপতি গ্রহণকারিণী না হয়ে সতী-সাধ্বী হয়ে থাকলে তাদের মোহরানা ন্যায় সঙ্গতভাবে দেবে। বিয়ের পর তারা যদি ব্যভিচার করে,তবে তাদের শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক । এ ধরনের বিয়ে তাদের জন্যেই,যারা স্ত্রী না থাকার কারণে পাপে লিপ্ত
হতে পারে বলে ভয় করে। কিন্তু ধৈর্য ধরা ও স্বাধীন নারীদের বিয়ে করাই তোমাদের জন্য উত্তম।আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।” (৪:২৫)

(Sahih International) And whoever among you cannot [find] the means to marry free, believing women, then [he may marry] from those whom your right
hands possess of believing slave girls.
And Allah is most knowing about your
faith. You [believers] are of one another.
So marry them with the permission of
their people and give them their due
compensation according to what is
acceptable. [They should be] chaste,
neither [of] those who commit unlawful
intercourse randomly nor those who take [secret] lovers. But once they are
sheltered in marriage, if they should
commit adultery, then for them is half
the punishment for free [unmarried]
women. This [allowance] is for him
among you who fears sin, but to be
patient is better for you. And Allah is
Forgiving and Merciful.

Sahih International এ কিন্তু স্বাধিন নারীর অর্থ অবিবাহিত করা হয়েছে।

(Mohsin Khan) And whoever of you have
not the means wherewith to wed free,
believing women, they may wed
believing girls from among those
(captives and slaves) whom your right
hands possess, and Allah has full
knowledge about your Faith, you are one
from another. Wed them with the
permission of their own folk (guardians,
Auliya’ or masters) and give them their
Mahr according to what is reasonable;
they (the above said captive and slave-
girls) should be chaste, not adulterous,
nor taking boy-friends. And after they
have been taken in wedlock, if they
commit illegal sexual intercourse, their
punishment is half that for free (unmarried) women. This is for him
among you who is afraid of being
harmed in his religion or in his body;
but it is better for you that you practise
self restraint, and Allah is oft forgiving,
Most Merciful.
এখানেও অবিবাহিত করা হয়েছে।বাকিগুলোতে কেবল free women করা হয়েছে।

http://corpus.quran.com/translation.jsp?chapter=4&verse=25

আর এখানে স্বাধীন নারী(4:25:44)l muḥ’ṣanāti এর অর্থ the free chaste women (refraining from sexual intercourse that is regarded as contrary to morality or religion; virtuous /virgin) করা হয়েছে।কোথাও এর অর্থ বিবাহিত দেখলাম না।আপনি প্রতি word এর অর্থ বিস্তারিতভাবে এখানে দেখতে পারেন।

http://corpus.quran.com/wordbyword.jsp?chapter=4&verse=25#(4:25:1)

এখানে দাসী বিবাহিত কিন্তু স্বাধীন নারী বিবাহিত নয়।যদি স্বাধীন নারী অবিবাহিতই হয় তাহলে দাসীর শাস্তি হবে ১০০/২=৫০ বেত্রাঘাত।এখানে স্বাধীন নারী মানে বিবাহিত যদি না হয় তাহলে তো রজমের প্রশ্নই আসে না।আর রজমের অর্ধেক করার কথা তো দূরেই থাক।

হাদিস দেখুনঃ
মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-২৫৯৬
আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়্যাস ইবনে আবি রবিয়া মাখযুমী (রা) বলেন: উমর ইবনে খাত্তাব (রা)
আমাকে এবং আরও কতিপয় কুরাইশী যুবককে ব্যভিচারের দায়ে প্রহার করতে আদেশ দিলে আমরা ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে বায়তুল মালের
দাসীদিগকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ বেত্রাঘাত করতাম।

এবার আমি জোর দিয়েই বলছি এখানে স্বাধীন নারী অর্থ হলো অবিবাহিত নারী।কারণ এ আয়াতের পূর্বের অংশটাই তার প্রমাণঃ

“তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন ও ঈমানদার নারী (free,believing women) বিয়ে করার মত আর্থিক সঙ্গতি রাখে না,তারা নিজেদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার ক্রীতদাসীদের
বিয়ে করবে।

দেখুন ভালো করে- স্বাধীন ও ঈমানদার (free,
believing women) কে বিবাহ করতে বলা হচ্ছে।এখন যদি স্বাধীন নারী বিবাহিত হয় ; তাহলে কি বলবেন কুরআন বিবাহিত নারীকে আবার বিবাহ করতে বলছে?কিন্তু এ কি আদৌ সম্ভব! স্বাধীন নারী বলতে এখানে নিঃসন্দেহে অবিবাহিত নারীকে বুঝিয়েছে।কুরআন তো বিবাহিত নারীদের পুনরায় বিবাহ করতে বলবে না।সুতরাং এখানে স্বাধীন নারী বলতে অবিবাহিত নারীকে বোঝাচ্ছে।

তারপরও যদি আপনি মনে করেন ;না এখানে স্বাধীন নারী বলতে বিবাহিত নারীই বুঝিয়েছে তাহলেও একটা যুক্তি হয়তো দেয়া সম্ভব।

হাদিস অনুসারে অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি কিন্তু কেবল বেত্রাঘাত নয়, তার সাথে এক বছরের নির্বাসনও কিন্তু আছে।

সহীহ বুখারী ২৪৭৩- ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র
(রহঃ) যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিবাহিত ব্যভিচারী সম্পর্কে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসনের নির্দেশদিয়েছেন।

আবার বিবাহিতদের শাস্তি কিন্তু শুধু রজম নয় বরং রজমের পূর্বে ১০০ বেত্রাঘাতের বিধানও আছে।

“ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া তামীমী (রঃ) রেওয়ায়েত করেছেন, উবাদাহ ইবনে ছামেত বলেন, রাসূল পাক এরশাদ করেছেন, তোমরা আমার নিকট হতে গ্রহণ কর।তোমরা আমার নিকট হতে গ্রহণ কর। তোমরা আমার নিকট
হতে গ্রহণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক নারীদের জন্য একটি পথ বের করে দিয়েছেন। কোনো অবিবাহিত পুরুষ কোনো অবিবাহিতা নারীর
সাথে ব্যভিচার করলে একশ করে বেত্রাঘাত মার এবং এক বছরের জন্য দেশত্যাগী কর। আর
বিবাহিত পুরুষ কোনো বিবাহিতা নারীর
সাথে ব্যভিচার করলে তাঁদেরকে প্রথমে একশ
করে বেত্রাঘাত করে, তারপর প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা কর।”(সহি মুসলিম ৪২৬৯)

তবে বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন, যদি ব্যভিচারী বিবাহিত হয় এক্ষেত্রে কেবল রজম করালেই হবে।কারণ অনেক হাদিস আছে সেখানে কেবল রজমের কথা আছে।তবে ইমাম আহমদ বলেছেন, বেত্রাঘাত এবং রজম দুইটায় করতে হবে।এতে আল্লহর কিতাব এবং নবীর সুন্নাত উভয়ের উপর আমল হবে।রজম করানো হচ্ছে নবীর সুন্নাত।অনেকটা দাঁড়ি রাখার মতো।তবে রজম করানো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত কারণ হযরত উমর রাঃ কিন্তু রজম অস্বীকার কারীদের পথভ্রষ্ট বলেছেন।

যাই হোক মূল কথায় আসি।অবিবাহিতদের শাস্তির বিধান বেত্রাঘাত এবং নির্বাসন আর বিবাহিতদের বেত্রাঘাত এবং রজমের বিধান রয়েছে।

এবার ৪:২৫ আয়াতে স্বাধীন নারী যেহেতু অবিবাহিত সেহেতু দাসীর শাস্তি ১০০/২= ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১/২=৬ মাসের নির্বাসন হওয়া উচিত ছিল।কিন্তু হাদিস থেকে দেখতে পারছি দাসীদের কেবল বেত্রাঘাত করা হয়েছে;কোনো নির্বাসন দেওয়া হয় নি।এমনকি ২য় কিংবা ৩য় ব্যভিচারেরও না।শুধু বেত্রাঘাত করা হয়েছে।আর ৪র্থ বেত্রাঘাতে তো বিক্রি করে দেবার কথা আছে।

দেখুনঃ সুনানে নাসাঈর মধ্যে আছে এবং সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের উপরে রয়েছে যে,হযরত ইবাদ ইবনে তামীম (রঃ) তার চাচা বদরী সাহাবী হতে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যখন দাসী ব্যভিচার করে তখন তাকে চাবুক মার, আবার করে তো আবার মার,পুনরায় ব্যভিচার করলে পুনরায় চাবুক মার,অত;পর তাকে বিক্রয় করে ফেল, যদি তার মুল্য একটি রশির তুল্যও হয়।

দাসীর ক্ষেত্রে চাবুক মারা ছাড়া অন্য কোন বিধান নেই,তাকে নির্বাসনও দেওয়া যাবে না।বার বার ব্যভিচারের শাস্তি চাবুক মারা আর অবশেষে তো বিক্রি করার কথা বলা হচ্ছে।বিজ্ঞদের মতও হলো এটাই যে, দাসীর ক্ষেত্রে চাবুক মারা ছাড়া অন্য কোন হাদ্দ জারি হবে না।

এখন স্বাধীন নারী যদি বিবাহিত হয় এবং আমরা পূর্বে জেনেছি তাদের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং রজম।সুতরাং যেহেতু অবিবাহিত স্বাধীন নারীর ক্ষেত্রে ১বছরের নির্বাসনের শাস্তির অর্ধেক দাসীর উপর জারি করা হয় না।ঠিক তেমনি স্বাধীন নারী বিবাহিত হলে রজমের শাস্তি তার উপর বর্তাবে না।তার শাস্তি কেবল ১০০/২= ৫০ বেত্রাঘাত হবে কারণ রাসূল সাঃ দাসীর উপর বেত্রাঘাত ছাড়া অন্য শাস্তি প্রয়োগ করতে নিষেধ করেছেন।এমনকি তাদের ভৎর্সনা করতেও নিষেধ করেছেন।সুতরাং এখানে রজমের কথা আসবেই না।ধর্ষিতার ক্ষেত্রে যেমন হাদ্দ প্রযোজ্য না,সমকামীর ক্ষেত্রে বিবাহিত-অবিবাহিতদের শাস্তি আলাদা নয় তেমনি দাসীর ক্ষেত্রে রজম প্রযোজ্য না।কারণ তাদের বেত্রাঘাত বাদে অন্য কোন শাস্তি নিষেধ।দাসী বিবাহ বন্ধনে আসার পর সে বিবাহিত।কিন্তু গুণে সে মুসানাতি তাকে বিবাহ বন্ধনে যেতে বলা হচ্ছে।অর্থ্যাৎ অবিবাহিত দাসী বিবাহ বন্ধনে এলে তার শাস্তি অবিবাহিত নারীর অর্ধেক।

(৩নং প্রশ্নঃ)
ﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻲ ﻟَﺎ ﻳَﻨﻜِﺢُ ﺇﻟَّﺎ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔً ﺃَﻭْ
ﻣُﺸْﺮِﻛَﺔً ﻭَﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻴَﺔُ ﻟَﺎ ﻳَﻨﻜِﺤُﻬَﺎ
ﺇِﻟَّﺎ ﺯَﺍﻥٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺸْﺮِﻙٌ ﻭَﺣُﺮِّﻡَ ﺫَﻟِﻚَ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে।(সূরা নূর ৩)

এখানে বলা হচ্ছে ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী নারীকেই বিবাহ করে।কিন্তু তাকে যদি রজম করা হয় তাহলে সে কিভাবে বিয়ে করবে? লাশের সাথে কি বিবাহ হয় আর আল্লহ তাওবা করলে মাফ করার কথা বলেছেন,তাহলে লাশ কিভাবে তওবা করবে?

খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।এখানে আল্লহ খবর দিচ্ছেন যে,ব্যভিচারীর উপর একমাত্র ঐ ব্যক্তিই খুশি হতে পারে যে নিজে ব্যভিচারী অথবা শিরককারী।একমাত্র মুশরিক কিংবা ব্যভিচারীই একাজকে খারাপ মনে করে না।মুমিন কখনো এ কাজ পছন্দ করে না।আল্লহ মুমিনদের জন্য ব্যবিচারী কিংবা ব্যভিচারিণীকে হারাম করেছে।কারণ সহিহ হাদিসে আছে একজন মানুষ যখন ব্যভিচার করে তখন সে আর মুমিন কিংবা ঈমানদার থাকে না।তার ঈমান জামা খোলার মতো উপর দিয়ে বের হয়ে যায়।আর ইবনে আব্বাস বলেন,এ আয়াতে নিকাহ বলতে সঙ্গম বোঝানো হয়েছে।অর্থ্যাৎ একজন ব্যভিচারী বা মুশরিকই কেবল একজন ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীর সাথে সঙ্গম করে বা মিলিত হয়।অনেকে বলেছে এখানে কি তাহলে মহান আল্লহ মুশরিককে বিবাহের অনুমতি দিচ্ছে? উত্তর না।আমি যদি উক্ত আয়াতের মতো বলি “মুশরিকরা মূর্তি পূজা করে থাকে” তার মানে কি আমি মুশরিকদের মূর্তি পূজা করার নির্দেশ দিচ্ছি?আর এখানে নিকাহ বলতে সঙ্গম বুঝিয়েছে আর হাদিস অনুসারে একজন ব্যভিচার করলে তওবা না করা পর্যন্ত তো সে ঈমানদারই না।যাই হোক মূল বক্তব্যে আসিঃ

উক্ত আয়াতটি ভালো করে দেখুনঃ “ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে”
এখানে বিয়ের পূর্বে নারী বা পুরুষকে ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণী বলে বিশেষণিত করা হচ্ছে।বিয়ে আগেই সে ব্যভিচারী এবং সে ব্যভিচারিণী বা মুশরিককে বিয়ে করে।আপনি বলছেন লাশ কিভাবে বিয়ে করবে? আপনি তো নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে,আপনার লাশ অবিবাহিত।তাই তো তার বিয়ের প্রশ্ন আসছে।এখন প্রশ্ন আপনার লাশ যদি অবিবাহিতই হয় তাহলে এখানে তো রজমের প্রশ্নই আসছে না।আপনার লাশ অবিবাহিত হলে তো তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড না।তার শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং তারপর সে বিয়ে করতে পারবে।রজম তো বিবাহিতদের জন্য; আপনার যদি বিবাহিতই হয় তাহলে বিয়ে কীভাবে করবে এ প্রশ্ন আসছে কেন?

আবার অনেকে বলে এখানে পরিতক্তা নারীর কথা বলা হতে পারে যাদের স্বামী ব্যভিচার প্রমাণ করতে পারে নি তাই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে।আর পরিতক্তা নারীর তো বিবাহ হয়।

এ কথার উত্তর খুব সহজ।উপরে যদি পরিতক্তা নারীর কথা বোঝায় তাহলে তো পরিতক্তা পুরুষের কনসেপ্টও আসে।পরিতক্তা পুরুষ বলে কিছু আছে কি? আর আপনি বললেন স্বামী ব্যভিচার প্রমাণ করতে পারে নি বলে তালাক দিয়েছে।আর এমন নারীর তো বিয়ে হয়।জ্বি তা হয়।কিন্তু জনাব আপনি তো স্বীকার করেই নিলেন যে স্বামী ব্যভিচার প্রমাণ করতে পারে নি।আর অপ্রমাণিত ব্যভিচারের তো কোনো শাস্তিই নেই।রজমের কথা আসে কিভাবে?

আর এখানে সেই সব ব্যভিচারীদের কথা হয়তো বোঝানো হয়েছে,যাদের ব্যভিচার প্রমাণিত নয় কিংবা গোপন রয়েছে।

এবার প্রশ্ন হলো রজম করালে লাশ তওবা করবে কিভাবে?

এ প্রশ্নটা অযৌক্তিক।বিষয় যেন এমন যে ব্যভিচার করার সাথে সাথে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।ব্যভিচার প্রমাণ করতে হবে,সাক্ষী যোগার করতে হবে।ব্যভিচারী অনেক সময় পাবে তওবা করার।আর তওবা করলে যে শাস্তি হবে না এটা ভুল।আপনি তওবা করেছেন এবং যদি ব্যভিচারের কথা গোপন রাখতে পারেন,তাহলে আপনার কোনো শাস্তি নেই।কিন্তু প্রকাশিত হলে নিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে।

দেখুনঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন- তোমরা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকো যা আল্লহ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।এরপরও যে শয়তানের পড়ে তা করে ফেলে সে যেন তা লুকিয়ে রাখে। যখন আল্লহ তা গোপনই রেখেছেন।তবে সে যেন এ জন্য আল্লহ তালার নিকট তাওবা করে নেয়। কারণ যে ব্যক্তি তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে তার উপর আমরা অবশ্যই আল্লহ তালার বিধান প্রয়োগ করবো। (হাকিম ৪/২৭২)

আর তওবা করার পরও নবী শাস্তি দিয়েছেন।

দেখুনঃ(সহিহ বুখারী৪২৮৩) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নূমায়র (রহঃ) বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,গামেদী এক মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লার রাসুল! আমি ব্যভিচার করেছি।
সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন
তিনি তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।-পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল,
হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।আপনি কি আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান,যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়ে ছিলেন মায়েযকে। আল্লাহর শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী। তখন তিনি বললেনঃতুমি যদি ফিরে যেতে নাচাও,তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল সময় পর্যন্ত অপেক্ষা কর।রাবী বলেনঃ এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করল- তখন
তিনি সন্তানকে এক টূকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তাঁর কাছে আগমন করলেন এবং বললেনঃ এই
সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও
তাকে (সন্তানকে) দুধ পান করাও গিয়ে। দুধপান করানোর সময় উত্তীর্ণ হলে পরে এসো।এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হল তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তার কাছে আগমন করলো এমন অবস্থায় যে, শিশুটির
হাতে এক টূকরা রুটি ছিল।এরপর বললো, হে আল্লাহর নাবী! এইতো সেই শিশু-যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন
খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন
একজন মুসলমানকে প্রদান করলেন। এরপর তার
প্রতি ( ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন।মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হল এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তখন তাকে পাথর মারতে শুরু করল।খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) একটি- পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায়
নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (রাঃ) এর মুখমণ্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন।নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম গালি শুনতে পেলেন।
তিনি বললেনঁ, সাবধান!হে খালিদ! সেই মহান
আল্লাহর শপথ, যার হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো!নিশ্চয়ই সে এমনতাওবা করেছে, যদি কোন ‘হক্কুল ইইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন
তাওবা করতো- তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেতো। এরপর তার জানাযার সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় সালাত আদায়
করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো।

দেখুন মহিলা কিন্তু তওবা করেছিল তবুও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল কারণ তার পাপ প্রকাশিত হয়েছিল।সে স্বীকার করেছিল।তাই যদি পাপ গোপণ রাখতে পারেন,তাহলে কোনো শাস্তি নেই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s