Gallery

ব্যভিচারের শাস্তি কি? রজম কি কুরআন বিরোধী শাস্তি? Part 2

images (2)
প্রশ্ন নং ৪) আল্লহ সূরা আহযাবে নবীপত্নীদের অশ্লীল কর্মের জন্য দ্বিগুণ শাস্তির কথা বলেছেন।যদি নবী পত্নিরা ব্যভিচার করে তাহলে রজমের দ্বিগুণ শাস্তি কিভাবে হবে?

ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻣَﻦ ﻳَﺄْﺕِ
ﻣِﻨﻜُﻦَّ ﺑِﻔَﺎﺣِﺸَﺔٍ ﻣُّﺒَﻴِّﻨَﺔٍ
ﻳُﻀَﺎﻋَﻒْ ﻟَﻬَﺎ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏُ ﺿِﻌْﻔَﻴْﻦِ
ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺴِﻴﺮًﺍ
হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য
অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ
শাস্তি দেয়া হবে। এটা আল্লাহর জন্য সহজ।(সূরা আহযাব ৩০)

রজম বাতিলের পক্ষে এটা আমার সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত আয়াত বলে মনে হয়।তবে এ আয়াত দ্বারাও রজম বাতিল হয় না।

এখানে প্রকাশ্যে অশ্লীল কর্মের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু ব্যভিচার কিন্তু প্রকাশ্য পাপ নয়।এটা গোপনে করা হয়।তবুও যুক্তির খাতিরে মেনে নিলাম।কিন্তু এখানে দ্বিগুণ শাস্তির কথা বলা হচ্ছে।এখন ব্যভিচারের শাস্তি যদি শুধু ১০০ বেত্রাঘাত হয় তাহলে কি নবী পত্নিদের শাস্তি ২০০ বেত্রাঘাত? কিন্তু এটা তো সূরা নূরের ২ আয়াতের বরখেলাফ।কারণ উক্ত আয়াতে ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বলা হয়েছে।তাহলে এ দ্বিগুণ শাস্তি কখন?

জবাব হচ্ছে এ দ্বিগুণ শাস্তি ইহকালে নয় বরং পরকালের।এ আয়াতের পূর্বের আয়াতগুলো দেখুনঃ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﻗُﻞ ﻟِّﺄَﺯْﻭَﺍﺟِﻚَ
ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻦَّ ﺗُﺮِﺩْﻥَ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ
ﻭَﺯِﻳﻨَﺘَﻬَﺎ ﻓَﺘَﻌَﺎﻟَﻴْﻦَ ﺃُﻣَﺘِّﻌْﻜُﻦَّ
ﻭَﺃُﺳَﺮِّﺣْﻜُﻦَّ ﺳَﺮَﺍﺣًﺎ ﺟَﻤِﻴﻠًﺎ
হে নবী, আপনার পত্নীগণকে বলুন,তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর, তবে আস, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় নেই।(২৮)
ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻦَّ ﺗُﺮِﺩْﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﺍﻟﺪَّﺍﺭَ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓَ ﻓَﺈِﻥَّ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻋَﺪَّ ﻟِﻠْﻤُﺤْﺴِﻨَﺎﺕِ ﻣِﻨﻜُﻦَّ
ﺃَﺟْﺮًﺍ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ
পক্ষান্তরে যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও
পরকাল কামনা কর, তবে তোমাদের সৎকর্মপরায়ণদের জন্য আল্লাহ মহা পুরস্কার
প্রস্তুত করে রেখেছেন।(২৯)

দেখুন পরকালে তাদের মহাপুষ্কার দেওয়ার কথা বলে অশ্লীল কর্মের জন্য দ্বিগুণ শাস্তির কথা বলছে।সুতরাং এ শাস্তি ইহকালের নয় বরং পরকালের। আরো প্রমাণ দেওয়া সম্ভব যে এ শাস্তি ইহকালের নয় বরং পরকালের।

ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻃَﻌْﻨَﺎ ﺳَﺎﺩَﺗَﻨَﺎ
ﻭَﻛُﺒَﺮَﺍﺀﻧَﺎ ﻓَﺄَﺿَﻠُّﻮﻧَﺎ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻠَﺎ
তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা,
আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম,
অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺁﺗِﻬِﻢْ ﺿِﻌْﻔَﻴْﻦِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏِ ﻭَﺍﻟْﻌَﻨْﻬُﻢْ ﻟَﻌْﻨًﺎ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ
হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ
শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।(সূরা আহযাব ৬৭-৬৮)

দেখুন এখানে পরকালের দ্বিগুণ শাস্তির কথা স্পষ্ট।তারপরে পরকালে ব্যভিচারের শাস্তিই দ্বিগুণ দেওয়া হবে একথা আল্লহ কুরআনে বলেছেন।
দেখুনঃ সূরা ফুরকান (৬৭-৬৮) ” এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যা হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।
ﻳُﻀَﺎﻋَﻒْ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻭَﻳَﺨْﻠُﺪْ ﻓِﻴﻪِ ﻣُﻬَﺎﻧًﺎ
কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে।

ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺁﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻬِﻢْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺕٍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ
সুতরাং এখানে স্পষ্ট এ শাস্তি ইহকালের নয় বরং পরকালের।

(প্রশ্ন নং ৫) রজমের আয়াত কুরআনে নেই।ইবনে মাজহায় হাদিস আছে যে, ছাগল রজমের আয়াত খেয়ে ফেলেছে? এ থেকে বোঝা যায় রজমের বিধান আর কার্যকর নেই।

রজমের আয়াত কুরআনে ছিল।কিন্তু পরে তার তিলাওয়াত রহিত হয় তবে তার বিধান আজও বর্তমান আছে।ইমাম নববী এবং হাফেজ হাজর আসকালী সকলেই বলেছেন, এ আয়াতের তিলাওয়াত রহিত হয়েছে তবে এর বিধান আজও বর্তমান।নিচের হাদিসগুলো দ্বারা এ বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট হবে।

(বুখারী-৬৮২৯,মুসলিম-১৬৯১,আবু দাউদ-৪৪১৮) আছে।
“হযরত উমর (রাঃ) তার এক দীর্ঘ খুতবায় বলেন,নিশ্চয় আল্লহ তা’আলা মুহাম্মদ (সাঃ) কে সত্য ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।আল্লহ তা’আলা তার উপর যা অবতীর্ণ করেন তার মধ্যে রজমের আয়াতও ছিল।আমরা তা পড়েছি,মুখস্ত করেছি ও বুঝেছি।অতঃপর রাসূল (সাঃ) রজম করেছেন এবং আমরাও তার ইন্তেকালের পর রজম করেছি।আশঙ্কা হয় বহু কাল পর কেউ বলবেঃ আমরা কোরআন মাজীদে রজম পাইনি।অতঃপর তারা আল্লহ তা’আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি ফরয কাজ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।হযরত উমর (রাঃ) যে আয়াতের ইঙ্গিত করেছেন তা হচ্ছে,”বয়স্ক (বিবাহিত) পুরুষ ও মহিলা যখন ব্যভিচার করে তখন তোমরা তাদেরকে সন্দেহাতীতভাবে পাথর মেরে হত্যা করবে।এটিই হচ্ছে আল্লহ তালার পক্ষ থেকে তাদের জন্য শাস্তিস্বরুপ এবং আল্লহ তালা পরাক্রমশালী ও সুকৌশলী।
উক্ত আয়াতের তিলাওয়াত রহিত হয়েছে।তবে উহার বিধান চালু রয়েছে।

হযরত উমর (রাঃ) এর হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে,আয়াতটি মানসুক বা রহিত হয়েছে।এখন এ রহিত আয়াত যদি ছাগলে খায়,তাহলে কুরআনের বিশুদ্ধতার কি পরিবর্তন আসে বলুন।রহিত আয়াত ছাগলে খেল কি গরুতে খেল এতে কি আসে যায় বলুন।মূল কুরআনের তো কোনো ক্ষতি হয় নি।এটাই কুরআনের বিশুদ্ধতার প্রমান।আর যদি ছাগলে নাও খেত,তাহলে কুরআন সংকলনের সময় হয়তো এগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হতো।

এ থেকে আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যে, রজমের নির্দেশ কখনো বাতিল হয় নি।কারণ উমর রাঃ নিজে বলেছেন যে, “রাসূল (সাঃ) রজম করেছেন এবং আমরাও তার ইন্তেকালের পর রজম করেছি।” এ থেকে স্পষ্ট যে, রজম কখনো বাতিল হয় নি।আর উনি বলেছেন, রজম অস্বীকারকারীরা পথভ্রষ্ট।এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, রজম করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত।

আরো হাদিস দেখুনঃ
১) “হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত উমর রাঃ কে বলতে শুনেছেনঃ ” লোকেরা বলে যে,তারা রজম করার কথা কুরআনে পাই না।কুরআনে কেবল চাবুক মারার হুকুম রয়েছে।জেনে রেখো যে, স্বয়ং রাসূল সাঃ রজম করেছেন,তারপর আমরাও করেছি।
” কুরআন যা নেই, উমর রাঃ তা লিখিয়ে নিয়েছেন” এ কথার ভয় যদি আমি না করতাম তবে রজমের আয়াত আমি লিখিয়ে নিতাম যেভাবে ওটা অবতীর্ণ হয়েছিল।(মুসনাদে আহমদ)

২) হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়ার রাঃ হতে বর্ণিত যে, হযরত উমর রাঃ বলেছেন, ” তোমরা রজমের হুকুম অস্বীকার করার ধ্বংস থেকে বেঁচে থাকো।(ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন,ইমাম তিরমিযী রাঃ এটা আনয়ন করেছেন এবং বিশুদ্ধ বলেছেন)

৩) কাসীর ইবনে সালত রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমরা মারওয়ানের নিকট উপবিস্ট ছিলাম।সেখানে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিতও ছিলেন।তিনি বলেনঃ “আমরা কুরআনে পড়তাম- বিবাহিত পুরুষ বা নারী ব্যভিচার করলে তোমরা অবশ্যই রজম করবে।” মারওয়ান তখন জিজ্ঞেস করেন,” আপনি কুরআন কারীমে এটা লিখেন না যে? উত্তরে তিনি বলেনঃ আমাদের উমর রাঃ বলেন, আমি তোমাদের স্বান্তনা দিচ্ছি যে, একটি লোক একদা নবী সাঃ এর কাছে আগমন করে।সে তার সামনে এরুপ বর্ণনা দেয়।আর সে রজমের বর্ণনা দেয়।কে একজন বলে, হে রাসূল সাঃ আপনি রজমের আয়াত লিখিয়ে নিন।রাসূল সাঃ বলেন আমি তো এটা লিখিয়ে নিতে পারি না।(আহমদ ও নাসাঈ)

বিস্তারিতঃ http://www.islamic-life.com/other-refutations/quran/article-missing-quranic-verse-rajam-stoning

এসব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রজমের আয়াত পূর্বে লিখিত ছিল।তারপর তিলাওয়াত রহিত হয় তবে হুকুম বাকি আছে।

(৬ নং প্রশ্নঃ) রজমের আয়াত যদি রহিত হয় তাহলে তার স্বরুপ কিংবা ঐ রকম কোনো আয়াত কুরআনে থাকা উচিত।কারণ আল্লহ বলেন, “আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে,আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?” [ সূরা বাকারা-১০৬]
যেমন, প্রথমে ব্যভিচারিণীদের গৃহ বন্দি করতে বলা হয় (৪:১৫) পরে বেত্রাঘাতের নির্দেশ আসে(নূর ২)।কিন্তু রজমের পর্যায়ের কোনো আয়াত নেই?

এটা অনেক ভালো যুক্তি।তবে এখানে বুঝতে হবে দাবিটা কি? দাবি হচ্ছে কেবল তিলাওয়াত রহিতকরণের কিন্তু এর বিধান তো বর্তমান।আল্লহ কোনো বিধান বাতিল করলে তার সমপর্যায়ের বিধান আনেন।কিন্তু হাদিস থেকে পরিষ্কার রজমের বিধান তো বাতিলই হয় নি।তাহলে তো নতুন বিধান আনার কোনো প্রয়োজন নেই।যেমন- আগে ব্যভিচারিণীদের গৃহ বন্দি করতে বলা হয় (৪:১৫) পরে বেত্রাঘাতের নির্দেশ আসে(নূর ২)।আর আল্লহ তো কেবল আয়াত রহিত করেন না,বরং বিস্মৃতও করেন।এখানেও তাই হয়েছে।সূরা আলা (৬-৭)

ﺳَﻨُﻘْﺮِﺅُﻙَ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻨﺴَﻰ
আমি আপনাকে পাঠ
করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত
হবেন না
ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻧَّﻪُ ﻳَﻌْﻠَﻢُ
ﺍﻟْﺠَﻬْﺮَ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺨْﻔَﻰ
আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত।
নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও
গোপন বিষয়।

এ আয়াতে তিলাওয়াত রহিত হয় কথাটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

আর কুরআনেও রজমের কাছাকাছি একটি আয়াত আছে।

ﻭَﺍﻟﻠَّﺬَﺍﻥَ ﻳَﺄْﺗِﻴَﺎﻧِﻬَﺎ ﻣِﻨﻜُﻢْ
ﻓَﺂﺫُﻭﻫُﻤَﺎ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﺎﺑَﺎ ﻭَﺃَﺻْﻠَﺤَﺎ
ﻓَﺄَﻋْﺮِﺿُﻮﺍْ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ
ﺗَﻮَّﺍﺑًﺎ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই
কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের
সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।

“If two men among you are guilty
of lewdness, punish them both. If
they repent and amend, Leave
them alone; for Allah is Oft-
returning, Most Merciful.”
— Qur’an, Sura 4 (Al-Nisa), ayat16

এ আয়াতে সমকামীদের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়।আর উক্ত আয়াতে তাদের শাস্তির কথা বলা হচ্ছে।তবে এ শাস্তির কথা কুরআনে নেই,হাদিসে আছে।আর সেটা হলো রজম।সমকামীদের ব্যাপারে কিন্তু বিবাহিত- অবিবাহিত হওয়ার ব্যাপার নেই।সমকাম করে ধরা পড়লেই রজম।

দেখুনঃ Narrated Abdullah ibn Abbas: The
Prophet said: If you find anyone
doing as Lot’s people did, kill
the one who does it, and the one
to whom it is done.
— Sunan Abu Dawood, 38:4447

Narrated Abdullah ibn Abbas: If a
man who is not married is seized
committing sodomy , he will be
stoned to death.
— Sunan Abu Dawood, 38:4448

তাহলে বলুন কিভাবে রজম কুরআন বিরোধী হয়!
আল্লহর রাসূল নির্দেশ দিয়েছে তাই এটা মেনে নেওয়া আমাদের কর্তব্য।কারণ আল্লহ বলেন- ‘রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর,
আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ
করে তা থেকে বিরত হও
এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ
শাস্তি প্রদানে কঠোর।’ {সূরা আল-হাশর,
আয়াত : ০৭}

তবে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি পাকিস্তানের এ ঘটনার।পাকিস্তানে এ কেমন ফতোয়া? ধর্ষণিতাকে কেন ৪ জন সাক্ষী আনতে হবে? আর ধর্ষিতা সাক্ষী আনতে পারে না কিন্তু ব্যভিচারের উপকরণ তার কাছে পাওয়ার কারণে তাদের শাস্তি পেতে হয়।

The number of incidents of violence
against women increased by 13 per
cent in 2009 , says a report by the Aurat
Foundation set to be released on
Wednesday. The report states that
8,548 incidents of violence against
women were reported in 2009
compared to 7,571 incidents reported
in 2008. Of these, 5,722 were reported
to have occurred in Punjab, followed by
1,762 in Sindh, 655 in Khyber-
Pakhtunkhwa and 237 in Balochistan.
Similarly, 172 cases of violence against
women were reported in Islamabad, the
report said.
2009 In Pakistan, it is reported that three out of four women in prison under its Hudud laws [these are the laws of what it forbidden and permitted by Allah
himself], are rape victims . Because
rape is equated with zina [unlawful
sexual intercourse] under Hudud law,
rape victims are required to produce
four pious male witnesses. It is of
course nearly impossible for the rape
victims to produce the four male
witnesses required to prove their
allegation. Therefore their police report
of rape was taken as a confession of
illicit sex on their part and they were
duly found guilty.

পাকিস্তানে কি নিচের হাদিসগুলো পৌছায় নি?

(মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-২৫৯৫) নাফি’ (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, গনীমতের এক পঞ্চমাংশের মালের মধ্যে যে সকল দাস-দাসী ছিল তাদের মধ্যে এক দাস এক দাসীর
সহিত বলপুর্বক ব্যভিচার করেছিল ।উমর (রা) তাকে বেত্রাঘাত করে তাড়াইয়া দিলেন (কিন্ত)
তিনি দাসীকে প্রহার করলেন না ।কারণ তার উপর বল প্রয়োগ করা হয়েছিল।

সাহাবী ওয়ায়েল ইবনে হুাজর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর যুগে জনৈকা মহিলা মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন।
একজন লোক তাকে একা পেয়ে কাপড়ে ঢেকে নেয় এবং তাকে ধর্ষণ করে। মহিলা চিৎকার শুরু করলে লোকটি চলে যায়। সেখান
দিয়ে মুহাজিরদের একদল লোক যাচ্ছিলেন। মহিলাটি তাদেরকে বললেন যে,
ঐ লোক আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে। তখন লোকেরা তাকে ধরে রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে নিয়ে আসলে মহিলাটি তার ধর্ষককে চিনতে পারে। এরপর রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ মহিলাকে বললেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ
তোমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ধর্ষণকারী পুরুষকে রজম করার আদেশ
দিলেন (আবুদাঊদ হা/৪৩৭৯; তিরমিযী হা/১৪৫৪, মিশকাত হা/৩৫৭২,
হাদীছটি হাসান, ‘হুদূদ’ অধ্যায়)।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s