Gallery

নাস্তিক ও অমুসলিমদের ধরা কুরআনের ভুলের জবাবঃপর্ব দুই

Science-Technology-Images-23-HD-Images-Wallpapers

নাস্তিক ও অমুসলিমদের ধরা কুরআনের ভুলের জবাবঃপর্ব দুই

প্রশ্নঃ কুরআনে বলা হয়েছে-” আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়।” (৫১:৪৯)।
কিন্তু আমরা জানি এমন অনেক প্রাণী বা উদ্ভিদ আছে যাদের কোনো counterpart জোড়া কিংবা প্রতিরুপী নেই।সুতরাং,এটা কুরআনের ভুল।

উত্তরঃ কুরআনে আছে- “ইহা ঐ গ্রন্ধ যার মধ্যে কোন রুপ সন্দেহ নেই।” (২:২)

কুরআন হলো সৃষ্টিকর্তা তথা মহান আল্লহর বাণী।কুরআন নিজেই তার সত্যতা ও বিশুদ্ধতার প্রমান দেয়। কুরআনের ভুল ধরার আগে কুরআনের দেওয়া চ্যালেজ্ঞ কেন ভুলে যান?? কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার অনুরুপ একটি সূরা রচনা করে দেখান দেখি? আপনারা কখনো সত্য জানার চেষ্টাও করেন না।জানতে পারলেও মানতে চানতে চান না।কারণ এতে তো আপনাদের নোংরামি বাধাপ্রাপ্ত হবে,তাই না?কুরআনে কোনো ভুল নেই।নিচে উক্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত লিখছি—-

কুরআনে মহান আল্লহ বলেন,”আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়,যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পার।”

এখানে সরল ব্যাখ্যায় বলা যায় মহান আল্লহ আসমান-যমীন,নারী-পুরুষ, জীবন-মরণ,জান্নাত-জাহান্নাম,জড়-জীব ইত্যাদি সব জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।

—-এখন নাস্তিকদের প্রশ্ন যে,এমন অনেক প্রাণীও তো আছে, যাদের কোনো জোড়া কিংবা প্রতিরুপী নেই।তাহলে কুরআন এমন বলল কেন??

মহান আল্লহ অশেষ জ্ঞানের অধিকারী,তিনি আমাদের সীমিত জ্ঞানই দান করেছেন।তবুও অহংকারবশত আমরা সীমালংঘন করি। এখানে আমি মনে মহান আল্লহ এক অতি সুক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়ের ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।যা ১৪০০ আগে কেউ ভাবতে পারে,কল্পনাও করা যায় না।

— প্রতিকণা (Antimatter) সম্পর্কে কি কিছু জানেন?

♪♪ কণা পদার্থবিজ্ঞানে প্রতিকণার
ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে।
ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতি পদার্থগঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন
মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ
এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ
শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ- প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান।”” এন্টিম্যাটার(Antimatter) বা প্রতিপদার্থ হলো সেই বস্তু যা কোন পদার্থের
সংস্পর্শে এলে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিপুল পরিমান শক্তি উৎপন্ন হয়। যে কোন পদার্থই আবার অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মূল কণিকা দিয়ে তৈরি। সেই হিসেবে এন্টিম্যাটারও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকা দ্বারা তৈরি। কাজেই যে কোন মুল কণিকার
একটি বিপরীত মূল কণিকা আছে। এই
মূলকণিকাগুলো তাদের প্রতিপদার্থের একই রকম মূলকণিকার সংস্পর্শে এলে উভয়েই নিশ্চিন্হ হয়ে যায় এবং বিপুল পরিমান শক্তি উৎপন্ন হয়।
অর্থাৎ আপনি যদি আপনার দেহের সমপরিমান কোন এন্টিম্যাটারের সংস্পর্শে আসেন তাহলে উভয়েই বিলুপ্ত হয়ে যাবেন তবে বিলুপ্ত হয়ে যাবার সময় উত্তরাধিকারীদের জন্য প্রচুর পরিমান
শক্তি রেখে যেতে পারবেন। ভয় পাবেন না। আপনার আশেপাশে আপনি যা দেখতে পান বা দেখতে পান না তার সবই স্বাভাবিক পদার্থ। আকাশে যে সব গ্রহ নক্ষত্র দেখা যায় সেসবও স্বাভাবিক
পদার্থ। দূর-দূরান্তে যেসব গ্যালাক্সী বা গ্যালাক্সী ক্লাস্টার আছে সেগুলোও সবই আপনি যে ধরনের পদার্থ দিয়ে গঠিত হয়েছেন সেই একই ধরনের পদার্থ
দিয়ে গঠিত হয়েছে। সহসাই এন্টিম্যাটারের
সংস্পর্শে আসার কোন সুযোগ(!) আপনার নেই।♪♪

%% ১৮৯৮ সালে জার্মানবিজ্ঞানী আর্থার শুস্টার প্রথম এন্টিম্যাটারের ধারনা দেন এবং এন্টিএটম বা প্রতিপরমানুর অস্তিত্ব অনুমান করেন। তবে তাঁর অনুমান নির্ভর তত্ত্বের অনেকাংশই পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা পরিমার্জন করেন। ১৯২৮ সালে বিজ্ঞানী পল ডিরাক তাঁর একটিগবেষণাপত্রে এন্টিম্যাটারের আধুনিক তত্ত্ব ব্যখ্যা করেন। এর ধারাবাহিকতায় শ্রডিঞ্জারের তরঙ্গতত্ত্বের আলোকে ইলেক্ট্রনের বিপরীত পদার্থ পজিট্রন তৈরির সম্ভাবনা দেখা যায় এবং ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী কার্ল ডি এন্ডারসন পজিট্রন আবিষ্কার করেন। পরবর্তিতে আরো কিছু পারমানবিক মূল কণিকা যেমন, এন্টিপ্রোটন,এন্টিনিউট্রন এবং এদের সমন্বয়ে এন্টি নিউক্লিয়াস তৈরি করা হয়। এন্টিনিউক্লিয়াস এবং পজিট্রনের
সমন্বয়ে পরমানুর বিপরীত কণিকা এন্টিএটম বা প্রতিপরমানু তৈরি করা হয় ১৯৯৫ সালে।
এন্টিম্যাটার তৈরির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ এটাকে টিকিয়ে রাখা। কারন
একে যে পাত্রে রাখা হবে সেটা কোন না কোন পদার্থ দ্বারা তৈরি করতে হবে। ফলে সেই পদার্থ প্রতিপদার্থের সাথে মিলে নিশ্চিন্থ করে ফেলবে।তবে গতবছর বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার সমাধান
করেন। তাঁরা বিশেষ স্থিতিশীল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে তার ভিতরে এন্টিম্যাটার সংরক্ষণ করেন। চৌম্বকক্ষেত্র কোন পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় না।এটা শুধুমাত্র একটি বলক্ষেত্র যেখানে প্রতিপদার্থ আকৃষ্ট হয়ে আটকে যায় এবং কোন পদার্থের সংস্পর্শে না আসতে পারায় সংরক্ষিত থাকে।
মহাবিশ্বে স্বাভাবিকভাবেই কখনো কখনো এন্টিম্যাটার তৈরি হতে পারে। দুটি উচ্চগতি সম্পন্ন কণিকার বিপরীতমূখী সংঘর্ষে প্রায়ই প্রতিপদার্থ বা এন্টিম্যাটার তৈরি হয়। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে উত্তপ্ত অবস্থায় প্রতিনিয়ত
প্রতিপদার্থ কণিকা তৈরি হয় তবে পরক্ষণেই
স্বাভাবিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে তা নিশ্চিন্হ হয়ে যায়। তাছাড়া গ্যালাক্সিগুলোর কেন্দ্রে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় শক্তি রূপান্তরিত হয়ে পদার্থ ও প্রতিপদার্থে পরিণত হয়।বিজ্ঞানীদের ধারনা বিগব্যাঙের পরমূহূর্তে অতি উচ্চতাপমাত্রায় পদার্থ এবং প্রতিপদার্থ তৈরি হয়, সেগুলো উৎপন্ন হওয়ার পরমূহুর্তেই নিজদের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় এবং আবারো তৈরি হয়। এভাবে অনবরত ভাঙ্গা-গড়া চলতে থাকে। কিন্তু কোন এক রহস্যময় কারনে প্রতিপদার্থের চেয়ে স্বাভাবিক পদার্থ
কিছুটা বেশী তৈরি হয়। ফলে একে অপরকে নির্মূলকরার পরও কিছু পরিমান পদার্থ রয়ে যায়।যা পরবর্তীতে এই মহাবিশ্ব তৈরি করে।%%

তাহলে নাস্তিকদের কাছে প্রশ্ন আপনি কিভাবে বলছেন,কুরআনে ভুল আছে!! কুরআন তো উক্ত আয়াতে প্রতিকণা (antimatter) সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে।জোড়া বলতে তো এই প্রতিকণার কনসেপ্টও আসছে।বলতে গেলে এটা তো কুরআনের নির্ভুলতার প্রমাণ।প্রতিকণার ধারনা ১৪০০ বছর আগে কেউ করে ছিল কি?

“সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে।নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s