Gallery

নারীরা কেন বেশি জাহান্নামে যাবে; নাস্তিকদের দাঁতভাঙ্গা জবাব |

wpid-6761498181_77e783aa3d_b1

 

নারীরা কেন বেশি জাহান্নামে যাবে; নাস্তিকদের দাঁতভাঙ্গা জবাব

নাস্তিকদের প্রশ্ন নারীরা কেন বেশী জাহান্নামে যাবে; এর মাধ্যমে কি তাদের বঞ্চিত করা হয় নি?

ইনশাআল্লহ উক্ত বিষয়ের যুক্তি খন্ডন করব।তার আগে জেনে নি, কারা জান্নাতে যাবে?
“(আর হে নবী) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আপনি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেস নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। (২:২২৫)
এখানে কিন্তু নারী পুরুষ আলাদা করা হয় নি।আরেকটি আয়াত দেখিঃ
“অবশ্যই মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী,মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী,ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী,বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী,রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হেফাযতারী নারী, আল্লহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী- এদের জন্য আল্লহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।”(৩৩:৩৫)

এ আয়াতের পর অভিযোগটা শিথিল হয়ে যায়।কিভাবে সমতা বিধান করলেন মহান আল্লহ! জান্নাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ রাখা হয় নি। ঈমানদার, মুমিন হোক সে নারী কিংবা পুরুষ তার জন্য রয়েছে জান্নাত।

এবার তাদের অভিযোগ আনা হাদিস নিম্নে দেওয়া হলোঃ-
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্নিত নবী (সাঃ) বলেছেন,” আমি জান্নাতের প্রতি দৃষ্টিপাত করে দেখলাম তার অধিকাংশ অধিবাসী ফকীর আর জাহান্নামের প্রতি দৃষ্টি করে দেখলাম তার অধিকাংশ অধিবাসী মহিলা।(তিরমিযী)
এখানে একটা লক্ষনীয় বিষয়, হাদিসটিতে কিন্তু বলা হয় নি যে, পুরুষরা বেশি জান্নাতে যাবে? বরং ফকির অর্থ্যাৎ গরীবরা বেশি যাবে।তাহলে কি আপনি বলবেন, আল্লহ ধনীদের বঞ্চিত করেছে?
::ধরুন বাংলাদেশের এস.এস.সি. ২০১৫ সালের রেজাল্ট হলো ২৫% পাশ এবং ৭৫% ফেল।তাহলে কি আপনি বলবেন,বাংলাদেশ সরকার ঐ ৭৫% ছাত্রের সাথে ইনসাফ করেন নি? নিশ্চয় এমন কথা বলবেন না।বরং বলবেন, ঐ ছাত্ররা পাশ মার্কস অর্জন করতে পারে নি,তাই ফেল করেছে।ঠিক তেমনি অধিকাংশ মহিলারা পরকালের সম্বল অর্জনে ব্যর্থ হবে,তারা আল্লহর নিষেধ করা কিছু গর্হিত পাপ করবেন যার জন্য তারা অধিকাংশ জাহান্নামে যাবে।
মহানবী (সাঃ) কে একজন মহিলা এই একই প্রশ্ন করেছিল,তিনি তখন বলেন,” তোমরা স্বামীদের প্রতি বেশি বেশি অকৃতজ্ঞ হও এবং লানত (অভিসম্পাত) বেশি বেশি করে কর।(বোখারী)
এখানে মহিলারা তাদের এ ত্রুটির কারনে জাহান্নামে বেশি যাবে বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি এখানে না ইনসাফি কিছু বলেন নি।
পুরুষ নারীর অভিভাবক; নারীর উপর সে দ্বায়িত্বশীল।(৪/৩৪)।কিন্তু সামান্য ত্রুটি বিচ্চুতি হলে নারীরা আফসোস করে। হতাশাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর যেহেতু স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি দ্বায়িত্বশীল,তাই স্ত্রীর উচিত স্বামীর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা।(৪/৫৯)। কিন্তু অনেকে তা করে না। তারা যদি এ ত্রুটি বাদ দিতে পারে হয়তো ইনশা আল্লহ তারা জান্নাতে যাবে।যেমন- বলা হয়েছে যে, যারা সুদ খায় তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।তাহলে কি আপনি বলবেন, আল্লহ সুদখোরদের সাথে ইনসাফ করেন নি? নাকি সুদ খাওয়া ছিল তার নিজের দোষ এবং সে তার নিজের দোষের কারনেই জাহান্নামে যাবে।বরং আল্লহ তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সুদকে হারাম করেছেন,কিন্তু সে তা অমান্য করে জাহান্নামী হবে এটাই তো স্বাভাবিক,তাই না?
তারপরও নবী (সাঃ) মহিলাদের অধিক পরিমাণে দান করতে বলেছেন, যাতে তারা জাহান্নামী না হয়।নারী তার স্বামীর অকৃতজ্ঞ হবে এবং অভিসম্পাদ করে তাই তারা বেশি জাহান্নামে যাবে।

Anthony Trollop স্ত্রীর তার স্বামীর প্রতি এ গুণকে সমর্থন করে বলেন,”Of all hatreds that the world produces,a wife’s hatred for her husband,when she does hate him,is the strongest.”

নারীরা যেমন জাহান্নামে বেশি যাবে,তেমন তাদের জান্নাতে যাওয়ার পথও অনেক সহজ।নারীদের জন্য জিহাদ হচ্ছে হজ্জ।
তাছাড়া যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, ছিয়াম পালন করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে,সে জান্নাতের যেকোন দরজা দিয়ে ইচছা প্রবেশ করতে পারবে।(মুসনাদে আহমদ,ইবনু হিব্বান; সনদ সহীহ)

তাছাড়া নারীদের জাহান্নামে বেশি যাওয়ার একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে।কারণটি হচ্ছে নারীর আধিক্য।নারী পুরুষের চেয়ে বেশি বাঁচে,নারী পুরুষের জন্মহার প্রায় সমান এবং নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার অনেক বেশি।তাছাড়া অনেক যৌক্তিক কারণ আছে যা ভবিষ্যত্ব নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।এমন একটি হাদিসও রয়েছেঃ
নবী (সাঃ) বলেছেন- ” কিয়ামতের আলামত হচ্ছে, মহিলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে।এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার বিপরীতে একজন পুরুষ থাকবে।(বুখারী)

জেনিফার গ্রেভ্স নামের ওই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বলেছেন,পুরুষের জীন ধীরে ধীরে
সংকুচিত হচ্ছে এবং এর গতিমুখ হচ্ছে বিলুপ্তির দিকে। তিনি আরো বলেন, ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণের জন্য প্রয়োজন যে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম তা দিন দিন
মারা যাচ্ছে।এমন সময় আসতে পারে যখন পুরুষের শুক্রাণুতে কেবল
থাকবে ‘এক্স’ ক্রোমোজম। ফলে জন্ম নেবে কেবল কন্যা সন্তান। অল্প যে কয়েকজন পুরুষ জীবিত থাকবেন সময়ের সাথে সাথে তারা গত হলেই
দুনিয়া হবে ‘নারীময়’।
http://www.bbc.com/news/science-environment-17127617

সুইডেনের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ধূমপানের কারণে পুরুষের রক্তকোষ থেকে ওয়াই(Y) ক্রোমোজোম হারিয়ে যেতে পারে। ফলে পৃথিবীতে পুরুষের
সংখ্যা কমে যাওয়ার আশংখা রয়েছে। গবেষকেরা দাবি করছেন, তাঁদের
এই গবেষণা ধূমপানে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার বেশি
হওয়ার কারণ জানতে সাহায্য করবে।ফিনল্যান্ডের গবেষকেদের একটি
দল এরই মধ্যে দেখিয়েছে, যেসব পুরুষের রক্তকোষের ওয়াই
ক্রোমোজোম হারিয়ে যায়, তাঁদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এটা ঘটে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো বের করতে পারেননি তাঁরা। সাম্প্রতিক গবেষণাসংক্রান্ত এ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে
সায়েন্স সাময়িকীতে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ছয় হাজারের বেশি পুরুষের
রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছেন তাঁরা। এ ছাড়াও জীবনযাপনের সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট বিষয়, বয়স,রক্তচাপ,ডায়াবেটিস কিংবা মদ্যপানের অভ্যাসের
বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা গবেষণা করেছেন।
গবেষকেরা বলছেন, পুরুষ যত বেশি ধূমপান করেন, ততই
তাঁদের রক্তকোষ থেকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম হারিয়ে
যেতে শুরু করে। কিন্তু যাঁরা ধূমপান ছেড়ে দেন, তাঁদের
ক্ষেত্রে আবারও ওয়াই ক্রোমোজোম ফিরে আসতে থাকে।সুইডেনের উপসালা
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক
লার্স ফর্সবার্গের নেতৃত্বে এই
গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি
বলেছেন,‘আমাদের এই
আবিষ্কার ধূমপান ছেড়ে
দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ
জোগাবে।’বংশগতিতে
(ডিএনএ) ওয়াই ক্রোমোজোম
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াই
ক্রোমোজোমের উপস্থিতির
কারণেই একজন পুরুষ বলে
নির্ধারিত হন।

http://www.bionews.org.uk/page_478242.asp

এখন চলুন একটা হিসাবে যাই।সহীহ মুসলিম থেকে আমরা জানতে পারি যে, প্রতি ১০০০ জনে একজন জান্নাতে যাবে, যদিও হাদিসটি ইয়াজুজ মাজুজের ক্ষেত্রে,তবে আমরা একটা হিসাবের জন্য তথ্যটি ব্যবহার করতে পারি।

ধরুন প্রতি ১০০০ জন পুরুষের মধ্যে ১ পুরুষ বেহেশতে যাবে এবং ১০০০ জন নারীর মধ্যে ১ জন বেহেশতে যাবে।
এখন নারী-পুরুষের জান্নাতে যাওয়ার অনুপাত=১ : ১।
এবং উপরের হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে ১ জন পুরুষের বিপরীতে নারী ৫০ জন।অর্থ্যাৎ ১,০০০ জন পুরুষের বিপরীতে ৫০,০০০ জন নারী।তাহলে ১০০০ জন পুরুষে জাহান্নামে যাবে (১০০০-১)= ৯৯৯জন এবং বিপরীতে নারী জাহান্নামে যাবে (৫০০০০-৫০)= ৪৯,৯৫০ জন।নারী পুরুষের জাহান্নামে যাওয়ার অনুপাত=৫০ : ১। তাহলে দেখুন নারীর আধিক্যও কিন্তু নারীদের জাহান্নামে বেশি যাবার কারণ।মহান আল্লহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল।নিশ্চয় তিনি মুমিন নারীদের জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় স্থান দিবেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s