Gallery

আল্লহর অস্তিত্বের প্রমাণ ও নাস্তিকতার বিদায়|

wpid-6761498181_77e783aa3d_b1আল্লহর অস্তিত্বের প্রমাণ ও নাস্তিকতার বিদায়
বর্তমান সময়ে আমাদের মাথায় একটা চিন্তা প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তা হল কে নাস্তিক? আর কেনইবা তাঁরা নাস্তিক রয়ে গেল?
তাদের কে আস্তিক বানানো সম্ভব কি?

সম্ভব,এর জন্য দরকার কিছু যুক্তি। যেখানে থাকবে কিছু বিদ্বান ব্যক্তিদের চমৎকার ও মনকে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনীয় চিরন্তন যুক্তি ও কিছু শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের ঈশ্বর চেতনা।নাস্তিকেরা আল্লহর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে না,বলতেই হয় তাদের অনুভব শক্তি খুব দুর্বল।নাস্তিকদেরকে আস্তিক বানানোর ক্ষেত্রে সত্য ও সরল ধর্ম ইসলামই এগিয়ে। কেননা ইসলামের এমন কিছু যুক্তি আছে যা চিরন্তন সত্য এবং মূর্খরা ব্যতীত সবাই মাথা নত করে স্বীকার করতে বাধ্য। তাই কোন নাস্তিক যদি মূর্খতার উপর অটল না থাকে তাহলে আশা করি তারাওমেনে নিবে। ইনশা’আল্লাহ।

তাহলে চলুন সামনে যাই…….

প্রথমে চলুন একটু বাস্তবতা দেখি। ধরুন সালমান একুশ বছরের এক টগবগে যুবক,মনের অংহকার ও প্রবৃত্তি তাকে নাস্তিক বানিয়েছে।আজ সকালে বাজারে গেছে ; চায়ের দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে হঠাৎ শরীর থেকে কি এক অদৃশ্য চালিকা শক্তি বের হয়ে গেল।সে মারা গেল,চা টাও শেষ করা হলো না।
আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন,তার শরীরে কি এমন ছিল যা তাকে জীবিত রেখেছিল,জীবনের একুশটা বছর কি এমন তার শরীরে ছিল যা আজ নেই?যার অভাবে সে এখন জড় পর্দার্থে পরিণত হয়েছে,এক্ষুণি মাটি দিয়ে তার অস্তিত্ব শেষ করা হবে!

®® নাস্তিকরা কি এর উত্তর দিতে পারবে?? মৃত্যু কি আজ পর্যন্ত মিথ্যা করতে পেরেছেন? মৃত্যু যদি অস্বীকার না করেন,তবে মৃত্যুদাতা তথা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করেন কেন?উত্তর চাই।®®

৳ এই সুশৃঙ্খল সৃষ্টিজগৎ,গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রকৃতির দিকে তাকিয়েও কি আল্লহর অস্তিত্ব অনুভব করেন না? কে আপনাকে খাদ্য,বস্ত্র সবকিছু দিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে রেখেছে?আপনারা কি অন্ধ?৳

আসুন এবার কিছু যুক্তি দেখি…..

[১] একদা এক নাস্তিকের সাথে এক আস্তিকের বিতর্ক হয়।নাস্তিকটি আস্তিককে বলে,
আপনি তো আল্লাহরঅস্তিত্বে বিশ্বাসী। এর অর্থ কি?আপনি কি তাঁকে দেখেছেন?
তিনি বললেন, না।আপনি কি তাঁকে কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, না।আপনি কি তাঁকে শুঁকেছেনকিংবা ছুঁয়েছেন? তিনি বললেন না।
তাহলে আপনি কিভাবে আল্লাহকে বিশ্বাস করেছেন?তখন আস্তিকটি বলল,আপনি তো বুদ্ধিমান? তার অর্থ কি?আপনি কি বুদ্ধিকে দেখেছেন?সে বলল, না।আপনি কি বুদ্ধিকে কথা বলতে শুনেছেন? সে বলল, না।আপনি কি তাঁকে শুকেছেন কিংবা তাকে ছুঁয়েছেন? সে বলল,না। এবার আস্তিক বলল,তাহলে আপনি কিভাবে বুদ্ধিকে বিশ্বাস করেছে? উত্তরে সে হতবাকহয়ে গেল। -(আকীদাতুল মুসলিমীন ১ম
খণ্ড, ১০৭ পৃ:)

[২] নাস্তিকদেরকে -ইমাম শাফিঈ (রহ:) এর
জবাব:-কিছু নাস্তিক ইমাম শাফিঈ (রহ.)
কে জিজ্ঞেস করেন যে, সৃষ্টিকর্তারঅস্তিত্বের প্রমাণ কী?তখন তিনি বলেন, তুত গাছের পাতাওমজা এবং ওর রং ও গণ্ধ আর ওর রং ও গন্ধ আর ওর প্রকৃতি তোমাদের কাছে একই রকম কি না? তাঁরা বলল, হ্যাঁ। এবার তিন বললেন, ওটাকে গুটিপোকা খায় ,ওর পেট থেকে রেশম বের হয়।ওটাকে মৌমাছি খায়, ওর পেট
থেকে মধু বের হয়। ওটাকে বকরি খায়,তার পেট থেকে বকরীরপায়খানা বের হয়। আর ওটাকেই হরিণওখায়। কিন্তু তার পেট থেকে মৃগনাভি তৈরী হয়।তাহলে তিনি কে? যিনি এত রকম
জিনিসকে একমাত্র প্রকৃতি থেকে তৈরী করেছেন?এর উত্তরে তারা সন্তুষ্টি হল এবং তাঁর
হাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করল। তাদের সংখ্যা ছিল ১৭ (সতের জন)। -(তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)

[৩] নাস্তিকদেরকে -ইমাম আবূহানিফা (রহ.) এর যুক্তি-ইমাম ফাখরুদ্দীন রা-যী (মৃত ৬০৬ হি:)তদীয় তাফসীরে লিখেছেন যে, ইমামআবূ হানিফা (রহ.) (মৃত ১৫০ হি:) নাস্তিকদের জন্য তলোয়ার স্বরূপ ছিলেন এবং নাস্তিকরাও
তাঁকে হত্যা করার বাহানায় থাকতো। একদিন ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) তাঁর মসজিদে বসে ছিলেন। হঠাৎ একদল নাস্তিক তাঁকে হত্যা করার জন্য উলঙ্গ তরবারী নিয়ে তাঁর কাছে হাজির
হল।তিনি তাদেরকে বললেন,তোমরা প্রথমে আমার একটি কথার জবাব দাও। তারপর তোমরা যা চাও তা কর। তারা বললল, হ্যাঁ ঠিক আছে।তাহলে আপনি আপনার কথা পেশ করেন। তিনি বললেন, তোমরা সেই ব্যক্তির ব্যপারে কি বলবে,যে তোমাদের এ কথা বলে,
আমি সমুদ্রে একটি জাহাজ দেখেছি।যার মধ্যে রকমারী মাল বোঝাই রয়েছে। সমুদ্রে ঝড়ো হাওয়া এদিক উদিক বয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তা সত্ত্বেও জাহাজটি একটুও এদিকে সেদিকে করতে পারছে না।বরং জাহাজটি সর্বদা সোজা চলে যাচ্ছে। অথচ ওর চালক কেউই নেই এবং দেখাশোনাকারীও কেউ নেই। এই ব্যপারটা কি জ্ঞানত:ঠিক, না বেঠিক?তখন তারা সবাই বলল, এ ব্যপারটা অন্ততবুদ্ধি গ্রহণ করে না। অতঃপর ইমাম সাহেব বললেন, সুবাহা-নাল্লাহ!কী আশ্চর্যের ব্যপার যে, সমুদ্রের বিনা নাবিকে একটি জাহাজের আপনা আপনি সোজা চলে যাওয়াকে বিবেকবুদ্ধি গ্রহণ করতে পারে না। অথচ এই বিশাল পৃথিবীর রকমারী ও ভিন্ন
ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একজন তদারকদারী ছাড়াও
তা কি করে চলছে? তখন তারা সবাই কেঁদে ফেলল এবং বলতে বাধ্য হল যে,আপনি সত্যই বলেছেন। অতঃপর তারা নাস্তিকতা থেকে তাওবা করল- (তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)।পরে তারা তাঁর হাতে ইসলামও কবুল করল- (আকা-য়িদে ইসলাম ইদরীস ২৩ পৃ:)।

[৪] নাস্তিকদেরকে- বিশিষ্ট তাবিঈ ইমাম জা’ফার সাদিক(রহ.) এর যুক্তি:-বিশিষ্ট তাবিঈ ইমাম জা’ফর আস সাদিক (মৃত ৮৪ হি:) এর সামনে এক নাস্তিক সৃষ্টকর্তা আল্লাহর অস্তিত্ব
অস্বীকার করে। তখন ইমাম জা’ফার তাকে বলেন,তুমি কখনো সমুদ্রে নৌকায় চড়েছো?
সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন,তুমি কখনো তাতে ভয়ে সম্মুখীন হয়েছো? সে বলল, হ্যাঁ। সে আরো বলল,একদিন ভীষণ ঝর উঠেছিল।
যা নৌকাটিকে ভেঙে ফেললো এবং মাঝিদের ডুবিয়ে মারলো। তখন আমি একটি তক্তায় শুয়ে পড়লাম।অতঃপর তক্তাটাও আমার হাত থেকে সরে গেল। তারপর সমুদ্রের ঢেউগুলো আমাকে ঝাপটা মারতে মারতে এক কিনারায় ফেলে দিল।
এবার ইমাম সাহেব বললেন,প্রথমে তো তোমার ভরসা ঐ নৌকা এবং ওর মাঝির উপরে ছিল,
তারপর ঐ তক্তাটির উপরে,হয়তো তা তোমাকে উদ্ধার করবে।তারপর এইসব যখন তোমার হাত
ছাড়া হয়ে গেল তখন তুমি নিজেকে নিশ্চয়ই মৃত্যুর হাতে সঁপে দিয়েছিলে?নাকি বাঁচার আশা করিছিলে?সে বলল তারপরেও আমি বাঁচার আশার করেছিলাম।তখন ইমাম সাহেব বললেন,
তাহলে তুমি কার কাছে বাঁচার আশা করেছিলে? সে চুপ হয়ে গেল।তিনি বললেন, ঐ মরণাপন্ন অবস্হায় তুমি যার কাছে আশা করেছিলে এবং যিনি তোমাকে ডুবে মরা থেকে বাঁচিয়েছন তিনিই আল্লাহ। নাস্তিকটি তখন তাঁর হাতে হাত রেখে ইসলাম কবুল করেন। -(তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)

[৫] এক চড়কাওয়ালী বুড়িকে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাতে সে তার চড়কির উদাহরণ দিয়েছিল।সে বলেছিল,যতক্ষণ চড়কি ঘুরাই,ততক্ষণ ঘুরে,নয়লে স্থির হয়ে যায়;তাহলে এ বিশ্ব চালাতে তো একজন সৃষ্টিকর্তা লাগবেই।(হক ও বাতিলের দ্বন্দ)

আসুন এবার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মুখে আল্লহর অস্তিত্বের কথা শুনিঃ

[১] ডোনাল্ড হেনরী পোটার বলেন, আমার বক্তব্য হলো,যদি এই ধারাবাহিক সৃষ্টি সমর্থিত থিউরী সমর্থন করতে হয়,তাহলে আমি অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আল্লহকে মেনে নিব।

[২]ফ্যান্সিস বেকন তিন শতাব্দী আগেই বলেছেন,সামান্য দর্শনজ্ঞান মানুষকে নাস্তিক করে আর গভীর জ্ঞান মানুষকে ধর্মের দিকে নিয়ে যায়।

[৩] মারলিন বুকস ক্রীডার বলেন,সাধারণ মানুষ হিসেবে এবং বিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও গবেষণায় জীবন উৎর্গকারী হিসেবে আল্লহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার মনে সন্দহের কোনো অবকাশ নেই।

[৪]ড.অস্কার লিও ব্রউয়ার বলেন,নাস্তিকতার অর্থ হচ্ছে দ্বন্দ আর যুদ্ধ।বৈজ্ঞানিক হিসেবে এর কোনটিই আমি চাই না।থিউরি হিসেবে আমি নাস্তিকতাকে অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত বলে মনে করি।

[৫] চিকিৎসাবিদ অলিভার বলেন,জ্ঞান যত বাড়তে থাকে,বিজ্ঞান ততই ধর্মকে ভ্রুকুটি করা থেকে বিরত হয়।

[৬] উইনচেস্টার বলেন,অনেকের কাছে বিজ্ঞান ও ধর্ম দুইটি বিরোধী বিষয় হলেও আমার কাছে তা নয়।

[৬] সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী নিউটন বলেন,বিশ্বের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর দিয়ে স্থান ও কালের হাজার হাজার বিপ্লব অতিক্রম করেছে।তা স্বত্বেও তাতে যে শৃঙ্খলা ও সুনিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হয়,তা একজন নিয়ন্ত্রক ছাড়া সম্ভব নয়।

♪♪দেখুন কীভাবে ধর্মগুরুরা আল্লহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন এবং আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীরা ঈশ্বর চেতনা অনুভব করতে পেরেছেন।তবুও কি নাস্তিকদের শিক্ষা হবে না!♪♪

% নাস্তিকদের বলছি নিজেদের উপর জুলুম করবেন না,সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য স্বীকার করুন %

“নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি কিছুই
যুলম করেন না। কিন্তু মানুষই নিজেদের
প্রতি যুলম করে থাকে।” -[সূরা ইউনুস: ৪৪]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s