Gallery

প্রসঙ্গঃ নারীরা কি পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্ট; বিচার-বিশ্লেষণঃ

প্রসঙ্গঃ নারীরা কি পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্ট; বিচার-বিশ্লেষণঃ
❑ ❐ নাস্তিকরা বলে তারা নারীদের খুবই সম্মান করে।তারা নাকি নারীবাদী। নারীর অধিকার আদায় সম্পর্কে তারা নাকি খুবই সক্রিয়।ইসলামে নারীদের অবমাননা করা হয়েছে,হাদিসে আছে নারীদের পাঁজরের হাঁড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।এর উত্তর দেওয়ার আগে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল? দু পায়ে হনুরা আজ পর্যন্ত নারীদের জন্য কথার ফুলঝুড়ি বাদে আর কি করেছে? নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য তারা আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু করেছে কি?এভাবে সমালোচনা করে কি ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব?আর করা গেলেও কিভাবে? নারীরা যদি পাঁজরের হাঁড় দ্বারা তৈরীই হয়,তাহলে এতে তাদের অবমাননা হয় কিরূপে?
❖ উক্ত হাদিস নিয়ে নাস্তিক হনুরা কিছুটা জালিয়াতিও করে, পরিপূর্ণ সত্য প্রকাশ করেও না।আগে আসুন আমরা হাদিসটি দেখে নিঃ
❖ ৪৮০৭ ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সেযেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার। (সহিহ বুখারী)
হাদিসটির কয়েকটি অংশ আবার আলাদা করে উল্লেখ করছিঃ
✔ তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে।
✔ তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে।
✔ তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে।
✔ তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার।
❖ আমি প্রথমেই বলেছিলাম নাস্তিকরা এ হাদিসে জালিয়াতি করে।এ হাদিসটি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে নারীদের সাথে আমাদের কিরুপ ব্যবহার করা উচিত।অথচ নাস্তিকরা কেবল ২ নং পয়েন্টটা উল্লেখ করে অথচ বাকি অংশগুলো দেয় না।হুমায়ুন আজাদ তার “নারী” বইটিতেও একই কাজ করেছে।আর একটা জালিয়াতি তারা করে তা হলো, উল্লিখিত হাদিসটি বুখারী শরিফের ৪৮০৭ নং হাদিস,অথচ বুখারী শরিফে ৪৮০৬ নং হাদিসটা তারা চাতুরতার সাথে গোপন করে যায়।নিচে হাদিসটি উল্লেখ করছিঃ
❖ ৪৮০৬ আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে। (বুখারী)
❖ নিশ্চয় হাদিস দুইটির মধ্যেকার পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন।
একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের মতো এবং আর একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্টি।এখন হাদিস দুইটির পক্ষে অনেকগুলি ব্যাখ্যা হতে পারে।আমি সেগুলো উল্লেখ করবো তবে তার আগে দেখে নি কুরআন কি বলে?
আগে বলে নি পাঁজরের হাঁড়ের প্রসঙ্গ খ্রিষ্টানধর্মগ্রন্ধ ও ইহুদি ধর্মগ্রন্থে আরো রঙচঙ মাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।এখন পাঁজরের হাঁড়ের কথা কেন বলা হল?
“এটা এভাবে বলা যায় যে, হাদিসটি দ্বারা মহিলাদের সাথে ব্যবহারের একটা স্কেল পাওয়া যায়।এখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশের কথা বলা হয়নি,যাতে নারীকে মাথায় চাপানো না হয়, পায়ের নিচের কোনো অংশের কথা বলা হয় নি,যাতে তাদের পদদলিত না করা হয়।তাদের পাঁজরের হাঁড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে; যা পুরুষের হৃদয়ের নিকটবর্তী।সত্রীর স্থান স্বামীর হৃদয়ে, তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তার ক্ষমতার অধিক চাপ সৃষ্টি করবে না,তার সাথে ইনসাফ করবে এটাই হাদিসটির মূল শিক্ষা।
❖ এখন দেখি কুরআন হযরত হাওয়া (আঃ) এর সৃষ্টি সম্পর্কে কি বলা হয়েছেঃ
সূরা নিসার এক নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﻧَﻔْﺲٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ
ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ ﻭَﺑَﺚَّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺭِﺟَﺎﻟًﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻭَﻧِﺴَﺎﺀً
ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺗَﺴَﺎﺀَﻟُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺣَﺎﻡَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺎﻥَ
ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺭَﻗِﻴﺒًﺎ
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর।যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন।যিনি তাদের দু’জন থেকে পৃথিবীতে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। সেই আল্লাহকে ভয় কর,যার নামে তোমরা একে অপরের
কাছে আবেদন কর। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (৪:১)
Allah Says in the Holy Quran Chapter 4 Surah Nisaa verse 1:
O mankind! Reverence your Guardian-Lord Who created you (all) from a single ‘nafs’ , and from it (the nafs) created his mate (Hawwa) , and from them twain scattered countless men and
women. Reverence Allah through Whom ye demand your mutual (rights), and (reverence) the wombs (that bore you): for Allah ever watches over you.
❖ কুরআনেও বলা হচ্ছে হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে;তবে কোন প্রক্রিয়ায় তা মহান আল্লহ উল্লেখ করেন নি।
❖ যুক্তিখন্ডনঃ
✪ হযরত হাওয়া (আঃ) পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়; তবে এখানে অবমাননার কি আছে বলতে পারেন?’কর্দমকে-ছাঁচে আকার দিয়ে,
শব্দকারী মাটি হতে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ [সুরা হিযর,আয়াত ২৬]আর হযরত হাওয়া (আঃ) কে যদি পাঁজরের হাঁড় থেকেই সৃষ্টি করা হয় তাহলে কাকে অবমাননা করা হল?হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হলো মাটি দিয়ে হযরত হাওয়া (আঃ) কে পাঁজরের হাঁড় দিয়ে; তাহলে এখানে অবমাননার মাপকাঠি কি? দেখে তো মনে হচ্ছে হযরত আদম (আঃ) কেই অবমাননা করা হয়েছে!(নাউজুবিল্লাহ)।কারণ আদম আঃ কে পচা কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।শয়তান যেমন তার সৃষ্টি আগুন থেকে বিধায় গর্ব করে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, ঠিক তেমনি নারীদের উসকে দিয়ে একই পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।সৃষ্টিকর্তা আমাদের এ থেকে রক্ষা করুন।
✪ হযরত হাওয়া (আঃ) ও পাঁজরের হাঁড় নিয়ে কিছু কথা প্রচলিত আছে।যেমনঃ নারীদের পাঁজরের হাঁড়ের সংখ্যা পুরুষের হাঁড়ের সংখ্যার চেয়ে একটি বেশি।এ কথাটি অযৌক্তিক।নারী-পুরুষের পাঁজরের হাঁড়ের সংখ্যা সমান।বাবার যদি এক আঙ্গুল কাটা থাকে; তার মানে এ নয় যে,সন্তানও এক আঙ্গুল কাটা বাদে জন্মাবে! এটা অযৌক্তিক।এ রকম কথা কুরআন হাদিসে কোথায় পাবেন না।
✪ আরেকটি প্রচলিত কথা যেমন হযরত আদম (আঃ) ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তার বাম পাঁজরের পিছন হতে হযরত হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।তারপর আদমের ঘুম ভেঙ্গে তাকে দেখলে তিনি আকৃষ্ট হোন এবং তার মধ্যে ভালবাসার সৃষ্টি হয়।এ কথাগুলো পুরোপুরি বাইবেলের; এটা বাইবেলের গল্প মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
And the L ORD God caused a deep sleep to fall upon Adam, and he slept: and he took one of his ribs, and closed up the flesh instead thereof; And the rib, which the LORD God had taken from man, made he a woman, and brought her unto the man.(Genesis 2:21-22 )
✪ ৪৮০৭ নং হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।পাঁজরের একটা কনসেপ্ট কুরআনেও আছে।সূরা তারিক এর ৫ থেকে ৭নং আয়াতে আল্লহ কি বলছেন দেখিঃ
ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻦِ ﺍﻟﺼُّﻠْﺐِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺮَﺍﺋِﺐِ ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ
ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ
অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু
থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্য থেকে।এবার আয়াতটি বিশ্লেষণ করা যাক। আল্লাহ এখানে মানুষকে তার সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করতে বলেছেন । মানুষ সৃষ্টি হয়েছে সবেগে স্খলিতপানি তথা বীর্য (Semen) থেকে।আল্লাহ বলেছেন এই বীর্য নির্গত হয় মেরুদন্ড ও পাজরের মধ্য থেকে।বিষ্ময়টা এখানেই, মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে বীর্য নির্গত হওয়া বলতে আসলে কি বুষায়?
যেখানে আমরা সবাই জানি বীর্য তৈরী হয় অন্ডকোষ( testis) থেকে।এই আয়াত টির ব্যাপারে যদি একজন ডাক্তার অথবা এম্ব্রায়লজীস্ট (Embryologist)কে জিজ্ঞাসা করা হয়তবে তারা মোটেও অবাক হবেন না। এর কারন এই আয়াত টির অর্থ বুঝতে হলে প্রয়োজন এনাটমি(Anatomy) আর এম্ব্রায়লজীর জ্ঞান।এখানে বলে রাখা প্রয়োজন বীর্য যে অন্ডকোষ( testis) থেকে তৈরী হয় তা আরবের লোকদের খুব ভালই জানা ছিল। কারন গবাদী পশুর Castration পদ্ধতি সে সময় বহুল প্রচলিত ছিল।আসুন আমরা দেখি অন্ডকোষে( testis) কিভাবে বীর্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হয়।
অন্ডকোষে( testis) বীর্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত রক্ত ও স্নায়ুর সংযোগ (Blood supply, Nerve supply)। অন্ডকোষের রক্ত সঞ্চালন হয় Testicular Artery নামক রক্ত
নালীকা দ্বারা যা লাম্বার lambar L2 লেভেল থেকে তৈরী হয় যা মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী একটি স্থান। ঠিক একই ভাবে অন্ডকোষের স্নায়ুর সংযোগ ( Nerve supply) আসে Paraaortic ganglia থেকে যা অবস্থান করে মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী একটি স্থানে। অর্থাৎ একথা পরীষ্কার যে অন্ডকোষের কাজ সম্পূর্ণরুপে নিয়ন্ত্রিত হয় এমন দুটি স্থান থেকে যাদের অবস্থান মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী একটি স্থানে।আরও মজার ব্যপার হচ্ছে অন্ডকোষের উপত্তিও কিন্তু মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী কিডনীর নিকটবর্তী একটি যায়গা হতে।এটি Genital ridge নামক স্থান থেকে তৈরী হয়ে ধীরা ধীরে অন্ডথলীতে(scrotum) নেমে আসে।
কাজেই আলোচনা থেকে একথা পরিস্কার যে অন্ডকোষের(testis) উৎপত্তি (Development) ও তার কাজ (Blood supply, Nerve supply) এমন একটি স্থান থেকে নিয়ন্ত্রিত যা কিনা মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মাঝে অবস্থান করে।
–এমনও তো হতে পারে হাদিসটি হাওয়া আঃ অনুরূপ কোনো স্থান হতে এরূপ কিংবা সমজাতীয় কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টির দিকে নির্দেশনা দিচ্ছে।
✪ আল্লহ আদম আঃ হতে হাওয়া আঃ কে সৃষ্টি করেছেন।কুরআন থেকে আমরা এরূপ জানতে পারি।
কোনো মানুষের শরীরে তার যমজ ভাই বা বোন টেরাটোমা নামক এক প্রকার টিউমার হিসেবে অবস্থান করতে পারে।সেই টিউমার একটি মানব শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন ভাবে তৈরী হয়ে থাকে,হতে পারে যে, পাঁজর সংলগ্ন কোনো স্থান হতে আল্লহ হযরত হাওয়া আঃ কে সৃষ্টি করেছেন।অর্থ্যাৎ আল্লহ তালা প্রথম পুরুষ আদম আঃ এর শরীরেই তার ভবিষ্যত্ব জীবন সঙ্গীনী বিবি হাওয়াকেও এমনি টেরাটোমা হিসেবে লুকিয়ে রেখেছিলেন; যাতে পূর্ণ মানব সৃষ্টির সকল উপাদান বর্তমান ছিল।কারণ আল্রহ তো বলছেনঃ যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন।(৪:১)
তারপর যখন সময় হলো তখন বিবি হাওয়াকে সেই টিউমার হতে বের করলেন।মহান আল্লহই এ বিষয়ে অবগত।তিনি তার ইচ্ছানুসারে সবই করতে পারেন।
✪ উপরে হাদিস দুইটিতে একটিতে পাঁজরের হাড় হতে সৃষ্টির করেছেন আরেকটিতে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের মতো।অনেক scholar এটার আক্ষরিক অর্থই মেনে নিয়েছেন।কারণ এ কথার স্বরুপ আজও অজানা।তবে অনেকে এটা মেনে নেন নি।তারা বলেছেন, এখানে পাঁজরের হাঁড় কথাটি সাংকেতিক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ হাদিসটিতে প্রথম অংশে বলা হচ্ছে নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর; আর শেষ অংশেও ঠিক একই নির্দেশনা।আর ৪৮০৬ হাদিসটি তো বলছেই পাঁজরের হাড়ের মতো।
আবার তারা বলছেন created from সৃষ্টি করা হয়েছে বলতে এটা জরুরি না যে,নারী সৃষ্টির উপাদান পাঁজরের হাড়।বরং এখানে তাদের প্রকৃতি বা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।এবং তাদের যুক্তি আরো শক্তিশালী হয় কুরআনের এ আয়াত দ্বারা- সূরা আম্বিয়ার ৩৭ নম্বর
আয়াতে বলা হয়েছে-
ﺧُﻠِﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﻣِﻦْ ﻋَﺠَﻞٍ ﺳَﺄُﺭِﻳﻜُﻢْ ﺁَﻳَﺎﺗِﻲ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺴْﺘَﻌْﺠِﻠُﻮﻥِ
( 37 )
“মানুষ দ্রুততাপ্রবণ সৃষ্টি।
“Man was created of haste (i.e.,
impatience).” [al-Anbiyaa’, 37]
এখানে বলা হচ্ছে man was created of haste.কিন্তু মানুষ তৈরীর উপাদান তো তা নয়।বরং এটা মানুষের প্রকৃতি বা ব্যবহার।সুতরাং সৃষ্টি মানে এটা নয় যে তা সৃষ্টির উপকরণ।আর যদি হয়েও থাকে তবে তা নারীর মর্যাদার জন্য হানিকর বলে মনে করি না।
মহান আল্লহ সুপরিকল্পনাকারী ও সুকৌশলী।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s