Gallery

মোবাইল ফোন : প্রয়োজনীয় মাসায়িল

মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ের একটি নতুন আবিষ্কার। এর কিছু ভালো দিক যেমন আছে তেমনি ক্ষতির দিকও রয়েছে। আর দশটা প্রয়োজনীয় জিনিসের মতো এরও প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার আপত্তিকর নয়, কিন্তু এখন যেভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মোবাইলের প্রয়োজনীয় দিকগুলোর তুলনায় এর যে ব্যাপক আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতির দিক অভিজ্ঞতায় এসে গেছে, বিশেষত এলম চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এর যে ক্ষতিকর প্রভাব, তার তালিকা মোটেই ছোটো-খাটো নয়। তবে বাস্তবতা এই যে, মোবাইলের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক হয়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নও আসছে। এজন্য এসব প্রশ্ন একত্র করে শরীয়তের দলীল ও নীতিমালার আলোকে তার জওয়াব প্রস্ত্তত করা এবং পাঠকবৃন্দের খেদমতে তা পেশ করা একটি প্রয়োজনীয় বিষয় বলে মনে হয়েছে। এ অনুভূতি থেকেই বর্তমান প্রবন্ধটি তৈরি হল। এ প্রসঙ্গে দু’টি বিষয়ে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তা হচ্ছে : ১. বেশ কিছু মাসায়িলে হাদীস, তাফসীর ও ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি সংযুক্ত হয়েছে। এগুলো মূলত কুরআন, হাদীস ও ফিকহে ইসলামীর ওইসব নীতিমালার উদ্ধৃতি, যার আলোকে এই সমাধানগুলো পেশ করা হয়েছে। কেননা, উল্লেখিত প্রাচীন উদ্ধৃতিগুলোতে স্পষ্টভাবে মোবাইল ফোনের উল্লেখ যে থাকবে না তা তো বলাই বাহুল্য। কিছু মাসায়িল এমনও আছে, যেগুলো অনেকের কাছেই স্পষ্ট বলে মনে হবে। তারপরও ওই মাসআলাগুলো এজন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব বিষয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন এসেছে। আর সকল বিষয় সবার সমানভাবে জানা থাকবে- এটাও অপরিহার্য নয়। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর ওই মাসয়িলগুলো বিশেষ কোনো বিন্যাস ছাড়াই পেশ করছি। আলোচনা সহজ করার উদ্দেশ্যে প্রশ্নোত্তরের আঙ্গিকটিই বহাল রাখা হয়েছে। ১. ভিডিও ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ক্রয় বিক্রয় প্রশ্ন : ‘মোবাইল’ ফোনেরই আধুনিক সংস্করণ। কিন্তু এ আবিষ্কার শুধু কথোপকথন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং মোবাইলের সাথে আজকাল গচ৩-৪, ক্যামেরা এবং ভিডিও, ইন্টারনেটসহ সবধরনের সুবিধা রয়েছে। মোবাইলের এ সুবিধাগুলো আজকাল ভাল- খারাপ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার হতে দেখা যায়। তাই প্রশ্ন দাঁড়ায় এ সকল সুবিধাযুক্ত মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় জায়েয কি না? উত্তর : ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। তবে অবৈধ কোনো কাজে তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৯১, আল-বাহরুররায়েক ৮/২০২, জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৪৬, বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ ১/৩৫৯ ২. সিম হস্তান্তর প্রশ্ন : সিম ক্রয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করা জরুরি। এখন কোনো ব্যক্তি নিজ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সিম ক্রয় করে কোম্পানীর অনুমোদন এবং পুনঃ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে সিম বিক্রি করা বৈধ কি না? উত্তর : বৈধ। ৩. চোরাই সেট ক্রয়-বিক্রয় প্রশ্ন : মোবাইলের এক্ষেত্রে কি করণীয়? উত্তর : যদি রিসিভকারী এবং কলকারী উভয়ে একই সাথে সালাম বলে তবে প্রত্যেককেই উত্তর দিতে হবে। কিন্তু কেউ যদি আগে সালাম দিয়ে দেয় তাহলে অপর পক্ষের জন্য উত্তর দেওয়া নির্ধারিত। সে ভুলে বা ইচ্ছাকৃত পাল্টা সালাম দিলে দ্বিতীয় ব্যক্তির সালাম উত্তর হিসাবে ধর্তব্য হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৫, রদ্দুল মুহতার ৬/৪৯৬, শরহুল মুহাযযাব ৪/৪৬৩ মসজিদে মোবাইলের ব্যবহার ২৭. প্রশ্ন : মসজিদের ভিতরে থেকে মোবাইলে কথাবার্তা বলা যাবে কি না? কী ধরনের কথাবার্তা বলা যাবে? উত্তর : মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এখানে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি করে বৈধ কথাবার্তাও নাজায়েয। অবশ্য ইবাদতের উদ্দেশ্যে এসে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি না হয় এভাবে বৈধ কথাবার্তা বলার অবকাশ আছে। তবে মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলাই উচিত। আর মসজিদে প্রবেশের আগেই রিংটোন বন্ধ করে দেয়াই আদব। বিশেষ করে কেউ ইবাদতে মগ্ন থাকলে বা জামাতের সময় হলে এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরী। -আল মাসনূ ফী মাআরিফাতিল হাদীসিল মাওজু’ ৯২, আলমুহাল্লা-৩/১৬০, শরহুল মুনইয়াহ ৬১০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২১,ফাতহুল বারী ১/৬৫৩, এলামুস সাজিদ ০৩২৬ এতেকাফে মোবাইলের ব্যবহার ২৮. প্রশ্ন : ইতিকাফ অবস্থায় মোবাইল রাখা যাবে কি না? ইতিকাফ অবস্থায় মোবাইলে কথাবার্তা বলার হুকুম কী? উত্তর : ইতিকাফকারীর জন্য পূর্ণ সময় বাইরের সকল ঝামেলা থেকে মুক্ত থেকে ইবাদতে নিমগ্ন থাকা এবং আল্লাহমুখী হয়ে থাকাই কাম্য। তাই অধিক প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফ অবস্থায় মোবাইলের ব্যবহার না করাই শ্রেয়। আর অন্য কোন মুসল্লী বা ইবাদতকারীর ক্ষতি না করে মোবাইলে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলতে পারবে। -আল বাহরুর রায়েক ২/৩০৪, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪১২ ভুল নাম্বারে ফ্লেক্সি হলে টাকা কে দিবে? ২৯. প্রশ্ন : ফ্ল্যাক্সিলোডে ভুল হলে কোনো কোনো সময় অন্যের মোবাইলে টাকা চলে যায়। এক্ষেত্রে এর ক্ষতিপূরণ কে দিবে? অনেক দোকানীকে এ টাকা জোরপূর্বক ফ্লেক্সি করতে আসা গ্রাহক থেকে আদায় করতে দেখা যায়। এটা জায়েয কি না? উত্তর : যে নাম্বারে ফ্লেক্সি করা হবে সে নাম্বারেই টাকা জমা হবে। ভুল নাম্বারে করা হলে ভুল নাম্বারে যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টাকা উদ্ধার না করা গেলে দেখতে হবে ভুল কার থেকে হয়েছে। সাধারণত ফ্লেক্সিকারী গ্রাহকের নাম্বার ভিন্ন খাতায় প্রথমে নোট করা হয়। সেটা কখনো দোকানী নিজে লিখে কখনো গ্রাহকের হাতে লেখায়। দোকানী লিখলে গ্রাহকের জন্য ঐ লিখা মিলিয়ে নেওয়া কর্তব্য। এরপর খাতার নোটকৃত নাম্বারে ফ্লেক্সি না করে ভুলে অন্য নাম্বারে করলে এর ক্ষতি দোকানীর নিজেরই। এ বাবদ গ্রাহক থেকে কিছুই নিতে পারবে না। হাঁ, গ্রাহক যদি স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু দিতে চায় তবে তা নিতে বাধা নেই। আর খাতায় যা নোট করা হয়েছে দোকানী যদি সে নাম্বারেই ফ্লেক্সি করে থাকে তবে এ ভুলের ক্ষতিপূরণ গ্রাহককে দিতে হবে। অবশ্য দোকানী খাতায় ভুল নাম্বার নোট করেছে এ কথা প্রমাণিত হলে এ ভুলের দায়দায়িত্ব দোকানীর, গ্রাহকের নয়। অজ্ঞাত স্থান থেকে ভুলে ফ্লেক্সি এসে গেলে ৩০. প্রশ্ন : ভুল ফ্লেক্সির মাধ্যমে কারো মোবাইলে টাকা এসে গেলে এ টাকা খরচ করা জায়েয হবে কি না? এ টাকার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি? এর মালিক তো জানা নেই। এ ব্যাপারে করণীয় কি? উত্তর : ভুলবশত ফ্লেক্সিলোড এসে গেলে তা ব্যবহার করা জায়েয হবে না। এ টাকা মূল মালিককে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে নাম্বার থেকে ভুলে এসেছে সে নাম্বার থেকে কল করে থাকে। এমনটি হলে তো মূল মালিকের সন্ধান মিলেই গেল। কিন্তু প্রেরকের সন্ধান যদি না পাওয়া যায় তবে প্রাপক যে অপারেটরের মোবাইল ব্যবহার করে সেই অপারেটরের সাহায্যে মূল মালিকের নাম্বার সহজেই জানা যায়। তা এভাবে যে, ফ্লেক্সিলোড মেসেজের শেষে প্রেরকের আইডি নাম্বার লিখা থাকে। মোবাইল অপারেটর থেকে ঐ আইডি নাম্বার-এর ঠিকানা এবং মোবাইল সংগ্রহ করা যাবে। অবশ্য এ অনুসন্ধানের জন্য যা খরচ হবে তা বাদ দিয়ে বাকী টাকা পাঠালেই চলবে। -আলবাহরুর রায়েক ৫/১৫২, ফাতাওয়া তাতার খানিয়া ৫/৫৮৫, বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৯৮ ভুল ফ্লেক্সিকারীর দেওয়া ছাড় গ্রহণ ৩১. প্রশ্ন : যার নাম্বারে ভুলক্রমে ফ্লেক্সি চলে গেছে দোকানী তাকে কিছু ছাড় দিয়ে বাকীটা পাঠাতে বলে। জানতে চাই, এ ছাড় গ্রহণ করা এ ব্যক্তির জন্য জায়েয হবে কি না? উত্তর : এ ছাড় যদি সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেয় তবে তা নেওয়া জায়েয। কিন্তু ছাড় না দিলে বাকিটাও পাঠাবে না এ আশংকা করে যদি কিছু ছাড় দিতে চায় তবে তা গ্রহণ করা যাবে না। তাই সন্তুষ্টচিত্তে দিচ্ছে কিনা তা যাচাই করে নেয়া প্রয়োজন। -আলবাহরুর রায়েক ৩/১৫৪, আল মাবসূত সারাখসী ১১/১০, আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮০, তাহতাবী আলাদ্দুর ২/৫০২ ভুল ব্যালেন্স ৩২. প্রশ্ন : কোনো কোনো সময় কোম্পানীর কম্পিউটারের ভুলের কারণে মোবাইলে ভুল ব্যালেন্স দেখায়। টাকা কম থাকলে বেশি দেখায়, আবার ব্যালেন্স না থাকলেও ভুলে ব্যালেন্স উঠে থাকে। কখনো ব্যলেন্সে কোনো টাকা দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু অন্যের কাছে আউট গোয়িং কল হয়। এই সুযোগ পেয়ে অনেকে অনায়াসে ব্যবহার করে থাকে। এটা জায়েয হবে কি না? যদি জায়েয না হয় তবে এভাবে ব্যবহৃত বিল আদায়ের উপায় কি? এটাকা কি কোম্পানীকেই দিতে হবে? নাকি সাদকা করে দিলে চলবে? উত্তর : প্রশ্নোল্লিখিত ক্ষেত্রে নিজের জমা টাকার বেশি খরচ করা জায়েয হবে না। বরং এ ভুলের কথা কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে ফোন করে অবহিত করা জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে নিজের ব্যালেন্সে জমা টাকার অতিরিক্ত খরচ করে থাকলে এটিও কাস্টমার কেয়ারে অবহিত করতে হবে। যেন তারা তত টাকা ব্যালেন্স থেকে কেটে নেয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কলের সমপরিমাণ টাকা ব্যালেন্স থেকে কেটে নিলেই দায়মুক্ত হয়ে যাবে। যেহেতু কোম্পানীকে ব্যবহৃত কলের বিল পৌঁছানো সম্ভব তাই এটাকা সাদকা করা যথেষ্ট নয়। -আলবাহরুর রায়েক ৮/১০৯, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৭২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৭৯ নির্ধারিত বিলের বেশি চার্জ করলে ৩৩. প্রশ্ন : মোবাইল কোম্পানী থেকে যে চার্জ ঘোষণা করা হয় কোনো কোনো সময় ঘোষিত নির্ধারিত বিল থেকে বেশি কেটে নেয়। বা পোষ্ট পেইডে বেশি বিল করে। এটা জায়েয কি না? এ ক্ষেত্রে করণীয় কি? উত্তর : প্রতিশ্রুত বিলের বেশি নেওয়াও জায়েয হবে না। এমনটি হলে কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ করতে হবে। কোম্পানী কর্তৃপক্ষ এ ভুল জানতে পারলে তা শোধরে নেওয়া জরুরি। মোবাইল ও যাকাত সিকিউরিটি ডিপোজিটের যাকাত ৩৪. প্রশ্ন : পোষ্ট-পেইড মোবাইলে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি বিল করলে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অবশ্য মোবাইল কোম্পানীর কাছে অতিরিক্ত টাকা সিকিউরিটি হিসাবে জমা রাখলে নির্ধারিত পরিমাণ বিলের সুযোগ থাকে। এক্ষেত্রে সাধারণ বিলের বেশি হলেও লাইন বিচ্ছিন্ন করে না। এছাড়া বিদেশে গিয়েও এই নাম্বারে রোমিং সুবিধা পাওয়ার জন্যও সিকিউরিটি জমার প্রয়োজন হয়। খরচের উদ্বৃদ্ধ সিকিউরিটি ডিপোজিটের জমাকৃত টাকার যাকাত দিতে হবে কি না? উত্তর : হাঁ, খরচের অতিরিক্ত সিকিউরিটি ডিপোজিটের এ টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ। নেসাবের মালিকের জন্য এ টাকার যাকাত দিতে হবে। কেননা, এটাকা সে চাইলে ক্যাশ করতে পারে। এটি অন্যান্য জমার মতই। – আলবাহরুর রায়েক ২/২০২ ও ২০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৪ ব্যালেন্সে অবস্থিত টাকার যাকাত ৩৫. প্রশ্ন : যাকাতের বছরের শেষদিন যদি প্রি-পেইড মোবাইলের ব্যালেন্সে টাকা থাকে তবে এটাকার যাকাত দিতে হবে কি না? উত্তর : প্রি-পেইড মোবাইলের ব্যালেন্সে যে টাকার অংক দেখা যায় এটা মূলত টাকা নয়। বরং ঐ টাকার সমপরিমাণ আউটগোয়িং সেবা। আর ব্যালেন্সে অবস্থিত টাকা যেহেতু মূলত টাকা নয় বরং ক্রয়কৃত একটি সেবা পণ্য। যা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তাই অন্যান্য ব্যবহৃত সম্পদের ন্যায় ব্যালেন্সে অবস্থিত সম্পদ-এর যাকাত দিতে হবে না। -হেদায়া ১/১৮৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৪৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২ ৩৬. প্রশ্ন : ফ্লেক্সি ব্যবসায়ীদের জন্য আগে কোম্পানীর নির্দিষ্ট স্থানে টাকা জমা দিতে হয়। এরপর এ থেকে ধীরে ধীরে গ্রাহকের নিকট ফ্লেক্সি বিক্রি করতে পারে। জানতে চাই ব্যবসায়ীরা ফ্লেক্সি বাবদ যে টাকা জমা দেয় তা ক্যাশ হওয়ার আগেই যদি যাকাতের বর্ষ পূর্ণ হয়ে যায় তবে ব্যবসায়ীকে এ বাবদ জমা টাকার যাকাত দিতে হবে কি না? যদি দিতে হয় তবে জমাকৃত টাকা এবং এর উপর সম্ভাব্য লাভ উভয়টিরই যাকাত আসবে নাকি শুধু জমা টাকার উপর? উত্তর : ফ্লেক্সি বাবদ দেওয়া টাকার মধ্যে যা জমা আছে সে টাকার যাকাত দিতে হবে। কিন্তু এ টাকারও ফ্লেক্সি বিক্রি করলে যে লাভ হবে তার যাকাত এখন দিতে হবে না। কারণ, সে লাভ তো এখনো হয়নি। মোবাইল ও নামায ৩৭. প্রশ্ন : অনেকে বলে মসজিদে প্রবেশের আগেই নাকি মোবাইলের রিং বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। আসলে কি তাই? যদি কেউ রিং বন্ধ করে দিয়ে শুধু ভাইব্রেশন দিয়ে রাখে তাতে কোনো ক্ষতি আছে কি না? উত্তর : ‘নামায’ অন্য সকল ইবাদত থেকে ভিন্ন ধরণের ইবাদত। এ ইবাদতটি হল সরাসরি আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজিরা দিয়ে তাঁর মহান স্বত্ত্বার সামনে দন্ডায়মান হয়ে তাঁর সাথে কথোপকথনের এক অপূর্ব মুহূর্ত। এ কারণেই নামায অবস্থায় একাগ্রতা ও খুশুখুযুর প্রতি যেভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, অন্য কোনো ইবাদতের বেলায় তেমনটি করা হয়নি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘ঐ সকল মুমিন সফলকাম, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। -সূরা মুমিনুন ১-২ তাই মসজিদে প্রবেশের আগেই মোবাইল একেবারে বন্ধ না করলেও অন্তত রিংটোন বন্ধ করে দেওয়া আবশ্যক। কারণ, মসজিদে রিং বেজে উঠলে নামাযীদের খুশুখুযু নষ্ট হবে। আর নামাযের উদ্দেশ্যে প্রবেশকারীর জন্য মোবাইলে ভাইব্রেশন দিয়ে রাখা ঠিক নয়। কারণ, ভাইব্রেশন দিয়ে রাখলেও কল আসলে নামাযীর মনোনিবেশ নষ্ট করে। এতে অন্যের নামাযের ক্ষতি না হলেও নিজের নামাযের খুশুখুযু নষ্ট হয় বটে। তাছাড়া মোবাইলটি তখন পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর শরীরে স্পর্শ করলে তারও নামাযের একাগ্রতা নষ্ট হবে। তাই ভাইব্রেশন দিয়ে রাখাও ঠিক নয়, বরং হয়ত সাইলেন্ট করে রাখবে, কিংবা একেবারে বন্ধ করে দিবে। নামায অবস্থায় রিং বেজে উঠলে ৩৮. প্রশ্ন : কোনো কারণে যদি নামাযের আগে মোবাইলের রিং বন্ধ করা না হয় আর নামায পড়াবস্থায় রিং বেজে উঠে তখন করণীয় কি? নামাযে থেকে রিং বন্ধ করে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না? নামায নষ্ট না করে রিং বন্ধ করার কোনো সুযোগ থাকলে বিস্তারিত জানতে চাই। এ ছাড়া কিভাবে বন্ধ করলে নামায ভাঙ্গে বা ভাঙ্গে না তাও জানাবেন। উত্তর : যদি জামাত চলাকালীন কোনো মুসল্লীর মোবাইল বেজে ওঠে তাহলে সে ক্ষেত্রে করণীয় ও লক্ষণীয় বিষয়সমূহ হল নিম্নরূপ : এক হাত দ্বারা রিং বন্ধ করা ক. দুই হাত ব্যবহার না করে নামাযের আপন অবস্থাতে থেকেই এক হাতের সাহায্যে মোবাইল পকেটে রেখেই কোনো বাটন চেপে রিং বন্ধ করে দিবে। আর পকেট থেকে বের করার প্রয়োজন হলেও এক হাত দ্বারাই করবে। মোবাইল বের করে পকেটের কাছে রেখেই না দেখে দ্রুত বন্ধ করে পকেটে রেখে দিবে। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নামাযে প্রয়োজনে এক হাত কোনো কাজে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। যেমন, টুপি ওঠানোর জন্য, জামার হাতা নামানোর জন্য, সিজদার স্থানের কংকর সরানোর জন্য, শরীরের কোন স্থান বিশেষ প্রয়োজনে চুলকানোর জন্য ইত্যাদি। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৬৪, শরহুল মুনিয়াহ ৪৪৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২৯, রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪, শরহে নববী ১/২০৫ এক হাত দ্বারা দেখে বন্ধ করা খ. এক হাত দ্বারা বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করা যাবে না। কারণ, এমনটি (করলে যদিও দুই হাত ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু মোবাইল দেখে দেখে বন্ধ করা অবস্থায় এ ব্যক্তিকে কেউ দেখলে সে নামাযে আছে বলে মনে করবে না।) আর নামায অবস্থায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নামায ভেঙে যায়। তাই নামায অবস্থায় মোবাইল দেখে দেখে বন্ধ করার কোন সুযোগ নেই। -রদ্দুল মুহতার ১/২৬৪-২৬৫, আলবাহরুর রায়েক ২/১১-১২ দুই হাত দ্বারা বন্ধ করা গ. নামাযে মোবাইল বন্ধের জন্য একসাথে দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। যদি এক সাথে দুই হাত ব্যবহার করে তবে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। রিং বন্ধের জন্য সিজদা থেকে উঠে গেলে ঘ. সিজদাবস্থায় রিং বেজে উঠলে কেউ কেউ সিজদা থেকে প্রায় বসে গিয়ে মোবাইল বের করে বন্ধ করে থাকে। অথচ তখনো ইমাম-মুসল্লী সকলেই সিজদাতেই থাকে। নামাযের এ অবস্থা থেকে মোবাইল বন্ধের জন্য বসে যাওয়া অতঃপর মোবাইল বন্ধ করাতে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় ব্যয় না হলেও নামায ভেঙ্গে যাবে। কারণ, যেখানে দুই হাতের ব্যবহারকেই নামায ভঙ্গের কারণ বলা হয়েছে সেখানে পুরো শরীরকে নামাযের অবস্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে নামায ভঙ্গের কারণ হবে। এ ছাড়া এ অবস্থায় কোনো আগন্তুক তাকে দেখলে সে নামাযে নেই বলেই মনে করবে। এটিও আমলে কাসীরের অন্তর্ভুক্ত। যা নামায নষ্টকারী। নামাযে একাধিকবার রিং বন্ধ করা ৩৯. প্রশ্ন : নামাযে একাধিক বার রিং বন্ধ করার পর আবার রিং বেজে উঠলে তা বন্ধ করতে পারবে কি না? এভাবে কতবার পর্যন্ত বন্ধ করার সুযোগ আছে? উত্তর : তিনবার বিশুদ্ধভাবে ‘সুবহানা রাবিবয়াল আযীম’ বা ‘সুবহানা রাবিবয়াল আ’লা’ বলা যায় এ পরিমাণ সময়ের ভিতর উপরন্তু দুইবার পর্যন্ত এক হাতের সাহায্যে উপরোক্ত ‘ক’ তে উল্লেখিত নিয়মে রিং বন্ধ করা যাবে। এ সময়ের ভিতর দুইবারের বেশি বন্ধ করা যাবে না। যদি করে তবে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। হাঁ, একবার বা দুই বার বন্ধ করার পর তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্বে আবার রিং বেজে উঠলে তখন বন্ধ করা যাবে। মোটকথা তিন তাসবীহ বলা যায় এ সময়ের ভিতর তিনবার রিং বন্ধের জন্য এক হাতও ব্যবহার করা যাবে না। এতে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২৯, রদ্দুল মুহতার ১/৬২৫, আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৪১৮-৪১৯ মোবাইল বন্ধের জন্য দুই হাত ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ৪০. প্রশ্ন : মোবাইল প্যান্টের পকেটে থাকলে তা বের করে বন্ধ করার জন্য দুই হাত ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তদ্রূপ ফোল্ডিং সেট হলেও রিং বা ফোন বন্ধ করতে কখনো কখনো দুইহাত ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। অথচ দুই হাত ব্যবহার করলে নামায ভেঙ্গে যায়। তাই এক্ষেত্রে কি নিজের নামায নষ্ট করে হলেও রিং বন্ধ করবে? না কি মুসল্লীদের নামাযে বিঘ্ন হলেও নিজের নামায নষ্ট করা বা ছেড়ে দেওয়া যাবে না? সঠিক সমাধান কি? কেউ কেউ এক্ষেত্রে মুসল্লীর নামায ছেড়ে দেওয়া বা নামায নষ্ট করার অনুমতি দেয় না। বরং এ পরিস্থিতিতেও নামায নষ্ট করা অবৈধ বলে। উত্তর : নামাযে খুশুখুযুর গুরুত্ব অনেক বেশি। কোন নামাযীর মল-মূত্রের বেগ হওয়ার দরুণ খুশুখুযু বিঘ্নিত হলে তার জন্য নামায ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফিকহের কিতাবাদিতে এ ক্ষেত্রে নামায ছেড়ে দেওয়াকে উত্তম বলা হয়েছে। কেউ কেউ ওয়াজিবও বলেছেন। তাহতাবী আলাল মারাকী-১৯৮, হিন্দিয়া ১/১০৭, আল বাহরুল রায়েক ১/২৮৭, রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৪, তাহলে নামায অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে যার মোবাইল শুধু তার নামাযেরই বিঘ্ন ঘটায় না বরং আশপাশের মুসল্লীদেরও খুশুখুযু বিঘ্নিত হয়। সুতরাং এক্ষেত্রে নামায নষ্ট না করে বন্ধ করা সম্ভব না হলে নামায ছেড়ে দিয়ে হলেও মোবাইল বন্ধ করা জায়েয তো বটেই বরং এমনটি করাই কর্তব্য। আর রিংটোন যদি গান বা মিউজিকের হয় তবে এর খারাবিতো আরো অধিক। সুতরাং এক্ষেত্রে নামায ছেড়ে দেওয়া না জায়েয হওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নোক্ত কথাটি ঠিক নয়। সুতরাং এ ধরণের পরিস্থিতিতে নামাযে থেকে উপরোক্ত (৩৮ নং প্রশ্নোত্তরের ‘ক’ তে উল্লেখিত) নিয়ম অনুযায়ী একহাত দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হলে তাই করবে। কিন্তু তা সম্ভব না হলে নিজের নামায ছেড়ে দিয়ে হলেও রিং বন্ধ করে দিবে। অতঃপর মাসবুকের ন্যায় আবার নতুন করে জামাতে শরীক হবে। -রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৫ ৪১. প্রশ্ন : মোবাইলের মেমোরি কার্ড এবং ডাটা ক্যাবল ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয কি না? ডাটা ক্যাবল দ্বারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট- এর সাহায্যে বৈধ এবং অবৈধ ও অশ্লীল বস্ত্ত মোবাইলে নেওয়া হয়। আর মোবাইলের মেমোরি কার্ডে অডিও, ভিডিও এবং সকল প্রকার রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়। এর ক্রয়- বিক্রয় জায়েয কি না? উত্তর : মেমোরি কার্ড এবং ডাটা ক্যাবল এ দুটি বস্ত্তর ব্যবহারক্

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s