Gallery

নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানঃ এক অবশ্যম্ভাবী সংঘাত

নাস্তিকতা (Atheism) হলো একটি দর্শন, যে দর্শনে ঈশ্বরকে বা তার সত্তা ও অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়।
দিন দিন মুক্তচিন্তা,সংশয়বাদী চিন্তাধারার কারণে নাস্তিক্যবাদের প্রসার ঘটছে।বর্তমান বিশ্বে ২.৩% মানুষ নিজেকে নাস্তিক বলে স্বীকৃতি দেয়,পশ্চিমাদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি।তবে বর্তমানে মুসলিমরাও এই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে তবে অবশ্যই তা ব্যক্তি স্বার্থে।বিগত ২০-২৫ বছরে বিজ্ঞান ও দর্শনের ক্ষেত্রে পৃথিবী অনেক দূরে এগিয়ে গিয়েছে।এর ফলে নাস্তিকতাবাদ বা নিরীশ্বরবাদ এর কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে অনেকটা অবধারিতভাবে।

নিরীশ্বরবাদ তথা আল্লহকে অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ধারণা প্রাচীনকাল থেকেই মানবসমাজে ছিল।এর সত্যিকার উথান শুরু হয়েছিল মূলত অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে।পৃথিবীর আদিকাল থেকে অস্তিত্বশীল এবং অনাদি ধারণা নিয়ে নাস্তিক্যবাদের শুরু।পরবর্তীতে ২০০৪ সালে স্যাম হ্যারিসের “দি ইন্ড অব ফেইথ:রিলিজন,টেরর,এন্ড দ্যা ফিউচার অব রিলিজন” বইয়ের মাধ্যমে নব নাস্তিক্যবাদের সূচনা হয়।

নাস্তিকদের যুক্তির মূল হাতিয়ার হলো বিজ্ঞান।তাহলে দেখা যাক বিজ্ঞান ও নাস্তিকতা কতটা সম্পর্কিতঃ

নাস্তিকদের পক্ষে সবচেয়ে বড় সমর্থনটি এসেছিল চার্লজ ডারউইনের কাছ থেকে।তার তত্ত্বটি কতটা সত্যি তা বর্তমানে পৃথিবীর মানুষ সবাই জানে অযথা সময় নষ্ট করছি না।ডারউইন সৃষ্টির ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর বিপরীতে বিবর্তন তত্ত্ব প্রদান করেন।যে প্রশ্নটি নাস্তিকদের আজীবন বিব্রত করে তা হলো: পৃথিবীতে কীভাবে মানুষ ও জীবজন্তুর আবির্ভাব ঘটেছে? তারা ঘোষণা দিল যে,বিশ্বজগতের কোনো শুরু নেই,অনাদিকাল থেকেই অস্তিত্বশীল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।তারা পরিবেশের এই সুন্দর শৃঙ্খলা ও ভারসাম্যকে স্রেফ ঘটনাচক্র বলে উড়িয়ে দিল।তারা ডারউইনের উপর ঈমান আনল।তারা ঘোষণা দিল অসংখ্য প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ ডারউইনিজম দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
তবে পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি নিরশ্বরবাদের ভিত্তি নড়বড়ে করে দিল।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কলার প্যাট্রিক গ্লাইন তার God:The Evidence,The Reconciliation Of Faith And Reason In Post-Secular World- শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেনঃ
“প্রাথমিক পর্যায়ে আধুনিক চিন্তাবিদরা সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে যে সব অনুমান ও ভবিষ্যতবাণী করেছিল তার প্রায় সবগুলোই বিগত দুই শতকে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।তারা ভেবেছির বিজ্ঞান আরো বিশৃঙ্খল ও যান্ত্রিক হিসেবে প্রমাণ করবে, কিন্তু হলো ঠিক উল্টো,বিশ্বজগতে এক আশ্চর্য শৃঙ্খলা আবিষ্কার করল বিজ্ঞান যা এক অকল্পনীয় পরিকল্পনা তথা “পরিকল্পনাকারীর” প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে।”
নাস্তিক বা বস্তুবাদী দর্শনের ভিত্তি হিসেবে এতদিন অবাধে উপস্থাপন করা হত বিজ্ঞানকে;কিন্তু বর্তমানে তার উল্টোয় ঘটছে।

জেরাল্ড শ্রোফার এর The Hidden Face Of God গ্রন্ধের উপর লেখা এক পর্যালোচনামূলক নিবন্ধে ক্রাইস ক্রিস্টেনসেন লিখেছেন,”গবেষণাগার থেকে ও বিভিন্ন পর্যালোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ব্যাখ্যা করতে বস্তুবাদ অক্ষম।”

বিশ্বতত্ত্ব শাখা ছিল নাস্তিকদের উপর একটি বড় আঘাত।জার্মান দার্শনিক কান্ট যিনি বিশ্বজগতকে বস্তুবাদের আলোকে ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং ঘোষণা দিয়েছিলেন-“বিশ্বজগত অনাদি ও অনন্ত এবং কোনো কিছুই এর বাইরে নয়।”
তবে কান্টের এই নীতি বানচাল হয়ে যায় বিগ-ব্যাং তত্ত্বের আবিষ্কারের পর।জ্যোতির্বিদ এডইন হাবল লক্ষ্য করেন যে,বিশ্বজগতের গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।সুতরাং বিশ্বজগত এক সময় একটি পয়েন্টে ছিল।বিশ্বজগত যে বিন্দু বা পয়েন্ট হতে সৃষ্টি হয়েছে,সেটির মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ছিল অসীম এবং ভর শূন্য।যা বস্তুবাদের মূলনীতিকে ধ্বংস করে দেয়।

আল্লহ অকারণে কোনো কিছু সৃষ্টি করেন নি।কুরআনে আছে-” আসমান ও জমিনের মাঝখানে সবকিছু অকারনে সৃষ্টি করি নাই,অবিশ্বাসীরাই কেবল ধারণা পোষণ করে।(৩৮:২৭)।এলোমেলো বিশ্বজগত যে বস্তুবাদীদের যে ধারণা তা বিজ্ঞানও সমর্থন করে না।অর্থ্যাৎ নাস্তিকতা হলো বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক।

অনেক বিজ্ঞানী আছেন যারা ঈশ্বরের ধারণাকে উদারভাবে মেনে নিয়েছেন।রবার্ট গ্রিফিথস বলেছেন,” বিতর্কের জন্য আমার যখন নাস্তিকের প্রয়োজন হয় তখন আমি দর্শন বিজ্ঞানে যাই; কারণ এক্ষেত্রে পদার্থ বিজ্ঞান আমাকে কোনো সাহায্য করে না।”
স্রোয়েবার তার গ্রন্ধে বলেছেন, ” বিজ্ঞান সম্ভবত এমন সিদ্ধান্তে উপনিত হতে যাচ্ছে যা তথ্য,জ্ঞান বা ধারণার বহিঃপ্রকাশ।”এ জ্ঞান এমনকি এক সর্বজ্ঞ জিনিস যা বিশ্বজগতে পরিব্যপ্ত।” তিনি আরো বলেছেন,”আরো সম্ভবত বস্তুজগতের সাথে আধ্যাত্নিক জগতের মিল প্রত্যক্ষ করছি।”

গ্লাইন বলেছেন,”নিখাঁদ বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাত্তিকভাবে নয়,ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও ব্যর্থ।
নাস্তিকতায় কোনো শান্তি নেই,কেবল হতাশা।ধর্মের সরল পথই কেবল শান্তির পথ।বেনসন কোনো ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না,তিনি গবেষষণা করে প্রমান পান যে,স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ও প্রার্থনা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর যতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে আর অন্য কিছুতে ফেলে না।ধর্মের পথই হলো সরল পথ,শান্তির পথ,কিন্তু এই নাস্তিকরা তা বুঝে না।

নাস্তিকদের মূল ভিত্তিই ছিল বিজ্ঞান,কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানও তা সমর্থন করে না।গ্লাইন তার গ্রন্ধে বরেছেন,” গত বিশ বছরে আমারা বিজ্ঞানের এমন তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য প্রমাণ পেয়েছি যা দীর্ঘকাল ধরে প্রভাব বিস্তার করা ধর্মহীন বিশ্বদর্শনকে গুড়িয়ে দেয়।”(God;The Evidence…)

দ্রুত আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করতে চলেছি যে,যুগটা হবে সম্পূর্ণভাবে নাস্তিকতামুক্ত।আজো যারা নিজেদের স্রষ্টা সম্পর্কে অজ্ঞ ও বেখবর পড়ে আছে,ওই সময় তারাও বিশ্বাসের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় লাভ করবে।ইনশাআল্লহ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s