Gallery

সাহাবায়ে কেরামগণ (রাযি.) সত্যের মানদন্ড

¤ কুরআন দ্বারা প্রামাণিতঃ

১. “আল্লাহ! আমাদেরকে সেই সিরাতে মুস্তাকীমে পরিচালিত কর, তোমার অনুগ্রহ ভাজনরা যে পথে চলেছে। তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি তোমার অভিসম্পাত নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
(সূরায়ে ফাতিহাঃ ৬,৭)

আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী “মুবদাল মিনহু” আর “বদল” এর মধ্য থেকে “বদল”টা বেশী প্রসিদ্ধ হয় এবং “বদল”টাই উদ্দেশ্য হয়।
সে হিসেবে আলোচ্য আয়াতের দ্বারা “সিরাতে মুস্তাকিম” উদ্দেশ্য। যা নির্ধারিত হয়েছে অনুগ্রহ ভাজনদের নির্বাচনের ভিত্তিতে।
আর আয়াত সমূহের প্রকৃত মর্ম হল যে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে অনুগ্রহ ভাজনদের পথে পরিচালিত করুন। যে পথ “সিরাতুল মুস্তাকিম” খ্যাত। এতে সাব্যস্ত হল, কিতাবুল্লাহ স্বীয় মর্ম উপস্থানে রিজালুল্লাহ বা অনুগ্রহ ভাজনদের মুখাপেক্ষি।
আর এ জামাতকে এড়িয়ে কুরআন-হাদীস অনুধাবণ করার পন্থাকে শরীয়ত কখনই অনুমোদন করে না।
আর সাহাবায়ে কেরামের (রাযি.) এর উত্তম আদর্শ হল “সিরাতে মুস্তাকিম” বা সরল পথ।
আর রাসূল (সাঃ) এর পরে সাহাবাদের আদর্শ ছাড়া উত্তম আদর্শ আর কার হতে পারে ?
সুতরাং তাদের পন্থা ছাড়া সব পন্থায় পথভ্রষ্ট ও গোমরাহী।

২. “বরং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের অন্তরেই (কুরআন) তো স্পষ্ট আয়াত। কেবল বে-ইনসাফরাই আমার আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে”।
(সূরায়ে আনকাবুতঃ ৪৯)

এই আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কেবল কুরআনের পান্ডুলিপিই যথেষ্ট নয়, বরং এ কুরআনের মর্ম, বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ যা অনুগ্রহ ভাজনদের অন্তরে আছে তা কবুল করে নেয়া আবশ্যক।

৩. “যে কেহ রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং যে ব্যক্তি সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিকে সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্য”।
(সূরায়ে নিসাঃ ১১৫)

অর্থাত্ রাসূল (সাঃ) এর প্রদত্ত অবিকল রাস্তাকে মু’মিনগণের এক জামাত তাঁদের কথা ও কাজের দ্বারা নির্ধারণ করবেন। আর এ নির্ধারিত রাস্তাকে পরিহার করার অর্থ হল, রাসূল (সাঃ) এর আনিত রাস্তা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। যা জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

৪. “জনসাধারণের জন্য শ্রেষ্ঠতম উম্মত হিসেবেই তোমাদের সৃষ্টি বা আত্মপ্রকাশ। তোমরা সত্ কাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাঁধা দিবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে।
(আল ইমরানঃ ১১০)

এ আয়াতে সাহাবায়ে কিরাম রাযি. এর অনুকরণকে ওয়াজিব এবং তাদের পরিচালিত পথকে মানুষের জন্য দলীল হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

৫. “লোকেরা যে ভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে তাদের মতই ঈমান আন”।
(বাকারাঃ ১৩)

এ আয়াতে সাহাবায়ে কিরামের ঈমানের মত ঈমান আনতে বলা হয়েছে।

৬. “অতএব তারা (মুনাফিকরা) যদি তোমাদের ঈমানের মত ঈমান আনে, তবে তারা হেদায়াত লাভ করবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হটকারিতার মধ্যে রয়েছে।
(বাকারাঃ ১৩৭)

এ আয়াতেও সাহাবাদের কথা বলা হয়েছে।

¤ হাদীসের আলোকেও প্রমাণিতঃ
১. “আমার উম্মত বহুসংখ্যক দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে শুধুমাত্র একটি দল হবে মুক্তিপ্রাপ্ত। অবশিষ্ট সকলেই হবে নরকবাসী। নিবেদন করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ জামাতটি কোন জামা’আত?
ইরশাদ করলেন- যারা আমি এবং আমার সাহাবাদের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত ও অবিচল রয়েছে”।
এ হাদীসে রাসূল (সাঃ) নিজের সাথে সাহাবাদের কথাও উল্লেখ্য করেছেন।

এর বুঝা যায় যে, রাসূলের রাস্তা উহাই যা সাহাবায়ে কিরাম রাযি. বর্ণনা করবেন। আর সাহাবাদের অনুসরণ ব্যতীত আমাদের নিজে নিজে কুরআন বুঝার কোন অনুমতি নেই।

২. “তোমাদের জন্য অত্যাবশ্যক হল, আমার তরীকা ও হেদায়াত প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের তরীকাকে শক্তভাবে আকঁড়ে ধরা। তোমরা উক্ত তরীকাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং মুখের নাওয়াজিয দাঁত দিয়ে তা শক্ত ভাবে আকঁড়ে ধর”।
(মেশকাতঃ ১/৩০)

আলোচ্য হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, রাসূলের সুন্নাত উহাই যা খোলাফায়ে রাশেদীন নির্ধারণ করেছেন।

৩. “এ ইলমকে বহন করবে প্রত্যেক পরবর্তী ন্যায়পরায়াণগণ পূর্ববর্তী ন্যায়পরায়ণগণ থেকে এবং তাঁরা মিটিয়ে দিবে সীমালঙ্ঘনকারীদের সমস্ত পরিবর্তন-পরিবর্ধন এবং ভ্রান্ত মতদর্শীদের মিথ্যা এবং অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা সমূহকে”।
(মিশকাতঃ ৩৬)

৪. “হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, আমার জানা নেই যে, আমি তোমাদের মাঝে কতদিন থাকব। আমার অবর্তমানে তোমরা আবূ বকর রাযি. ও উমর রাযি. এর অনুসরণ করে চলবে”।

হাফিয আবু নসর আল-কাস্সার এ প্রসঙ্গে বলেন যে, “উভয়কে আল্লাহ তা’য়ালা সুদীর্ঘ রজ্জ্যু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি এ দু’জনকে দৃড়ভাবে আকঁড়ে ধরবে, সে আকঁড়ে ধরল একটি মজবুত হাতলকে, যা ছিড়ে যাবে না।
(তিরমিযীঃ ২/২০৭)

এ হাদীসে হুজুর (সাঃ) তাঁর অবর্তমানে কুরআন হাদীসের অনুসরণের স্থলে, সাহাবাদের আদর্শ অনুকরণকে ফরজ নির্ধারণ করে দিয়ে তাঁদের সত্যের মানদন্ড হওয়ার উপর মোহর
স্থাপন করে দিয়েছেন।

৫. “তারকারাজী আকাশ রক্ষী, আর আমার সাহাবাগণ রাযি. আমার উম্মতের রক্ষী”।
(মুসলিমঃ ২/৩০৭-৩০৮)

এ হাদীসেও সাহাবাদের অনুকরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উপরোল্লেখিত আয়াত ও হাদীসগুলো থাকার পরেও কেউ যদি বলে যে, সাহাবারা সত্যের মানদন্ড না, তাহলে সে যেন এই সমস্ত আয়াত এবং হাদীসকেই অস্বীকার করলো।

আর যারা কুরআন-হাদীসকে অস্বীকার করে তাদের জন্য আল্লাহ তা’য়ালা অত্যান্ত কঠোর আযাব নির্ধারণ করে রেখেছেন।

তাই আসুন আমরা উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো মেনে নিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি লাভ করি।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।
আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s