Gallery

Unity of Ummah–উম্মতের ঐক্য !

বিসমিল্লাহীর রাহমানির রাহিম
মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান নূর
ছাত্রঃ আল-কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ (বি,এ অনার্স)
ধাপ সাতগাড়া বায়তুল মুকাররাম মডেল কামিল মাদরাসা, রংপুর ।
ফাজিল, বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদরাসা,রংপুর ।
Unity of Ummah–উম্মতের ঐক্য !
* ঈমানের পূর্বশর্ত হলো তাগুতকে অস্বীকার করা – সুরা বাকারা আয়াত ২৫৬ –

** অনুসরণ করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ্ যা দিয়েছেন তা, অন্যকিছু বা অন্য কাউকে নয় – সুরা আ’রাফ, আয়াত ৩

*** সুরা হাশর আয়াত ৭ – রাসুল যা দেন তা গ্রহণ করো, যা নিষেধ করেন তা বর্জন কর –

**** রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা রাঃগণের মাযহাব ছিল – সুরা বাকারা, আয়াত ২৮৫ –

১।সুরাআলেইমরান, আয়াত১০৩–আল্লাহ্ বলেছেনযেনআমরাসবাইআল্লাহ্ররজ্জুএইকুরানওইসলামকেসম্মিলিতভাবেআঁকড়েধরিএবংপরস্পরবিচ্ছিন্ননাহই।

২। সুরা নিসা, আয়াত ১১৫ – আল্লাহ্ বলছেন কুরান নাযিলের পর, রাসুল সাঃ-এর শিক্ষা পাওয়ার পর কারো ভিন্ন পথ অবলম্বনের কোন অনুমতি নেই –

৩। সুরা আহযাব, আয়াত ৩৬ – আল্লাহ্ ও রাসুল সাঃ-এর বিধান ও ফায়সালার পর কোন মু’মিনের পক্ষে এর বিরোধীতা করা বা অন্য পথে চলার অনুমতি নেই, করলে সে পথভ্রষ্ট হবেই –

৪। সুরা নিসা, ৫৯ আয়াতে আল্লাহ্ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে কী করবে হবে। সকল বিষয়ে আল্লাহ্ ও রাসুল সাঃ-এর আনুগত্য করতে হবে, বরং কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তখন অন্য কোন পথ তালাশ না করে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসুল সাঃ-এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

৫। সুরা আন’আম, আয়াত ১৫৯ – যারা ভিন্ন ভিন্ন মতের ভিত্তিতে দ্বীনকে ভিন্ন ভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত করেছে তাদের সাথে রাসুল সাঃ-এর কোন সম্পর্ক নেই, দায়িত্ব নেই –

৬। সুরা লোকমান, আয়াত ২১ – মাযহাব মানা, আল্লাহ্ ও রাসুল সাঃ-এর কথার বিপরীত বা বাইরের কোন কথা মানা হলো শয়তানের কাজ, শয়তানের আনুগত্য –

৭। সুরা আন’আম ১১৬ আয়াত – যারা অধিকাংশ লোকের দোহাই দেয়, এত এত লোক এইভাবে চলে, ইবাদাত করে, এত এত আলেম এই কথা বলে তারা কী ভুল? এর উত্তরে আল্লাহ্ বলেন –

৮। সুনান ইবনে মাজাহ্, ৬:১৫৩ জান্নাতে যাওয়ার পথ মাত্র একটিই –

৯। বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে রাসুল সাঃ কেবলমাত্র দু’টো জিনিসের কথা বলেছেন, সুতরাং আমাদেরকে শুধু এই দু’টোকেই অনুসরণ করতে হবে, অন্যকিছু নয়।
“আমি তোমাদের জন্যে দু”টো জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা এই দু’টো জিনিসকে আঁকড়ে ধরে থাকো তাহলে তোমাদেরকে কেউ গোমরাহ করতে পারবে না। সেই দু’টো জিনিস হচ্ছে ১। আল্লাহ্র কিতাব (ক্কুরআন) এবং ২। তাঁর রাসুলের সুন্নাহ্।“ – হাকীম
সুরা মায়িদা, ৪৮ আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন কেন তিনি সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে অন্তর্ভূক্ত করেন নি।

সুরা রুম ৩০/৩১-৩২ আয়াতে আল্লাহ্ বলেন-
‘….. তোমরা ঐ সকল মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা নিজেদের দ্বীনকে শতধা বিচ্ছিন্ন করে বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে খুশি’ (সূরা রুম ৩০/৩১-৩২)।
ভারতবর্ষের বিখ্যাত হাদীসশাস্ত্রবিদ ও হানাফীদের শিক্ষাগুরু যাকে হানাফীরা ভারতবর্ষের ‘ইমাম বুখারী’ বলে থাকেন সেই শাহ আলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহেলভী (রহ) বলেছেন – ‘ই’লাম আন্না না-সা-কা-নু ক্কারলাল মিআতির রা-বিআতি গাইরা মুজমিয়ীনা আলাত্-তাকলীদিল খা-লিস লিমায় হাবিন্ ওয়া-হিদিন্ বি-আইনিহী’
অর্থাৎ তোমরা জেনে রাখো যে, ৪০০ হিজরীর আগে লোকেরা কোন একটি বিশেষ মাযহাবের উপর জমে ছিল না’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ; ১৫২ পৃষ্ঠা)।
অর্থাৎ ৪০০ হিজরীর আগে নিজেকে হানাফী, শাফেরী বা মালেকী বলে পরিচয় দিতো না। আর চারশো হিজরীর অনেক আগে ইমামরা ইন্তেকাল করেন। ইমামদের জন্ম ও মৃত্যুর সময়কালটা একবার জানা যাক তাহলে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ইমামের নাম জন্ম মৃত্যু
আবু হানীফা (রহ) ৮০ হিজরী ১৫০ হিজরী
ইমাম মালেক (রহ) ৯৩ হিজরী ১৭৯ হিজরী
ইমাম শাফেয়ী (রহ) ১৫০ হিজরী ২০৪ হিজরী
আহমদ বিন হাম্বাল(রহ) ১৬৪ হিজরী ২৪১ হিজরী
বিশিষ্ট হানাফী বিদ্বান শাহ ওলিউল্লাহ দেহেলভী (রহ) এর কথা যদি মেনে নেওয়া যায় যে ৪০০ হিজরীর আগে কোনো মাযহাব ছিল না, এবং ৪০০ হিজরীর পরে মানুষেরা মাযহাব সৃষ্টি করেছে, তার মানে এটা দাঁড়ায় যে আবু হানিফার ইন্তেকালের ২৫০ বছর পর হানাফী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে।
ইমাম মালেকের ইন্তেকালের ২২১ বছর পর মালেকী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম শাফেরীর ইন্তেকালের ১৯৬ বছর পরে শাফেরী মাযহাব এবং ইমাম আহমাদের ইন্তেকালের ১৫৯ বছর পর হাম্বলী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থাৎ ইমামদের জীবিত অবস্থায় মাযহাব সৃষ্টি হয়নি।

হাদীস অনুসরনের ব্যাপারে ইমামদের মতামত এবং তাদের হাদীস বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তাদের কয়েকটি উক্তি দেওয়া হল। ইনশাল্লাহ্! মাযহাবী ভাইয়েরা এ থেকে অনেক উপকারিত হবেন।

আবু হানীফা (রহ):

১) যখন হাদীস সহীহ হবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব অর্থাৎ হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (ইবনুল আবেদীন ১/৬৩; রাসমুল মুফতী ১/৪; ঈক্কামুল মুফতী ৬২ পৃষ্ঠা)
২) কারো জন্য আমাদের কথা মেনে নেওয়া বৈধ নয়; যতক্ষন না সে জেনেছে যে, আমরা তা কোথা থেকে গ্রহন করেছি। (হাশিয়া ইবনুল আবেদীন ২/২৯৩ রাসমুল মুফতী ২৯, ৩২ পৃষ্ঠা, শা’ রানীর মীথান ১/৫৫; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩০৯)
৩) যে ব্যাক্তি আমার দলিল জানে না, তার জন্য আমার উক্তি দ্বারা ফতোয়া দেওয়া হারাম। (আন-নাফিউল কাবীর ১৩৫ পৃষ্ঠা)
৪) আমরা তো মানুষ। আজ এক কথা বলি, আবার কাল তা প্রত্যাহার করে নিই। – (ঐ)
৫) যদি আমি এমন কথা বলি যা আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের (সা) হাদীসের পরিপন্থি, তাহলে আমার কথাকে বর্জন করো। (দেওয়ালে ছুড়ে মারো)। (ঈক্কাবুল হিমাম ৫০ পৃষ্ঠা)
ইমাম মালেক (রহ):-
১) আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমার কথা ভুল হতে পারে আবার ঠিকও হতে পারে। সুতরাং তোমরা আমার মতকে বিবেচনা করে দেখ। অতঃপর যেটা কিতাব ও সুন্নাহর অনুকুল পাও তা গ্রহন কর। আর যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতিকুল তা বর্জন করো। (জানেউ বায়ানিল ইলম ২/৩২, উসুলুল আহকাম ৬/১৪৯)
২) রাসুলুল্লাহ (সা) এর পর এমন কোনো ব্যাক্তি নেই যার কথা ও কাজ সমালোচনার উর্ধে। একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা) ই সমালোচনার উর্ধে। (ইবনু আবদিল হাদী, ১ম খন্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা, আল ফতোয়া – আসসাবকী, ১ম খন্ড ১৪৮ পৃষ্ঠা, উসুলুল আহকাম ইবনু হাযম, ষষ্ঠ খন্ড ১৪৫ – ১৭৯ পৃষ্ঠা)।
৩) ইবনু ওহাব বলেছেন, আমি ইমাম মালেককে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার বিষয়ে এক প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি বলেন লোকদের জন্য এটার প্রয়োজন নীই। ইবনু ওহাব বলেন, আমি মানুষ কমে গেলে তাঁকে নিরিবিলে পেয়ে বলি ‘তাতো আমাদের জন্য সুন্নাহ। ইমাম মালেক বলেন, সেটা কি? আমি বললাম, আমর লাইস বিন সাদ, ইবনু লোহাইআ, আমর বিন হারেস, ইয়াবিদ বিন আমার আল-মা আফেরী, আবু আব্দুর রহমান আল হাবালী এবং আল মোস্তাওরাদ বিন শাদ্দাদ আল কোরাশী এই সুত্র পরম্পরা থেকে জানতে পেরেছি যে, শাদ্দাদ আল কোরাশী বলেন, আমি রাসুল (সা) কে কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করতে দেখেছি। ইমাম মালেক বলেন, এটা তো সুন্দর হাদীস। আমি এখন ছাড়া আর কখনো এই হাদীসটি শুনিনি। তারপর যখনই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখনই তাঁকে পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার আদেশ দিতে আমি শুনেছি। (মোকাদ্দামা আল জারাহ ওয়াত তা দীল- ইবনু হাতেমঃ ৩১- ৩২ পৃষ্ঠা)
ইমাম শাফেয়ী (রহ) :-
১) হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (মাজমু ১/৬৩; শা’রানী ১/৫৭)
২) আমি যে কথাই বলি না কেন অথবা যে নীতিই প্রনয়ন করি না কেন, তা যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর নিকট থেকে বর্ণিত (হাদীসের) খিলাপ হয়, তাহলে সে কথাই মান্য, যা রাসুল (সা) বলেছেন। আর সেটাই আমার কথা। (তারীখু দিমাশ্ক; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬৬,৩৬৪)
৩) নিজ ছাত্র ইমাম আহমাদকে সম্বোধন করে বলেন) হাদীস ও রিজাল সম্বন্ধে তোমরা আমার চেয়ে বেশি জানো। অতএব হাদীস সহীহ হলে আমাকে জানাও, সে যাই হোক না কেন; কুকী, বাসরী অথবা শামী। তা সহীহ হলে সেটাই আমি আমার মাযহাব (পন্থা) বানিয়া নেবো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৪-৯৫ পৃষ্ঠা; হিলয়াহ ৯/১০৬)
৪) আমার পুস্তকে যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর সুন্নাহের খেলাপ কে কথা পাও, তাহলে আল্লাহর রাসুল (সা) এর কথাকেই মেনে নিও এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো। (নাওয়াবীর মা’জমু ১/৬৩; ইলামূল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬১)
৫) যে কথাই আমি বলি না কেন, তা যদি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থি হয়, তাহলে নবী (সা) এর হাদীসই অধিক মান্য। সুতরাং তোমরা আমার অন্ধানুকরন করো না। (হাদীস ও সুন্নাহর মুল্যমান ৫৪ পৃষ্ঠা)
৬) নবী (সা) থেকে যে হাদীসই বর্ণিত হয়, সেটাই আমার কথা; যদিও তা আমার নিকট থেকে না শুনে থাকো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৩-৯৪)
ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল(রহ) :-
১) তোমরা আমার অন্ধানুকরন করো না, মালেকেরও অন্ধানুকরন করো না। অন্ধানুকরন করো না শাফেরীর আর না আওয়ারী ও ষত্তরীব বরং তোমরা সেখান থেকে তোমরা গ্রহন কর যেখান থেকে তারা গ্রহন করেছেন। (ইলামুল মোয়াক্কিঈন ২/৩০২)
২) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা) এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করে, সে ব্যক্তি ধ্বংসোন্মুখ। (ইবনুল জাওযী ১৮২ পৃষ্ঠা)
৩) আওযাঈ; ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলিল হল আসার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগনের কথা। (ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২ খন্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা)

কাজেইবুঝাগেল, উম্মতেরঐক্যেরভিত্তিহলো-
১।বিনা বাক্যে বিনা সংকোচে সকল প্রকার তাগুতকে সরাসরি অস্বীকারকরা, তাগুতের সাথে কুফরী করা ।
২।আল্লাহ্ তা’আলাকেইএকমাত্রআইনদাতা, বিধানদাতা, মা’বুদ হিসেবে স্বীকার করাও সেইঅনুযায়ী কাজ করা।
৩।শুধুমাত্ররাসুলসাঃ–এর দেখানো পথ, বাতলানো তরিকায়ই ইসলামকে মানতে হবে, অন্য কারো কোন মত বা তরিকার কোন মূল্য নেই।
৪।সকল প্রকার বিদয়াতকে ঘৃণা ভরে, ঈমানের সাথে পরিত্যাগ করতে হবে, কোন বিদয়াতীর সাথে কোনরূপ সম্পর্ক রাখা যাবেনা, কোন বিদয়াতীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবেনা। দলিল–

৫। শুধুমাত্র পবিত্র কুরান ও সহীহ সুন্নাহ্র অনুসরণ করতে হবে। কোন পীর, শায়খ, আলেম, হুজুর, মুফতীর দলিল বিহীন কোন কথাই মানা যাবে না ।
এই কয়টি নীতির উপর অটল থাকতে পারলেই উম্মত আবার এক অখণ্ড জাতিতে পরিণত হবে। আর এ দলই হবে রসুল সাঃ-এর ওয়াদাকৃত “ফিরকায়ে নাজিয়াহ্” বা নাজাতপ্রাপ্ত দল, যাদের মাযহাব হলো ইসলাম, ইমাম হলেন স্বয়ং নবী সাঃ এবং যারা শুধুমাত্র কিতাবুল্লাহ, ও সুন্নাতে রাসুল-এর অনুসারী হবে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ
https://captaintheilliterate.wordpress.com
http://assunahtrust.wordpress.com
ইমেইলঃ
a.nur@muslim.com
মোবাইল নং-
০১৭৮৬৮৮৮৮০৯
০১৯৭৬৮৮৮৮০৯


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s