Gallery

ইসলামের নামে গনতন্ত্র,নির্বাচন, ভোট, রাজনীতি,পদপ্রার্থীতা সবই হারাম,জায়িয মনে করা কুফরী।

wpid-world-map-jpg

ইহুদী খ্রিস্টানরা যে গনতন্ত্রের যে বিষবৃক্ষ রোপন করেছে, আমি বলবো তারা তাদের মিশনে শতভাগ সফল হয়েছে । তারা আসলেই গোলাম বানিয়ে ফেলেছে নির্বোধ নামধারী মুসলমানদের। বিভক্তি এবং শাষনের নীল নক্সা উভয়টাই তারা সফল বাস্তবায়ন করেছে। আফসোস মুসলমানের জন্য…….. যারা কিনা আজো গনতন্ত্র নামক কুফরীতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।

ইসলামের নামে গনতন্ত্র,ভোট, রাজনীতি,নির্বাচন, পদপ্রর্থীতা সম্পূর্ণ হারাম এ বিষয়ে পুর্নাঙ্গ বিশ্লেষণ :

মুসলমানদের উপর নিজের পূর্ন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইহুদী খ্রিস্টানদের সবচেয়ে ভয়াবহ অস্ত্র হচ্ছে গনতন্ত্র। তারা খুবই সুক্ষ্ম এবং ব্যাপক ভাবে এই হারাম গনতন্ত্রের বীজ মুসলমানদের মাঝে বপন করেছে এবং এক শ্রেনীর ধর্মব্যবসায়ী এজেন্ট নিয়োগ করেছে এই গনতন্ত্রকে ইসলামী গনতন্ত্র নামে প্রচার করার জন্য। শুধু তাই নয়, তারা রাজনীতি, ভোট,নির্বাচন ইত্যাদিও মুসলমানদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার অঙ্গ হিসেবে প্রচার করে যাচ্ছে।
এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদের ইসলামী অধিকার থেকে দমীয়ে রাখা,মুসলমানদের জড় পদর্থে রুপান্তর করা।
তাই এখনই জানার এবং বোঝার সময় এসেছে ইসলাম এবং গনতন্ত্র কি জিনিস।
গনতন্ত্র কি কখনো ইসলামী গনতন্ত্র হতে পারে কিনা?
মুসলমানরা কি ভোট নির্বাচন করতে পারে কিনা?
মুসলমানরা রাজনীতি করতে পারে কিনা?

(১) ইসলাম কি ??
→ ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ওহী মুবারকের মাধ্যমে নাজিলকৃত একমাত্র পরিপূর্ণ, মনোনীত,নিয়মতপূর্ন,সন্তুষ্টিপ্রপ্ত দ্বীন। যা কিয়মত পর্যন্ত বলবত থাকবে।
আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الدين عند الله الاسلام

অর্থ: নিশ্চয়ই ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার কাছে একমাত্র দ্বীন।”

[ সূরা আলে ইমরান ১৯]

আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

اليوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتي و رضيت لكم الاسلام دينا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়মত পূর্ন করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।”

[সূরা মায়িদা ৩]

আল্লাহ পাক আরো বলেন–

يايها الذين امنوا ادخلوا في السلم كافة ولا تتبعوت خطوات الشطان انه لكم عدو مبين

অর্থ: হে ঈমানদারগণ ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণ ভাবে প্রবেশ কর। শয়তানকে অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”

[ সূরা বাক্বারা ২০৮]

সূতরাং দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ব্যতীত কোন মতবাদ সেটা ওহী দ্বারা হোক বা মানব রচিত হোক কোনটাই আল্লাহ পাক কবুল করবেন না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন–

ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الاخرة من الخسرين

অর্থ: যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নিয়মনীতি তালাশ করে তার থেকে সেটা কখনো কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

[ সূরা আল ইমরান ৮৫]

অতএব, যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন নীয়মনীতি ইসলামের নামে বা ইসলামের সাথে মিশ্রিত করতে চায়, যেমন- ইসলামী গনতান্ত্র,ইসলামী রাজতন্ত্র, ইসলামী রাজনীতি, ইসলামী সমাজতান্ত্র ইত্যাদি কি করে জায়িয হতে পারে ?

না, ইসলামের সাথে গনতন্ত্র, রাজনীতি, রাজতন্ত্র, সমাজতান্ত্র ইত্যাদি যুক্ত করে ইসলাম উনার নামে চালিয়ে দেয়া স্পষ্ট হারাম কেউ জায়িয বললে ঈমানদার থাকতে পারবে না।

(২) গনতন্ত্র কি ?

→ গনতন্ত্র হচ্ছে মানব রচিত শাসন ব্যবস্থা। যার আইন কানুন,নীয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকা মানুষের দ্বারা রচিত। মূলত গনতন্ত্র শুধু মানব রচিত মতবাদই নয়, বরং বিধর্মীদের দ্বারা বিশেষ করে এটা ইহুদীদের দ্বারা উদ্ভাবিত এবং প্রবর্তিত। আর সম্পূর্নটাই খ্রিস্টানদের সংস্কারকৃত শাষন পদ্ধতি। পূর্ববর্তী জামানায় নাজিলকৃত আসমানী কিতাব বিকৃত হওয়ায় নফসানিয়তের দরুন উক্ত কিতাব সমূহ বিকৃতি বা পরিত্যাগ করার পর বিধর্মীরা তাদের দেশ পরিচালনা করার জন্য, নিজেরা যে আইন প্রনয়ন করেছিলো পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, গনতন্ত্র। যা খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসে উৎপত্তি লাভ করে এবং বর্তমান বিশ্বে ব্যপক প্রচার লাভ করেছে।

গনতন্ত্রের ইংরেজি হচ্ছে-Democracy। যা এসেছে গ্রীক Demos এবং Kratos থেকে। Demos অর্থ জনগন এবং Kratos অর্থ শাষন। পলিটিক্যাল সাইন্স বা রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ” গনতান্ত্র শব্দের অর্থ হচ্ছে- ‘গন’ অর্থ জনগন, আর ‘তন্ত্র’ অর্থ নিয়ম-নীতি বা পদ্ধতি। অর্থাৎ গনতন্ত্রে জনগনের নিয়মনীতি অনুযায়ী, বা পদ্ধতি অনুযায়ী শাষন ব্যবস্থা বা সরকার পরিচালনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে আধুনিক গনতান্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিঙ্কনের উক্তি উল্লেখ্য। তার ভাষায়– Democracy is a Government of the people, by the people and for the people”। যার অর্থ হচ্ছে, গনতান্ত্রিক সরকার জনগনের,জনগনের দ্বারা ও জনগনের জন্য।”

এখন আপনারাই বলুন গনতন্ত্র কি ইসলাম সম্মত হতে পারে ??

(৩) নির্বাচন কি? এবং এর ইতিহাস কি ??

→ নির্বাচনের প্রাচীন ইতিহাস : প্রাচীন গ্রীসে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্বাচন প্রথা চালু ছিলো।
Election সম্পর্কে ধর্ম,মিথলজী বিষয়ক Encyclopedia man,myth’s magic এ বলা হয়েছে Election, the word derived from the Greek word eloge (choice).The idea is basic to the traditional structure of Christian theology.
অর্থাৎ, ইলেকশন বা নির্বাচন শব্দটি উৎসরিত হয়েছে বা উৎপত্তি লাভ করেছে গ্রীক শব্দ Eloge হতে, যার অর্থ ছিলো পছন্দ। নির্বাচনের ধারনা প্রাচীন খ্রিষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত।””

এ ব্যাখ্যাটি এরূপ যে, তাদের গড নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গ অথবা জাতিকে বিশেষ ভাবে পছন্দ করতেন তার রাজত্বে বিশেষ কিছু ভূমিকা পালনের জন্য, যাকে বলা হত নির্বাচন। এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ আছে–
The idea that God specially choses certain individuals or nations for some peculiar role in the scheme of his Providence is known as election.

আরো বর্নিত আছে–
এ বিষয়ে Man, maths & encyclopedia ” গ্রন্থে আছে–however that the doctrine of election found its most notable expression in Christianity.

মূলকথা হচ্ছে, নির্বাচন হচ্ছে খ্রিষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। যা কিন মোটেও ইসলাম সম্মত হতে পারে না। যারা ইসলামের নামে নির্বাচনের কথা বলে তারা কতবড় মিথ্যাবাদী এবং প্রতারক চিন্তা করুন। অর্থাৎ সুকৌশলে তারা খ্রিষ্টীয় মতবাদ মুসলমানদের মাঝে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

আধুনিক কালের নির্বাচনের এবং ভোটের ইতিহাস :

আধুনিক ভোট ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে ইংল্যান্ডে ১৬৮৮ সালে ইংল্যান্ডে ১৬৮৮সালে বিপ্লবের পর রাজনৈতিক ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে চলে যায়। পার্লমেন্টে ১৮৩২ সালে প্রথম সংস্কার আইনে সমস্ত মধ্যবিত্ত শ্রেনীকে ভোটাধিকার দেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৮৬৭ সালে কারখানার শ্রমিকদের, ১৮৮৪ সালে কৃষি মজুরদের, ১৯১৮ সালে সীমিত সংখ্যক নারীদের, এবং ১৯২৮ সালে সকল নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। ১৯১৮ সালের পূর্বে বৃটেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা সাধারণ কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র এ দুটি কেন্দ্রের ভোটাধিকার ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে সকল পদ্ধতির সমাপ্তি ঘটিয়ে একুশ বছর বা তদুর্ধ বয়সের সকল সম্প্রদায়ের জন্য সার্বজনীন ভোটাধিকার দেয়া হয়।
অপর দিকে আমেরিকায় ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বলা হয় যে, কোন ব্যক্তিকে তার জাতী,ধর্ম, অথবা পূর্বপুরুষদের দাসত্বের জন্য ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ১৯৩৩ সালে সপ্তদশ সংশোধনীতে সিনেট সদস্যদের, জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯২০ সালে মহিলা ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়। ১৯৭১ সালে ভোটারদের বয়স সীমা কমিয়ে ১৮ বছরে আনা হয়।

ভোটের প্রকারভেদ এবং ব্যালট প্রথা :

ভোট হলো দুই প্রকার। যথা-
♦প্রকাশ্য ভোটদান।
♦ গোপনে ভোটদান।

প্রকাশ্য ভোটদান ব্যবস্থায় ভোটদানকারীরা বিপরীত পক্ষীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই এটি সর্বত্র পরিত্যক্ত হয়েছে।
আর গোপনে ভোটদান ব্যবস্থা কারো দ্বারা কোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না তাই তাদের ভাষায় নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারে। তাই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সর্বত্রই এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ব্যালট : ব্যালট হচ্ছে একটি কাগজের শীট, যার দ্বারা গোপনে ভোট প্রদান করা হয়। Ballot শব্দটি এসেছে ইটালীয় ব্যালোটা Ballotia হতে। যার অর্থ হচ্ছে- ছোট বল। এটি এভাবে উৎপত্তি হয়েছে যে, প্রাচীনকালে এর দ্বারা ভোট গ্রহন করা হতো এবং গ্রীসে এই পদ্ধতি প্রচলিত ছিলো। জনতার দরবারে অথবা আইন সভায় খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এবং কখনো কখনো রোমান সিনেটে এই পদ্ধতি চালু ছিলো। সাধারণত সাদা এবং কালো বল হ্যাঁ এবং না বোধক ভোটে ব্যবহৃত হতো।
অপরদিকে আমেরিকায় উপনিবেশিক কালের শুরুতে সীম শস্যকণা ব্যালোট হিসাবে ব্যবহৃত হতো। উল্লেখ্য, কোন কোন সংগঠন এখনো নতুন সদস্য গ্রহনে ভোটাভুটিতে সাদা এবং কালো বল ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে গনতান্ত্রিক দেশসমূহে কাগজের ব্যালট বা ব্যালট পেপার নির্বাচনে ভোটারদের ছদ্মনাম হিসাবে কাজ করে এবং এভাবেই অধিকাংশ ভোটারদের ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
গোপন ভোটদানের পদ্ধতি হিসাবে ব্যালট পেপার ব্যবহারের প্রথম প্রমানিক ঘটনা ঘটে ১৬২৯ সালে আমেরিকার চার্চে। অতঃপর আমেরিকান ঔপনিবেশে এই ব্যালট পেপারের প্রচলন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ব্যালট পেপারের অনেক সংস্কার হয় এবং পরবর্তীতে একই কলামে বিভিন্ন দলের প্রতীক সংযুক্ত হয়, যা সাধারণত বর্নমালা অনুযায়ী সংযুক্ত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের মধ্যে এই ব্যালোট প্রথা প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণভাবে নির্বাচন বলতে বুঝায়, “একাধিক পদপ্রার্থী থেকে ভোটদানের মাধ্যমে একজনকে নির্বাচিত করা।” যে বা যারা পদের মুখাপেক্ষী তারা তাদের পদের জন্য মানুষের নিকট তাদের মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করে থাকে তখন মানুষ তাদের বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। উল্লেখ্য, নির্বাচিত ব্যক্তি পদের মুকাপেক্ষী, পদ নির্বাচিত ব্যক্তির মুকাপেক্ষী নয়। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন হচ্ছে গনতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কেননা নির্বাচনের মাধ্যমেই গনতন্ত্র বাস্তবায়িত হয়। আর নির্বাচন তখনই প্রয়োজন হয়, যখন কোন পদে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হয়।
মূলকথা, গনতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে সার্বভৌমত্ব জনগনের। অর্থাৎ জনগনই হচ্ছে গনতন্ত্রের মূল অথবা গনতন্ত্রে জনগনই সকল সার্বভৌমত্বের মালিক।

গনতন্ত্র, নির্বাচন, ভোট,ব্যালট,পদ প্রার্থীতা সম্পর্কে আলোচনা সমূহের তথ্যসূত্র :

√ Encyclopedia Britannica

√ Encyclopedia Americana

√ World book

√ man myth magic

√ Lexicon encyclopedia

√ MacMillan encyclopedia

√ new book of knowledge

√ Frank and Wagnalls encyclopedia

√ Wordsworth encyclopedia

√ Encyclopedia of democracy

√ After two centurics, should Condorcet’s voting procedure be implemented-Felsenthal Dan

√ Constitutional choices for new democracy

√ charnwood , Abraham lincon

√ the modern democracy

√ political idea of modern world

√ Leberal democracy, Pall mall

√ বাংলা একাডেমী বিশ্বকোষ।

√ বাংলাদেশ সংবিধানের ভাষ্য।

√ রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সৈয়দ মকসুদ আলী। ইত্যাদি….

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট ভাবেই প্রমানিত হচ্ছে যে, গনতন্ত্র, নির্বাচন, ভোট, ব্যালট, পদ প্রর্থীতা সব কিছুই খ্রীষ্ট ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম উনার সাথে এই সকল বিষয়ের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। এইটা সম্পূর্ণ বিধর্মীদের তর্জ তরীকা। সূতরাং যারা ইসলামের নামে গনতন্ত্র, ভোট,নির্বাচন করবে তারা মূলত বিধর্মীদের এজেন্ট, প্রথম শ্রেনীর ভন্ড এবং মুনাফিক।

উপরোক্ত আলোচনায় অকাট্যভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছি যে, গনতন্ত্র,ভোট, নির্বাচন সবগুলাই খ্রিস্টানদের প্রথা। এগুলার সাথে পবিত্র ইসলাম উনার কোন সম্পর্ক নাই। এবং কোনভাবেই ইসলামী গনতন্ত্র, ইসলামী ভোট, ইসলামী নির্বাচন বলারও এক বিন্দু মাত্র সুযোগ নেই। যদি কেউ ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে চায় সেটা স্পষ্ট কুফরী হবে।

এখন আমরা দেখবো গনতন্ত্র যে সব কারনে ইসলাম সম্মত বা ইসলামী গনতন্ত্র হতে পারে না।

গনতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক বা সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে একমাত্র জনগন। আর একারনে গনতন্ত্রীরা নিজেরাই নিজেদের আইন, কানুন, নীয়ম-নীতি প্রনয়ন করে থাকে। অর্থাৎ গনতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিরাই একমাত্র আইন প্রনেতা। এখানে পবিত্র ইসলাম উনার বিধানের কোন মূল্য বা মর্যাদা নেই। একারনে গনতন্ত্রে ইসলামী ধ্যান ধারনার খিলাপ বহু আইন প্রনয়ন হয়ে থাকে।

এর কিছু উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে। যেসব কারনে গনতন্ত্র ইসলাম সম্মত হতে পারে না তার কতিপয় উদাহরণ –>

(১) ওয়ারিছ সত্ত্বের ক্ষেত্রে :

কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনার ফতোয়া হচ্ছে, দাদা জীবিত থাকতে পিতা ইন্তেকাল করলে নাতি ওয়ারিছ হবে না। এ বিষয়ে সূরা নিছা ১১-১২ নং আয়াত শরীফে পরিস্কার উল্লেখ করা হয়েছে।
অথচ, ১৯৬১ সনে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের গনতান্ত্রিক সরকার আল্লাহ পাক উনার উক্ত ফতোয়াকে ইয়াতিমের জন্য ক্ষতিকর বলে রদ বা বাতিল ঘোষণা করে। নাউযুবিল্লাহ !!

অতপর উক্ত সরকার কথিত গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ জারী করে কুরআন-সুন্নাহ শরীফ পরিবর্তন, পরিবর্ধন,সংশোধন ও সংযোজন করে মনগড়া নতুন আইন জারী করে যে, ” দাদা জীবিত থাকতে পিতা ইন্তেকাল করলেও নাতি ওয়ারিছ হবে।” নাউযুবিল্লাহ !!
যা উক্ত অধ্যাদেশের ৪নং ধারায় বলা হয়েছে।
এখানে স্পষ্ট ভাবেই দেখা যাচ্ছে, গনতন্ত্রীরা আল্লাহ পাক উনার আইনকে বাতিল ঘোষনা করে তাদের মনগড়া আইন ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়েছে, যা মানা এবং আমল করা উভয়টাই প্রকাশ্য কুফরী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি করে এমন কুফরী এবং ইসলাম বিরোধী মতবাদকে ইসলামী গনতন্ত্র বলা যেতে পারে ?

(২) বিয়ের বয়স :

পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফে কোথাও ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কোন বয়স নিদৃষ্ট করে দেয়া হয় নাই। অর্থাৎ ৫,১০,১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০,৬০,৮০ ইত্যাদি বয়সের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না এমন কোন শর্ত ইসলামে বর্ননা করা হয় নাই।

কিন্ত গনতান্ত্রিক সরকার তাদের নিয়ম অনুযায়ী কোন মেয়ের বিয়ে বসার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়া আইন করে দিয়েছে এবং ১৮ বছরের নীচে কোন মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা, কোন মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দন্ডনীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ !!

যেমন, এ প্রসঙ্গে ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ২এর (ক) উপধারায় বলা হয়েছে- ” শিশু বা নাবালক বলিতে ঐ ছেলে-মেয়েকে বুঝাইবে, যার বয়স ছেলে হইলে একুশ বছরের নিচে এবং মেয়ে হইলে আঠারো বছরের নিচে হইবে।”
আর নাবালকের বিয়ের শাস্তি সম্পর্কে এই আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে- ” একুশ বছরের অধিক কোন পুরুষ বা আঠারো বৎসরের অধিক বয়স্কা কোন মহিলা কোন শিশুর সহিত বিবাহ চুক্তি সম্পাদন করিলে, তাহার একমাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড কিংবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দন্ডই হতে পারে।” নাউযুবিল্লাহ !!

উক্ত আইনের ৫ এবং ৬ ধারায় এরুপ বিবাহ সম্পাদনকারী ও অভিভাবকের জন্য একই শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

এখানে স্বরনীয় যে, স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার ৬ বছর বয়স মুবরকে আকদ মুবারক সম্পন্ন করেছিলেন ও ৯ বছর বয়স মুবারকে ঘর মুবারকে তুলে নিয়েছিলেন।
এখন গনতন্ত্রীদের নিকট প্রশ্ন, তাহলে কি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম, এবং উনার পিতা আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনারা কি গনতান্ত্রিক নিয়মে দন্ডনীয় হবেন ?
(আসতাগফিরুল্লাহ, নাউযুবিল্লাহ)

এটা কল্পনা করলে কি কেউ ঈমানদার থাকতে পারবে ?এই গনতন্ত্রই ইসলামী আইন বাতিল করে ইসলাম বিদ্বেষী আইন চাপিয়ে দিয়েছে। এখন এই আইন যদি কেউ মেনে নেয় তাহলে সে কি মুসলমান থাকতে পারবে?
তাহলে কি করে ইসলামের নামে গনতন্ত্র করা যেতে পারে ?

(৩) সাক্ষীর ক্ষেত্রে :

আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন, ” তোমরা পুরুষদের মধ্য হতে দুজন সাক্ষী দাড় করাও। যদি দু’জন পুরুষ না পাওয়া যায় তাহলে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ কর।”

[সূরা বাক্বারা ২৮২ আয়াত শরীফ]

অর্থাৎ ইসলামে দু’জন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের স্বাক্ষ্যের সমান। কিন্তু গনতন্ত্রে তথা ভোট প্রথায় একজন পুরুষের সাক্ষ্য একজন মহিলার স্বাক্ষ্যের সমান।
যেটা স্পষ্ট কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফের প্রকাশ্য বিরোধিতা। অর্থাৎ গনতন্ত্রে আল্লাহ পাক উনার বিধানের বিরোধিতা করে আইন প্রনয়ন করা হয়। তাহলে কি করে গনতন্ত্রকে ইসলামী বলা যেতে পারে ?

(৪) নারী নেতৃত্ব মানার ক্ষেত্রে :

ইসলামে খিলাফত পরিচালনা করার জন্য যেসকল শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে তাহলো-

– মুসলমান হওয়া।
– আক্বেল হওয়া।
– বালেগ হওয়া।
– পুরুষ হওয়া।
– স্বাধীন হওয়া।
– বাক শক্তি সম্পন্ন হওয়া।
– শ্রবনশক্তি সম্পন্ন হওয়া।
– দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হওয়া।
– সাহসী ও শক্তি সম্পন্ন হওয়া।
– পরহেযগার হওয়া।
– মুজতাহিদ হওয়া।
– কুরাঈশ বংশের হওয়া।

অথচ গনতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থায় এসব নীতির কোন গুরুত্ব নেই। এখানে মহিলারাও শাষক হতে পারে। নাউযুবিল্লাহ !!

হাদীস শরীফে স্পষ্ট বলা আছে-

” ঐ জাতী কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না যারা তাদের শাষনভার কোন মহিলার হাতে অর্পন করেছে।”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ- কিতাবুল ফিতান।

নারী নেতৃত্ব হারাম হওয়া সত্ত্বেও গনতন্ত্রে নারী শাষক হতে পারে। এখানে মহিলা কর্তৃত্ব- নেতৃত্ব- প্রধান হওয়াটা গ্রহনযোগ্য। এমনকি কাফের মুশরিকদেরও কোন পার্থক্য নেই।
খলীফা হওয়ার ওহী দ্বারা নাজিলকৃত শর্ত সমূহকে অমান্য করে নারী নেতৃত্ব বৈধ থাকে গনতন্ত্রে। এই গনতন্ত্র কি করে ইসলাম সম্মত হতে পারে ?

(৫) অধিকাংশের মত গ্রহণ :

গনতন্ত্রে অধিকাংশের মতামতই গ্রহনযোগ্য। অর্থাৎ অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি যে রায় দিবে সেটাই কার্যকর হবে। গনতন্ত্রে একটা কথাই আছে -majority must be granted.।
এখানে বেদ্বীন বদদ্বীন, কুফরী-শেরেকী, যেকোন বিষয় অধিকাংশের মতামতে গ্রহনযোগ্য। নাউযুবিল্লাহ !!

অথচ আল্লাহ পাক বলেন-
وان تظع اكثر من في الارض يضلوك عن سبيل الله

অর্থ: তুমি যদি জমিনের অধিকাংশ লোকের অনুসরণ কর, তবে তারা তোমাকে গোমরাহ করে ফেলবে।”

[ সূরা আনআম ১১৬]

অর্থাৎ ইসলামে অধিকাংশের কোন গুরুত্ব নেই এখানে গুরুত্ব হচ্ছে কুরআন এবং সুন্নাহ শরীফ। গনতন্ত্রে অধিকাংশ জনগন যা বলবে সেটাই হবে। আর ইসলামে অধিকাংশের কোন গুরুত্ব নেই এখানে একজনও যদি শরীয়ত অনুযায়ী কিছু বলে সেটাই গ্রহনীয়। সূতরাং অধিকাংশের মত গ্রহন করার মত কুফরী নিয়ম যেখানে আছে সেই গনতন্ত্র কি করে ইসলামী গনতন্ত্র হতে পারে?

(৬) জনগন সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস :

গনতন্ত্রোর মূল বিষয় হচ্ছে জনগন, এখানে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগনের। অথচ মুসলমান সকল মানুষের আক্বীদা হচ্ছে, সর্বময় ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হচ্ছেন আল্লাহ পাক। এ বিষয়ে অনেক আয়াত শরীফ বর্নিত আছে।
যেমন- সূরা মায়িদা ১০২/ সূরা হাশর ২৪/ সূরা আল ইমরান ২৬,১২৯/ সূরা আনআম ১৭,৫৭/সূরা ফাতির ১০/ সূরা বাকারা ১১৭/ সূরা শুরা ৭৩/সূরা হাদীদ ৩/ সূরা ফুরকান ২ ইত্যাদি সহ আরো অনেক আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক উনার সার্বভৌমত্বের কথা বলা হয়েছে।
এখন কেউ যদি সার্বভৌমত্ব জনগনের বলে সে মুসলমান থাকতে পারবে ? কুরআন শরীফ অস্বীকার করে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।
তাহলে কি করে গনতন্ত্র ইসলামী গনতন্ত্র হয় ?

(৭) পদপ্রার্থীতার ক্ষেত্রে :

গনতন্ত্রে ক্ষমতায় আসার একমাত্র উপায় হচ্ছে পদপ্রার্থীতা। আর ইসলামে পদপ্রার্থী হওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এবং পদপ্রার্থী হতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে ।

হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
” আল্লাহ পাক উনার কসম ! আমরা এ কাজে (শাষন কাজে) এমন কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করি না, যে ওটার প্রার্থী হয় এবং ঐ ব্যক্তিকে নিয়োগও করি না, যে ওটার লোভ বা আকাঙ্খা করে।”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ।
√ মুসলিম শরীফ।

ইসলামে পদপ্রার্থী হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ অথচ গনতন্ত্রে পদপ্রর্থী হওয়ার কোন বিকল্প নাই। পদপ্রার্থী হওয়া হচ্ছে দুনিয়ালোভী হওয়া। কোন নেককার লোক পদপ্রার্থী হতে পারে না।
এখন পদপ্রার্থী হওয়ার গনতন্ত্র কি করে ইসলামী গনতান্ত্র হতে পারে?

(৮) হারাম হালাল এবং হালালকে হারাম করা :

ইসলামে হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করা কুফরী। কিন্তু গনতন্ত্রে হারাম হালাল একাকার। এখানে একের পর এক হারাম আইন বাস্তবায়ন করা হয়। পর্দার বিরুদ্ধে আইন করা হয়, ধর্মনিরপেক্ষতার আইন করা হয়, পুরুষ নারীর সমান অধিকারের আইন করা হয়। এরকম অসংখ্য হারাম প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সূতরাং যেখানে হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করা হয় সেই গনতন্ত্র কি করে ইসলামী গনতন্ত্র হয় ???

পরিশেষে এদেশের সংবিধানের একটা ধারা বা আইন বলে পোস্টের ইতি টানবো। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(১) ধারায় বলা হয়েছে–
the executive power of republic shall, in accordance with this constitution, be exercised by or on the authority of the prime minister.।

অর্থ : প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।”

অর্থাৎ দেশের প্রজাতন্ত্রের সকল নির্বাহী ক্ষমতা সব কিছু প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সে যা বলবে সেটাই হবে। অর্থাৎ মহিলা প্রধানমন্ত্রী সকল আদেশ নিষেধ যারা ইসলামের নামে গনতন্ত্র করবে তারা মানে নিতে বাধ্য থাকবে। এবং উক্ত মহিলাই হবে সর্বময় অভিভাবক।
এখন যারা ইসলামের নামে গনতন্ত্র করবে তাদের মহিলা নেত্রীর পদলেহন ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রমান হলো ইসলামের নামে গনতন্ত্র সর্বঅবস্থায় হারাম। জায়িয মনে করা কুফরী। যারা ইসলামের নামে গনতান্ত্র করার কথা বলে তারা মূলত ধর্মব্যবসায়ী, ভন্ড এবং মুনাফিক।

কিছু বেক্কেল মার্কা পাবলিকের কথা শুনলে হাসি ধরে রাখা যায় না। এরা নাকি গনতন্ত্র, রাজনীতি করে ইসলাম কায়েম করছে।
হা হা হা !!
এদের তিন হাত বডির ভিতর ইসলাম নাই, এদের নিজের ঘড়ের ভিতর ইসলাম নাই, সুন্নতের আমল করাতো দূরের কথা ফরজ ওয়াজিব আমলই ঠিক নাই এরা করতেছে ইসলাম কায়েম। এদের অবস্থা হয়েছে সেই গাধার মত….. এক গাধা ছিলো সে একটু পরপরই বসে পড়তো, পথ চলতে পারতো না। গাধার মালিক খুব বিপদে পরে গেল, কিভাবে তাহলে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে ??
এমন সময় এক ব্যক্তি এই ব্যাপার দেখে তাকে বুদ্ধি দিলো, এক কাজ করো একটা লাঠির আগায় কিছু মূলা
বাঁধো তারপর গাধার পিঠে বসে লাঠি সহ মূলাটা গাধার নাকের আগায় ধরো তারপর দেখো গাধা কেমন দৌড়ায়। লোকটি তাই করলো গাধার নাকের ঢগায় মূলা ধরলো, আর গাধাও মূল খাওয়ার লোভে ব্যপক দৌড়াইতে লাগলো ….. কিন্তু যতই দৌড়ায় মূলা আর ধরা যায় না…
মুসলমান নামধারী কিছু নাদানকে বিধর্মীরা গনতন্ত্র নামক মূলা নাকের আগায় বেঁধে দিয়েছে । এরা ইসলাম কায়েম করার জন্য খুব দৌড়াচ্ছে… কিন্তু ইসলাম আর কায়েম হচ্ছে না।
ওরে গাধার দল !! মূলার লোভ ছেড়ে দিয়ে হাক্কীকী ভাবে ইসলামে দাখিল হও। গনতন্ত্র দিয়ে কোনদিন ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না। কবে তোমাদের বিবেক জাগ্রত হবে কে জানে ??
আল্লাহ পাক আমাদেরকে পবিত্র ইসলাম উনাকে বুঝার তৌফিক দান করুন।
আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s