Gallery

একজন ছাত্র ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারকে প্রশ্ন করেন যে, দূর্গাপূজা দেখতে যাওয়া, চাঁদা দেওয়া এবং কমিটিতে থাকা শরীয়াতে কতটুকু বৈধ?

একজন ছাত্র ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারকে প্রশ্ন করেন যে, দূর্গাপূজা দেখতে যাওয়া, চাঁদা দেওয়া এবং কমিটিতে থাকা শরীয়াতে কতটুকু বৈধ?
এর উত্তরে ড. খোন্দকার আব্দুল্রাহ জাহাঙ্গীর স্যার বলেন যে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত আছে।যেমন আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি। আমরা গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকেই তার মত প্রকাশ করব। এখন মনে কর, আওয়ামীলীগ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনন্দ উৎসবের আয়োজন করেছে, উদারতার জন্য বিএনপির এমপি সাহেব এবং নেতারা কমিটিতে আছে, টাকা পয়সা দিয়েছেন এবং উপস্থিতও আছেন। তুমি কি মনে কর বিএনপিতে তাদের সদস্যপদ থাকবে? আবার মনে কর, আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে, জামায়াতে ইসলাম শোক র্যাকলির আয়োজন করেছে, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে, গণতান্ত্রিক অবস্থায় আওয়ামীলীগের উচিত, তাদের শোক র্যােলি করতে দেওয়া এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এখন শোক র্যােলিতে আওয়ামীলীগের নেতারা আছেন এবং টাকা-পয়সা দিয়েছেন। তাহলে কি তাদের সদস্যপদ আওয়ামীলীগে থাকবে? যদি দুনিয়ার মানুষের বানানো ছোট ছোট আদর্শে আমাদের বিশ্বাস এত বেশী হয়, তাহলে ইসলামে সবচেয়ে ভয়ংকর পাপ শিরক, যেখানে তোমার সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করা হচ্ছে, যে সিজদা একমাত্র আল্লাহ পাবেন, সেই সিজদা মানুষকে করা হচ্ছে, যেই ভক্তি একমাত্র আল্লাহ পাবেন, সেই ভক্তি মর্তিকে করা হচ্ছে, এটা মানবতার অপমান, এটা সৃষ্টিকর্তার অপমান। তোমার বাবা-মাকে গালি দেয়া হচ্ছে, আর তুমি আনন্দ পাচ্ছ, তাহরে বুঝা গেল বাবা-মার প্রতি তোমার কোনো ভক্তি নেই। ঠিক একইভাবে তুমি ঈমানের যে দাবী করছো তা তোমার ভিতরে নেই। যে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বলেছো, সেটা তুমি বিশ্বাস কর না মুখে বলেছো। ইসলাম প্রত্যেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে, তার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, তার ধর্মীয় স্থানের স্বাধীনতা, ইবাদতে স্বাধীনতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। কিন্তু তাদের চয়েসটা ভয়ংকর ভুল। এটা যে কোনো পাপের চেয়ে বড় পাপ। যেখানে আল্লাহ তা’আলাকে অপমান করা হচ্ছে, সেটা দেখে তুমি আনন্দ পাচ্ছো, তোমার হৃদয় ফেটে যাচ্ছে না, তাহলে বুঝা গেলো তোমার ভিতরে ঈমানের কিছুই নেই। তবে পুলিশ যেতে পারবে, নিরাপত্তার জন্য। ডিসি, এসপি, মন্ত্রি, এমপি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা গল্প পড়েছিলাম, “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মনে নাই”। ঠিক একইভাবে এই পুজায় গিয়ে তুমি প্রমাণ করলে মুসলমান ছিলেনা কখনো। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেছেন:
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلاَ تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
অর্থ: তুমি যখন দেখো তারা আমার আয়াতসমূহ সম্পর্কে উপহাসমূলক আলোচনায় লিপ্ত হয় তখন তুমি তাদের থেকে সরে পড়বে, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে যায়। এবং শয়তান যদি তোমাকে ভুলিয়ে রাখে তবে স্মরণ হওয়ার পরে জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবে না। সূরা আনআম: ৬৮
হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
لاَ تَقفَنَّ عِنْدَ رَجُلٍ يُقْتَلُ فَإِنَّ اللَّعْنَةَ تَنْزِلُ عَلَى مَنْ حَضَرَهُ حَيْنَ لَمْ يَدْفَعُوْا عَنْهُ وَلاَ تَقِفَنَّ عِنْدَ رَجُلٍ يُضْرَبُ مَظْلُوْماً فَإِنَّ اللَّعْنَةَ تَنْزِلُ عَلَى مَنْ حَضَرَهُ
“যেখানে কোনো মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে সেখানে কখনই দাঁড়াবে না; কারণ সেখানে উপস্থিত লোকেরা যদি তার হত্যা প্রতিরোধ না করে তাহলে সকলের উপরে লানত ও অভিশাপ বর্ষিত হয়। যেখানে কোনো মানুষকে অত্যাচার করে মারধর করা হচ্ছে সেখানে দাঁড়াবে না। কারণ উপস্থিত সকলের উপরেই লানত-অভিশাপ বর্ষিত হয়।”
(আহমদ, তাবারানী, বাইহাকী। বাইহাকীর সনদটি হাসান বলে ইরাকী এহইয়াউ উলূমিদ্দীনের তাখরীজে উল্লেখ করেছেন।)
যেখানে একজনকে অন্যায়ভাবে মারলে লানত পড়ে, একজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে লানত পড়ে, তুমি দৌঁড়ে পালাও সেখান থেকে যে, তোমার উপরে গজব পড়বে। যেখানে শিরক সেখানে তুমি কিভাবে যাচ্ছো। সূরা নিসায় 140 আল্লাহ তা’আলা বলেছেন
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكَفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلاَ تَقْعُدُواْ مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
অর্থ: কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হবে তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না; অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হবে। মুনাফিক এবং কাফির সকলকেই আল্লাহ জাহান্নামে একত্র করবেন।
তাদের পূজনীয় কোনো ব্যক্তি, দ্রব্য, বস্তুকে অপনাম করে কথা বলা হারামা। তাদের ধর্ম পালনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেউ যেন তাদের ধর্ম পালনে বাধা না দেয়। মুসলমান এ বিষয়ে অনেক কঠোর ছিলেন। উমর ইবনে আব্দুল আজীজ যখন খলিফা (৯৯ হি.) ছিলেন, তখন দারুল খেলাফতের রাজধানী ছিলো দামেস্ক। দামেস্কের বড় মসজিদ, মসজিদে মুয়াবিয়া বলা হয়। মুয়াবিয়া রা. মসজিদটি বানিয়েছিলেন। মসজিদের পাশেই ছিল খৃষ্টানদের চার্চ। তখন শহরটা ছোট ছিল। মসজিদ বড় হতে হতে চার্চের দিকে চলে গেলে মসলমানরা খৃষ্টানদেরকে বলল তোমরা চার্চের জায়গা বিক্রি করে দাও। তারা জায়গা বিক্রি না করলে চার্চের জায়গায় মসজিদ চলে গেলো। এটা উমাইয়া যুগের ঘটনা। যখন উমর ইবনে আব্দুল আজীজের ইনসাফ সবাই দেখলো তখন খৃষ্টানরা বলল আমিরুল মুমিনীন! জায়গাটা তো আমাদের। খলিফা বলল তাহলে তোমাদের দলিল দেখাও। তারা দলিল আনলো। খলিফা দামেস্কের গর্ভনরকে বললেন মসজিদের দলিল আনেন। গর্ভনর দলিল দেখাতে পাললেন না। তখন খলিফা বললেন, মসজিদ ভাঙ্গা হবে। মসলমানরা তো অস্থির হয়ে গেল। দামেস্কের প্রধান বিচারপ্রতি খৃষ্টানদেরকে বললেন, তোমরা কতটা চার্চ চাও একটার বদলে একশটা বানিয়ে দিব তবুও তোমরা এই জায়গাটা বিক্রি করে দাও। তারপর খৃষ্টান এলাকায় একটা চার্চা বানিয়ে দেয়া হল। তারপর তারা দলিল ফেরত দিল। তখন খলিফাকে দেখানো হলো যে, তারা জমি বিক্রি করেছে। তখন খলিফা খৃষ্টানদের ডেকে জিজ্ঞাসা করলো তোমরা কি জমি বিক্রি করেছো? তারা বলল হ্যাঁ আমরা খুশি মনে জমি বিক্রি করেছি। কাজেই তাদের ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা মসলিম সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু দেখতে যাওয়া মানে, তোমার ঈমান নেই, এটা কুফুর, শিরক।

link:https://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=UnoB2-s7jMs

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s