Gallery

”ইখতেলাফী মাসআলা’ সমুহ নিয়ে মুসলিম উম্মাহের মাঝে বিভেদের আগুন ।

আজ আমাদের দেশের কিছু আহলে হাদিসরা ‘ইখতেলাফী মাসআলা’ সমুহ নিয়ে মুসলিম উম্মাহের মাঝে বিভেদের আগুন তৈরি করছে । তারা যেন কাফেরদের এই কাজে (মুসলিম উম্মাহের মাঝে বিভেদের আগুন তৈরি) নিজেদেরকে তাদের সহযোগী বানাচ্ছে । তাও আবার কিছু সিমিত মাসায়েল যেমন কেরাত খলফাল ইমাম , আমীন , রফউল ইয়াদান ইত্যাদি । এগুলোকে তারা হক বাতিলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে রখেছে । অথচ এগুলোতে উক্ত মতভেদ সাহাবা-তাবেয়ীনের যোগ থেকেই চালু আছে । কিন্তু কারও মাঝে বিভেদ হয়নি । শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ছালিহ আলউছাইমীন (১৪২১ হি.)
তিনি এ বিষয়ে অনেক বলেছেন এবং অনেক লিখেছেন। আমরা এখানে তার কয়েকটিকথা নকল করছি :
ক) ‘‘এ যুগের কিছু কিছু সালাফী, বিরোধীদেরকে গোমরাহ বলে থাকে, তারা হকপন্থীহলেও। আর কিছু কিছু লোক তো একে বিভিন্ন ‘ইসলামী’ দলের মত একটি দলীয়মতবাদে পরিণত করেছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, অবশ্যই এর প্রতিবাদ করতেহবে। তাদেরকে বলতে হবে, সালাফে সালেহীনের কর্মপদ্ধতি লক্ষ করুন, ইজতিহাদগতমতপার্থক্যের ক্ষেত্রে তাদের নীতি কী ছিল এবং তাঁরা কেমন উদারতার পরিচয়দিয়েছিলেন। তাঁদের মাঝে তো অপেক্ষাকৃত বড় বড় বিষয়েও মতভেদ হয়েছে, কোনোকোনো (শাখাগত) আকীদা বিষয়েও মতভেদ হয়েছে : দেখুন, আল্লাহর রাসূল তাঁর রবকেদেখেছেন কিনা-এ বিষয়ে কেউ বললেন, দেখেননি; কেউ বললেন, দেখেছেন।কেয়ামতের দিন আমল কীভাবে ওজন করা হবে-এ বিষয়ে কেউ বলেছেন, আমল ওজনকরা হবে। কেউ বলেছেন, আমলনামা ওজন করা হবে; তেমনি ফিকহের মাসাইল-নিকাহ, ফারাইয, ইদ্দত, বুয়ূ (বেচাকেনা) ইত্যাদি বিষয়েও তাঁদের মাঝে মতভেদহয়েছে, কিন্তু তাঁরা তো একে অপরকে গোমরাহ বলেননি। [লিকাআতুল বাবিল মাফতূহ, প্রশ্ন : ১৩২২] আমি যেই কিতাবটির ছবি দিয়েছি সেখানে এই বিষয়ে (ইজতিহাদগতমতপার্থক্যের ক্ষেত্রে নীতি) বিন বায বিন উছাইমিন ও আলনি আলোচনা করেছেন । পরে একদিন তা উল্লেখ করব ।
তাই মুলত বর্তমান যমানার আহলে হাদিসদের উদ্দেশে আমার এই নিবন্ধ । আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দিন । আমীন ।
১- বর্তমান যুগের প্রায় সবমাযহাবের বড় বড় মনীষী, যাদেরকে সমগ্র ইসলামী বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে‘রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী’র আলমাজমাউল ফিকহী (ফিকহী বোর্ড)- এ এইবিষয়ে (ইখতেলাফ)মতামত প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল তাদের মতামত উল্লেখ করছি।
ঐ মজলিসের সিদ্ধান্তের সারকথা হল, আকীদা ও বিশ্বাসগত বিষয়ে মতভেদ হচ্ছে يجب أنلا يكون অর্থাৎ তা না হওয়া অপরিহার্য। আর আহকাম ও বিধানের বিষয়ে যে মতভেদ তাلا يمكن أن لا يكون অর্থাৎ তা না হওয়া অসম্ভব। -মাজাল্লাতু মাজমায়িল ফিকহিল ইসলামী , রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী , মক্কা মুকাররামা বর্ষ ঃ ১ পৃষ্ঠাঃ ৫৯, ২১৯
এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শায়খ ইবনে বায রাহ. (১৪২০ হি.) ও শায়খ আবদুল্লাহ উমর নাসীফ-এর স্বাক্ষরও আছে। ইজতিহাদী বিষয়ে মতভিন্নতার এইপরিচয় ও বৈশিষ্ট্য যদি প্রত্যেকের স্মরণ থাকে তাহলে এর ভিত্তিতে পরস্পরকলহ-বিবাদে লিপ্ত হওয়ার সুযোগই হবে না।
২- এই বন্ধুরা মূলত ইখতিলাফ (বিভিন্নতা) ও ইফতিরাক (বিভেদ) কে এক করে ফেলেছেন। অথচ ইফতিরাক বা বিভেদ সম্পূর্ণ নিন্দিত, যা পরিহার করা ফরয। কিন্তু এর জন্য শরীয়ত-অনুমোদিতইখতিলাফ বা বিভিন্নতা বিলুপ্ত করার প্রয়োজন নেই, আর না ইখতিলাফ বা বিভিন্নতা দূর হলেই ইফতিরাক বা বিভেদ দূর হয়। বিভেদের কারণ তো অসংখ্য। শরীয়ত অনুমোদিত ইখতিলাফ তো বিভেদের কারণই নয়। হ্যাঁ, এ ইখতিলাফকে বরদাশত করতে পারার যোগ্যতা না থাকা (যেমন আমাদের এই আহলে হাদিস ভাইদের নেই) অবশ্যই ইফতিরাক ও বিভেদের অনেক বড় কারণ। এর চিকিৎসা তো শরীয়তসম্মত ইখতিলাফ নির্মূলের প্রচেষ্টার মাধ্যমে নয়; বরং শরীয়তসম্মত ইখতিলাফের ক্ষেত্রে শরীয়ত নির্দেশিত কর্মপন্থায় চর্চা, অনুশীলন ও বিস্তারের মাধ্যমেই হতে পারে।
৩- আহলে হাদিস ভাইরা মনে করেন, অধিকাংশ বিষয়ে মতভিন্নতার মৌলিক কারণ হল, সংশ্লিষ্টবিষয়ের প্রতিপক্ষের হাদীস সম্পর্কে অবহিত না থাকা বা সহীহ হাদীস পরিত্যাগ করেযুক্তি বা কিয়াসের আশ্রয় গ্রহণ করা। অথচ আইম্মায়ে দ্বীন ও উলামায়ে হকের যেমতভিন্নতা সে সম্পর্কে এ ধারণা মোটেও সঠিক নয়। কেননা তাদের কেউ কিয়াস বা যুক্তিকে হাদীসের উপর প্রাধান্য দেন না।
বর্তমানের ঐসব আলেমের মধ্যেও ইখতিলাফহয়েছে, যারা আহলে হাদীস বা সালাফী নামে পরিচিত। এদের ব্যাপারে সকল আহলেহাদীস বা সালাফী বন্ধু একমত যে, এরা সবাই হাদীসবিশারদ এবং হাদীসের অনুসারীছিলেন। তাহলে তাদের মাঝে ইখতেলাফ হল কেন ? আপনাদের মতে তারা হাদিসের অনুসারী । হে, আমি এখন মূল আলোচনায় যাচ্ছি ।
সম্প্রতি ১৪৩০ হি., মোতাবেক ২০০৯ ঈ. সালে ড. সাদ ইবনে আবদুল্লাহ আলবারীকের দুই খন্ডের একটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম
الإيجاز في بعض ما اختلف فيه الألباني وابن عثيمين وابن باز رحمهم الله تعالى
কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮ শ’র অধিক। কিতাবটি আমি এই বছর আব্বুকে বলে সউদি থেকে এনেছি । যার প্রচ্ছদ উপরে দেখা যাচ্ছে ।
কিতাবটির নাম থেকেই বোঝা যায়, এই কিতাবে তিনি এমন কিছু মাসআলা উল্লেখকরেছেন, যেসব মাসআলায় এ যুগের তিনজন সম্মানিত সালাফী আলেম : শায়খআবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ বিন বায রাহ. (১৩৩০-১৪২০ হি.), শায়খ মুহাম্মাদইবনে সালেহ ইবনে উছাইমীন রাহ. (১৪২১ হি.) ও শায়খ (মুহাম্মাদ ইবনে নূহ)নাসিরুদ্দীনআলবানী রাহ. (১৩৩২-১৪২০ হি.)-এর মাঝে মতভেদ হয়েছে।
কিতাবের নাম থেকে এ বিষয়টিও স্পষ্ট যে, তিনজনের মাঝে যেসব মাসআলায়মতপার্থক্য হয়েছে তার সবগুলো লেখক এখানে উল্লেখ করেননি। তাছাড়া তিনি শুধু‘কিতাবুর রাযাআ’ দুগ্ধপান অধ্যায় পর্যন্ত মাসআলাগুলো এখানে এনেছেন। এরপরও এতে মাসআলার মোট সংখ্যা দঁড়িয়েছে ১৬৬। আকীদা সংক্রান্ত কিছু মাসআলাও এতে রয়েছে ।
জেনে রাখা দরকার যে, ‘আলইজায’ কিতাবে ‘মাসাইলুল ইজতিহাদে’র উভয় প্রকারের মাসআলাই উল্লেখিত হয়েছে। অর্থাৎ কিছু মাসআলা এমন, যার কোনো শরঈ নস নেই অথবা শরঈ নস পাওয়া গেলেও তা থেকে সংশ্লিষ্ট মাসআলার বিধান আহরণ করতে হলে ইজতিহাদ প্রয়োজন।
৪- আমার শেষ কথা, আপনারা এখতেলাফ বরদাশত করতে পারেন না । যার কারনে আপনাদের মতের বাহিরে কোন বিজ্ঞ ফকিহের (যেমন ইমাম আজম আবু হানীফা রাহ.) দলীল ভিত্তিক কোন মত থাকলে আপনারা তার উপর চরাউ হন । মনে হয় যেন আপনারা যে মত গ্রহন করেছেন তা মাত্র আপনার কাছে জিবরীল ওহীর মাধ্যমে চূড়ান্ত বলেগেছে । যাই হোক এখন যদি উক্ত মতটিই আপনাদের কোন আস্থাভাজন আলেম থেকে পাওয়া যায় যেমন উপরের উল্লেখিত তিন আলেমের কারও থেকে, তাহলে আপনারা কি করবেন ? আপনাদের নীতি অনুযায়ী উচিৎ তাকেও অনরুপ আক্রমন করা । কাফের বেদাতি ইত্যাদি শব্দে । আল্লাহ মাফ করুন ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s