Aside

যুগে যুগে যুলুম ও যালিমের পরিণতি

আল্লাহ যুগে যুগে যালিমদের পাকড়াও করেছেন। তারা নিজেদেরকে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী ভেবেছিল, ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল ও যুলুম করেছিল। বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ তাদেরকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ পেশ করেছেন। যাতে পরবর্তীগণ তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।
وَقَارُونَوَفِرْعَوْنَوَهَامَانَوَلَقَدْجَاءَهُمْمُوسَىبِالْبَيِّنَاتِفَاسْتَكْبَرُوافِيالْأَرْضِوَمَاكَانُواسَابِقِينَفَكُلًّاأَخَذْنَابِذَنْبِهِفَمِنْهُمْمَنْأَرْسَلْنَاعَلَيْهِحَاصِبًاوَمِنْهُمْمَنْأَخَذَتْهُالصَّيْحَةُوَمِنْهُمْمَنْخَسَفْنَابِهِالْأَرْضَوَمِنْهُمْمَنْأَغْرَقْنَاوَمَاكَانَاللَّهُلِيَظْلِمَهُمْوَلَكِنْكَانُواأَنْفُسَهُمْيَظْلِمُونَ…وَتِلْكَالْأَمْثَالُنَضْرِبُهَالِلنَّاسِوَمَايَعْقِلُهَاإِلَّاالْعَالِمُونَ
আমি কারূন, ফিরাউন ও হামানকে ধ্বংস করেছিলাম। মূসা তাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা ভূমিতে দম্ভ করল, তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি। তাদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম; তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড ঝটিকা, কাউকে আঘাত করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি ধসিয়ে দিয়েছিলাম ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেননি; তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। …আমি মানুষের কল্যাণার্থে এসব দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিরাই কেবল তা বুঝে। (আনকাবুত ২৯: ৩৯-৪০, ৪৩)
নিচে পৃথিবীর ক্ষমতাধর কয়েকজন যালিমের যুলুম ও তাদের পরিণতি তুলে ধরা হল
ফিরাউন
ঔদ্ধত্য ও যুলুম :
إِنَّفِرْعَوْنَعَلَافِيالْأَرْضِوَجَعَلَأَهْلَهَاشِيَعًايَسْتَضْعِفُطَائِفَةًمِنْهُمْيُذَبِّحُأَبْنَاءَهُمْوَيَسْتَحْيِينِسَاءَهُمْإِنَّهُكَانَمِنَالْمُفْسِدِينَ
ফিরাউন জমিনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল এবং সে তার অধিবাসীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের একটি শ্রেণীকে সে অত্যন্ত দুর্বল করে রেখেছিল, যাদের পুত্রদের সে যবাহ করত ও নারীদেরকে জীবিত রাখত। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল বিপর্যয়সৃষ্টিকারী। (কাসাস ২৮ : ৪)
وَقَالَالْمَلَأُمِنْقَوْمِفِرْعَوْنَأَتَذَرُمُوسَىوَقَوْمَهُلِيُفْسِدُوافِيالْأَرْضِوَيَذَرَكَوَآَلِهَتَكَقَالَسَنُقَتِّلُأَبْنَاءَهُمْوَنَسْتَحْيِينِسَاءَهُمْوَإِنَّافَوْقَهُمْقَاهِرُونَ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের নেতৃবর্গ (ফিরাউনকে) বলল, আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে মুক্ত ছেড়ে দিবেন, যাতে তারা (অবাধে) পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদের বর্জন করতে পারে? সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদের হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আর তাদের উপর আমাদের পরিপূর্ণ ক্ষমতা আছে। (আরাফ৭ : ১২৭)
قَالَفِرْعَوْنُآَمَنْتُمْبِهِقَبْلَأَنْآَذَنَلَكُمْإِنَّهَذَالَمَكْرٌمَكَرْتُمُوهُفِيالْمَدِينَةِلِتُخْرِجُوامِنْهَاأَهْلَهَافَسَوْفَتَعْلَمُونَلَأُقَطِّعَنَّأَيْدِيَكُمْوَأَرْجُلَكُمْمِنْخِلَافٍثُمَّلَأُصَلِّبَنَّكُمْأَجْمَعِينَ
ফিরাউন বলল, কী! আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা এই ব্যক্তির প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় এটা কোন চক্রান্ত। তোমরা এই শহরে পারস্পরিক যোগসাজশে এই চক্রান্ত করেছ, যাতে তোমরা এর বাসিন্দাদের এখান থেকে বহিষ্কার করতে পার। আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই এর পরিণাম জানতে পারবে। আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব তারপর তোমাদের সকলকে শূলে চড়াব। (আরাফ ৭ : ১২৩-১২৪)
ক্ষমতার দাপটে ঔদ্ধত্যে বিভোর ফিরাউন :
فَقَالَأَنَارَبُّكُمُالْأَعْلَىفَأَخَذَهُاللَّهُنَكَالَالْآَخِرَةِوَالْأُولَىإِنَّفِيذَلِكَلَعِبْرَةًلِمَنْيَخْشَى
সে বলল, আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক। পরিণামে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন আখেরাত ও দুনিয়ার শাস্তিতে। যে ভয় করে তার জন্য অবশ্যই এতে রয়েছে শিক্ষা। (নাযিয়াত ৭৯: ২৪-২৬)
ঈমানদারের উপদেশ ও সতর্কবাণী
وَقَالَرَجُلٌمُؤْمِنٌمِنْآَلِفِرْعَوْنَيَكْتُمْإِيمَانَهُأَتَقْتُلُونَرَجُلًاأَنْيَقُولَرَبِّيَاللَّهُوَقَدْجَاءَكُمْبِالْبَيِّنَاتِمِنْرَبِّكُمْوَإِنْيَكُكَاذِبًافَعَلَيْهِكَذِبُهُوَإِنْيَكُصَادِقًايُصِبْكُمْبَعْضُالَّذِييَعِدُكُمْإِنَّاللَّهَلَايَهْدِيمَنْهُوَمُسْرِفٌكَذَّابٌيَاقَوْمِلَكُمُالْمُلْكُالْيَوْمَظَاهِرِينَفِيالْأَرْضِفَمَنْيَنْصُرُنَامِنْبَأْسِاللَّهِإِنْجَاءَنَا…
ফিরাউনের বংশের এক মুমিন ব্যক্তি, যে এ পর্যন্ত তার ঈমান গোপন রেখেছিল, বলে উঠল, তোমরা কি একজন লোককে কেবল এ কারণে হত্যা করবে যে, সে বলে আমার প্রতিপালক অল্লাহ? অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছে। সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যাবাদিতার জন্য সে দায়ী হবে। আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করছে, তার কিছু তো তোমাদের উপর অবশ্যই আপতিত হবে। আল্লাহ কোন সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে হেদায়াত দান করেন না। হে আমার সম্প্রদায়! আজ তো রাজত্ব তোমাদের, যমিনে তোমরাই প্রবল। কিন্তু আমাদের উপর যদি আল্লাহর আযাব এসে পড়ে, তবে এমন কে আছে, যে তাঁর বিপরীতে আমাদেরকে সাহায্য করবে?…। (মু’মিন ৪০ : ২৮-২৯)
ঔদ্ধত্যের কারণে ফিরাউন ও কওমের পরিণতি :
وَاسْتَكْبَرَهُوَوَجُنُودُهُفِيالْأَرْضِبِغَيْرِالْحَقِّوَظَنُّواأَنَّهُمْإِلَيْنَالَايُرْجَعُونَفَأَخَذْنَاهُوَجُنُودَهُفَنَبَذْنَاهُمْفِيالْيَمِّفَانْظُرْكَيْفَكَانَعَاقِبَةُالظَّالِمِينَ
ফিরাউন ও তার বাহিনী জমিনে অন্যায় অহমিকা প্রদর্শন করেছিল। তারা মনে করেছিল তাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না। সুতরাং আমি তাকে ও তার সৈন্যদেরকে পাকড়াও করলাম এবং সাগরে নিক্ষেপ করলাম। এবার দেখ, যালিমদের পরিণতি কী হয়ে থাকে! (কাসাস ২৮ : ৩৯-৪০)
وَجَاوَزْنَابِبَنِيإِسْرَائِيلَالْبَحْرَفَأَتْبَعَهُمْفِرْعَوْنُوَجُنُودُهُبَغْيًاوَعَدْوًاحَتَّىإِذَاأَدْرَكَهُالْغَرَقُقَالَآَمَنْتُأَنَّهُلَاإِلَهَإِلَّاالَّذِيآَمَنَتْبِهِبَنُوإِسْرَائِيلَوَأَنَامِنَالْمُسْلِمِينَآَلْآَنَوَقَدْعَصَيْتَقَبْلُوَكُنْتَمِنَالْمُفْسِدِينَفَالْيَوْمَنُنَجِّيكَبِبَدَنِكَلِتَكُونَلِمَنْخَلْفَكَآَيَةًوَإِنَّكَثِيرًامِنَالنَّاسِعَنْآَيَاتِنَالَغَافِلُونَ
আমি বনী ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। তখন ফিরাউন ও তার বাহিনী যুলুম ও সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবে মরার সম্মুখীন হল, তখন বলতে লাগল, আমি স্বীকার করলাম, বনী ইসরাঈল যেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং আমিও অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। (উত্তর দেয়া হল) এখন ঈমান আনছ? অথচ এর আগে তো তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী কালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। (কেননা) আমার নিদর্শন সম্পর্কে বহু লোক গাফেল হয়ে আছে। (ইউনুস ১০ : ৯০-৯২)
وَلَقَدْأَخَذْنَاآَلَفِرْعَوْنَبِالسِّنِينَوَنَقْصٍمِنَالثَّمَرَاتِلَعَلَّهُمْيَذَّكَّرُونَ
আমি ফিরাউনের সম্প্রদায়কে দুর্ভিক্ষ ও ফসলাদির ক্ষতির দ্বারা আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা সতর্ক হয়। (আরাফ ৭ : ১৩০)
কারূন ও তার পরিণতি
إِنَّقَارُونَكَانَمِنْقَوْمِمُوسَىفَبَغَىعَلَيْهِمْوَآَتَيْنَاهُمِنَالْكُنُوزِمَاإِنَّمَفَاتِحَهُلَتَنُوءُبِالْعُصْبَةِأُولِيالْقُوَّةِإِذْقَالَلَهُقَوْمُهُلَاتَفْرَحْإِنَّاللَّهَلَايُحِبُّالْفَرِحِينَ…قَالَإِنَّمَاأُوتِيتُهُعَلَىعِلْمٍعِنْدِيأَوَلَمْيَعْلَمْأَنَّاللَّهَقَدْأَهْلَكَمِنْقَبْلِهِمِنَالْقُرُونِمَنْهُوَأَشَدُّمِنْهُقُوَّةًوَأَكْثَرُجَمْعًاوَلَايُسْأَلُعَنْذُنُوبِهِمُالْمُجْرِمُونَ…فَخَسَفْنَابِهِوَبِدَارِهِالْأَرْضَفَمَاكَانَلَهُمِنْفِئَةٍيَنْصُرُونَهُمِنْدُونِاللَّهِوَمَاكَانَمِنَالْمُنْتَصِرِينَ…تِلْكَالدَّارُالْآَخِرَةُنَجْعَلُهَالِلَّذِينَلَايُرِيدُونَعُلُوًّافِيالْأَرْضِوَلَافَسَادًاوَالْعَاقِبَةُلِلْمُتَّقِينَ
কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি। কিন্তু সে তাদেরই প্রতি যুলুম করল। আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দিয়েছিলাম, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিমান লোকের পক্ষেও কষ্টকর ছিল। স্বরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পসন্দ করেন না। …সে বলল, এসব তো আমি আমার জ্ঞানবলে লাভ করেছি। সে কি জানত না যে, আল্লাহ তার আগে এমন বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছিলেন, যারা শক্তিতেও তার অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং লোকবলেও বেশি ছিল? অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করা হয় না। …পরিণামে আমি তাকে তার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দিলাম। তার স্বপক্ষে এমন কোন দল ছিল না যারা আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও পারল না আত্মরক্ষা করতে। … ওই পরকালীন নিবাস তো আমি সেই সকল লোকের জন্যই নির্ধারণ করব, যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য দেখাতে ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শেষ পরিণাম তো মুত্তাকীদেরই অনুকূল থাকবে। (কাসাস ২৮ : ৭৬,৭৮,৮১,৮৩)
নমরূদ ও তার পরিণতি
أَلَمْتَرَإِلَىالَّذِيحَاجَّإِبْرَاهِيمَفِيرَبِّهِأَنْآَتَاهُاللَّهُالْمُلْكَإِذْقَالَإِبْرَاهِيمُرَبِّيَالَّذِييُحْيِيوَيُمِيتُقَالَأَنَاأُحْيِيوَأُمِيتُقَالَإِبْرَاهِيمُفَإِنَّاللَّهَيَأْتِيبِالشَّمْسِمِنَالْمَشْرِقِفَأْتِبِهَامِنَالْمَغْرِبِفَبُهِتَالَّذِيكَفَرَوَاللَّهُلَايَهْدِيالْقَوْمَالظَّالِمِينَ
তুমি কি ঐ ব্যক্তির অবস্থা চিন্তা করনি, যাকে আল্লাহ রাজত্ব দান করার কারণে সে নিজ প্রতিপালকের (অস্তিত্ব) সম্পর্কে ইবরাহীমের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়? যখন ইবরাহীম বলল,তিনি আমার প্রতিপালক যিনি জীবনও দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। তখন সে বলল, আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। ইবরাহীম বলল, আচ্ছা, আল্লাহ তো সূর্যকে পূর্ব থেকে উদিত করেন, তুমি তা পশ্চিম থেকে উদিত কর তো! এ কথায় সে কাফের নিরুত্তর হয়ে গেল। আর আল্লাহ এরূপ যালিমদের হেদায়াত করেন না। (বাকারা ২ : ২৫৮)
পৃথিবীতে প্রথম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী ছিল নমরূদ। সে-ই আসমান অভিমুখে টাওয়ার নির্মাণ করেছিল। আল্লাহ তাকে শায়েস্তা করার জন্য একটি মশা পাঠান। সেটি তার নাকে প্রবেশ করে। মশার জ্বালা থেকে বাঁচার জন্য তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হত। তার রাজত্ব ছিল চারশত বছর। সে যেমন চারশত বছর পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল তেমনি আল্লাহ তাকে চারশত বছর এই আযাবে রাখেন। অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৮৭৮)
মাযলুমের আর্তনাদ
رَبَّنَاأَخْرِجْنَامِنْهَذِهِالْقَرْيَةِالظَّالِمِأَهْلُهَاوَاجْعَللَنَامِنْلَدُنْكَوَلِيًّاوَاجْعَللَنَامِنْلَدُنْكَنَصِيرًا
…হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে – যার অধিবাসীরা যালিম – অন্যত্র সরিয়ে নাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন অভিভাবক বানিয়ে দাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন সাহায্যকারী দাঁড় করিয়ে দাও। (নিসা ৪: ৭৫)
قَالُوالَنْنُؤْثِرَكَعَلَىمَاجَاءَنَامِنَالْبَيِّنَاتِوَالَّذِيفَطَرَنَافَاقْضِمَاأَنْتَقَاضٍإِنَّمَاتَقْضِيهَذِهِالْحَيَاةَالدُّنْيَا
তারা বলল, আমাদের কাছে যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর উপর তোমাকে আমরা কিছুতেই প্রাধান্য দিব না। সুতরাং তুমি কর যা তুমি করতে চাও। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনের উপরই কর্তৃত্ব করতে পার। (ত্ব-হা ২০ : ৭২)
যালিমদের জনপদকে আল্লাহ পাকড়াও করেন
فَكَأَيِّنمِّنقَرْيَةٍأَهْلَكْنَاهَاوَهِيَظَالِمَةٌفَهِيَخَاوِيَةٌعَلَىعُرُوشِهَاوَبِئْرٍمُّعَطَّلَةٍوَقَصْرٍمَّشِيدٍ{…وَكَأَيِّنْمِنْقَرْيَةٍأَمْلَيْتُلَهَاوَهِيَظَالِمَةٌثُمَّأَخَذْتُهَاوَإِلَيَّالْمَصِيرُ
আমি ধ্বংস করেছি কত জনপদ, যেগুলোর বাসিন্দা ছিল যালিম। এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্ত্তপে পরিণত হয়েছিল এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছিল ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদও। …এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি যখন তারা ছিল যালিম; অতঃপর তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে। ( হজ্ব ২২: ৪৫, ৪৮)
وَكَذَلِكَأَخْذُرَبِّكَإِذَاأَخَذَالْقُرَىوَهِيَظَالِمَةٌإِنَّأَخْذَهُأَلِيمٌشَدِيدٌإِنَّفِيذَلِكَلَآَيَةًلِمَنْخَافَعَذَابَالْآَخِرَةِذَلِكَيَوْمٌمَجْمُوعٌلَهُالنَّاسُوَذَلِكَيَوْمٌمَشْهُودٌوَمَانُؤَخِّرُهُإِلَّالِأَجَلٍمَعْدُودٍ
…যে সকল জনপদ যুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এমনই হয়ে থাকে।
বাস্তবিকই তাঁর পাকড়াও অতি মর্মন্তুদ, বড় কঠিন! যে ব্যক্তি আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে, তার জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে বিরাট শিক্ষা রয়েছে। তা হবে এমন দিন, যার জন্য সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে এবং তা হবে এমন দিন, যা সকলে চাক্ষুষ দেখতে পাবে। আমি নির্দিষ্ট কিছু কালের জন্য তা স্থগিত রেখেছি মাত্র। (হূদ ১১: ১০২-১০৪)
হযরত আবু মূসা আশআরী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যালিমকে অবকাশ দেন, তারপর যখন পাকড়াও করেন তখন আর কোন ছাড় দেন না। তারপর তিলাওয়াত করেন- (অর্থ)‘‘যে সকল জনপদ যুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তাঁর পাকড়াও অতি মর্মন্তুদ, বড় কঠিন!’’(দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৮৩)
أَفَأَمِنَأَهْلُالْقُرَىأَنْيَأْتِيَهُمْبَأْسُنَابَيَاتًاوَهُمْنَائِمُونَأَوَأَمِنَأَهْلُالْقُرَىأَنْيَأْتِيَهُمْبَأْسُنَاضُحًىوَهُمْيَلْعَبُونَأَفَأَمِنُوامَكْرَاللَّهِفَلَايَأْمَنُمَكْرَاللَّهِإِلَّاالْقَوْمُالْخَاسِرُونَ
তবে জনপদবাসীরা কি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্ভয় হয়ে গেছে যে, কোন রাতে তাদের উপর আমার শাস্তি এ অবস্থায় আপতিত হবে, যখন তারা থাকবে ঘুমন্ত? এসব জনপদবাসীর কি এ বিষয়ের (-ও) কোন ভয় নেই যে, তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হবে পূর্বাহ্ণে যখন তারা থাকবে ক্রীড়ারত। তারা কি আল্লাহর কৌশলের ভয় রাখে না। বস্ত্তত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে না। (আরাফ ৭ : ৯৭-৯৯)
আখেরাতে যালেমের পরিণতি :
فلاتحسبناللهغافلاعمايعملالظالمونإنمايؤخرهمليومتشخصفيهالأبصار،مهطعينمقنعيرؤوسهملايرتدإليهمطرفهموأفئدتهمهواء….وترىالمجرمينيومئذمقرنينفيالأصفاد،سرابيلهممنقطران…
তুমি কিছুতেই মনে করো না যালিমরা যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যস্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত। ভীত-বিহবল চিত্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা ছোটাছুটি করবে। নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে উদাস। …সেদিন তুমি অপরাধীদের দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়। তাদের জামা হবে আলকাতরার আর আগুন তাদের মুখমন্ডল আচ্ছন্ন করবে। … এটা এজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেকের কৃতকর্মের প্রতিফল দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন। এটা মানবজাতির জন্য এক বার্তা, যাতে এর দ্বারা তারা সতর্ক হয় এবং জানতে পারে যে, তিনি একমাত্র ইলাহ এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে। (ইবরাহীম ১৪ : ৪২,৪৩, ৪৯-৫২)
وَقُلِالْحَقُّمِنرَّبِّكُمْفَمَنشَاءفَلْيُؤْمِنوَمَنشَاءفَلْيَكْفُرْإِنَّاأَعْتَدْنَالِلظَّالِمِينَنَاراًأَحَاطَبِهِمْسُرَادِقُهَاوَإِنيَسْتَغِيثُوايُغَاثُوابِمَاءكَالْمُهْلِيَشْوِيالْوُجُوهَبِئْسَالشَّرَابُوَسَاءتْمُرْتَفَقاً{الكهف
বলে দাও, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তো সত্য এসে গেছে। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফর অবলম্বন করুক। আমি যালেমদের জন্য আগুন প্রস্ত্তত করে রেখেছি, যার প্রাচীর তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে তেলের তলানী সদৃশ পানি দেয়া হবে, যা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে। কতই না মন্দ সে পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! (কাহ্ফ ১৭: ২৯)
যালিম সফল হয় না :
فسوفتعلمونمنتكونلهعاقبةالدارإنهلايفلحالظالمون
তোমরা অচিরেই জানতে পারবে, কার পরিণাম মঙ্গলময়। যালিমরা কখনও সফল হবে না। (আনআম ৬ : ১৩৫)
وَسَيَعْلَمُالَّذِينَظَلَمُواأَيَّمُنْقَلَبٍيَنْقَلِبُونَ
যারা যুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন্ পরিণামের দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে। (শুআরা ২৬ : ২২৭)
অবশেষে কর্তৃত্ব মুমিনদের :
وَنُرِيدُأَنْنَمُنَّعَلَىالَّذِينَاسْتُضْعِفُوافِيالْأَرْضِوَنَجْعَلَهُمْأَئِمَّةًوَنَجْعَلَهُمُالْوَارِثِينَ
আমি ইচ্ছা করলাম, যমীনে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতৃত্ব দান করতে, উত্তরাধিকারী করতে। (কাসাস ২৮: ৫)
قَالَمُوسَىلِقَوْمِهِاسْتَعِينُوابِاللَّهِوَاصْبِرُواإِنَّالْأَرْضَلِلَّهِيُورِثُهَامَنْيَشَاءُمِنْعِبَادِهِوَالْعَاقِبَةُلِلْمُتَّقِينَ
মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং ধৈর্য ধারণ কর; যমিন তো আল্লারই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (আরাফ ৭: ১২৮)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s