Gallery

তারাবীহ নামাযের রাকায়াত সংখ্যার ব্যাপারে ৪ ইমামের অবস্থান !

ভূমিকা হিসেবে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (মৃঃ ১১৭৬ হিঃ) এর একটি কথা দিয়ে শুরু করলাম।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেছেন – “২০রাকাআত তারাবীহ ধারাবাহিক প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত যার উপর মুসলিমদের আমল প্রথম যুগথেকে চলে আসছে। বিশেষভাবে, চার ইমামের এই বিষয়ে ঐক্যমত্য সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে এটিএকটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত।” (হুজ্জাতুলাহিল বালিগা ১/৪১২-৪১৩).

১। ইমাম আবু হানিফা (মৃঃ ১৫০ হিঃ)

ইবরাহীম আল নাখাঈ এর রায় ২০ রাকাআত এর পক্ষে ।তিনি বলেন- “ লোকেরা রমযানে ৫ তারবীহাত আদায় করত।” (কিতাবুল আছার ইমাম মুহাম্মদ)।
৫ তারবীহাত বলতে যে ২ রাকাআত করে করে এবংপ্রত্যেক ৪ রাকাআত পর বিশ্রামের মাধ্যমে ২০ রাকাআতকে বুঝানো হয় তা ইমাম মুহাম্মাদইবনে আবি বকর আল রাযীও (মৃঃ ৬৬৬ হিঃ) তাঁর হানাফী ফিক্বহ এর কিতাব ‘তুহফাতুলমুলুক’এ (১/৮০, দারুল বাশাইর আল ইসলামিয়া, ১ম সম্পাদনা, ১৪১৭ হিঃ) উল্লেখ করেছেন।একই রকম কথা হানাফী ইমাম আবদুল্লাহ আল মাওসিলি (মৃঃ ৬৮৩ হিঃ) তাঁর ‘আল ইখতিয়ার লিতা লীল আল মুখতার’ কিতাবে (১/৭৫, দারুল কুতুব ইলমিয়া, বৈরুত, ২য় সম্পাদনা, ২০০৫)উল্লেখ করেছেন।
সনদের মানঃ
ইমাম আবু হানিফা এই রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন তারশায়খ হাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনাকরেছেন তার উস্তাদ, ইরাকের ফক্বীহইমাম ইবরাহীম আল নাখাঈ থেকে। হয়। ইবরাহীম এর রেওয়ায়েতটি একটি মুরসাল রেওয়ায়েতএবং তার সময়ের জরাহ ওয়া তাদীলের ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এর ভাষ্যমতে ইবরাহীমেরসমস্ত মুরসাল রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য শুধুমাত্র ২টি রেওয়ায়েত ছাড়া এবং উপরোক্তরেওয়ায়েতটি এই ২ ধরণের অগ্রহণযোগ্য মুরসাল রেওয়ায়েতের মধ্যে পড়ে না। ( ইবনে মাঈনের এই উক্তি দেখুনঃ ইমাম বাইহাক্বী এর সুনান আলকুবরাঃ ১/১৪৮ )
ইমাম ইবরাহীম আল নাখাঈ এমন সময় বসবাস করতেন যখন কিছু সংখ্যক সাহাবারা জীবিত ছিলেন এবং তিনি প্রসিদ্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রদ্বিঃ) এর ছাত্রদের কাছ থেকে অনেক হাদীস এবং উক্তি গ্রহণ করেছেন। তিনি ৫ তারবীহা পড়তেন বলে যেসব লোকদের কথা উল্লেখ করেছেন, সেসব লোকেরা হয় সাহাবা হয়ে থাকবেন অথবা তাদের ছাত্র যারা বড় বড় তাবেঈন ছিলেন, যেমন তার উস্তাদ আলকামা, আসওয়াদ এবং তাদের সমকালীন/বংশের লোক, তারা হয়ে থাকবেন। সহীহ সনদের মাধ্যমে বর্ণিত এই উক্তিটি হানাফী স্কলারদের মতে এই কথার প্রমাণ বহন করে যে ইমাম আবু হানিফার রায় ছিল ২০ রাকাআত এরউপর এবং সাথে সাথে তার শায়খ এবং তার পরে তার শাগরেদদেরও রায় এটি।

২। ইমাম মালিক (মৃঃ১৭৯ হিঃ)

মদীনাতে মদীনাবাসীরা ইমামের পিছনে প্রত্যেক ৪ রাকাআততারাবীহ আদায় করার পর তারা ব্যক্তিগতভাবে ৪ রাকাআত (নফল) পড়তেন। এভাবে, ইমামেরপিছনে তারাবীহ হয় মোট ২০ রাকাআত এবং ব্যক্তিগত নামায হয় ১৬ রাকাআত (নফল), তার সাথেথাকে ৩ রাকাআত বিতর। এভাবে সর্বমোট ৩৯ রাকাআত হয় আর তার বিতরের পর যদি অতিরিক্ত ২রাকাআত নফল যোগ করা হয়, তখন সর্বমোট হয় ৪১ রাকাআত।
ক্বাযী শাহনুন (মৃঃ ২৪০ হিঃ) এর ‘আলমুদাওওনাতুল কুবরা’, যা মালিকি ফিক্বহের কিতাব এবং যেখানে ইমাম মালিক ইবনে আনাসেরঅনেক বিখ্যাত ফাতওয়ার সমাহার ঘটেছে সনদ সহকারে, কিতাবে ইমাম মালিকের মাযহাবের রায়লিখা হয়েছে এভাবেঃ ” ইবনে আল ক্বাসিম বলেনঃ রাকাআত (তারাবীহ) হল বিতর সহ ৩৯,৩৬ রাকাআত (তারাবীহ) এবং ৩ রাকাআত বিতর। ”

৩। ইমাম আল শাফী (মৃঃ ২০৪ হিঃ)

কোন ধরণের সন্দেহ নেই ইমাম শাফী এর মত ২০রাকাআত এর পক্ষে। ইমাম শাফী এর ছাত্র ইমাম আল মুযানী তার ‘মুখতাছার’ কিতাবে (পৃঃ৩৪) ইমাম শাফী থেকে ২০ রাকাআত এর কথা বর্ণনা করেছেন।
ইমাম শাফী তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুলউম্ম’ এ লিখেনঃ ” তারাবীহ এর নামায ২০ রাকা’আত পড়া আমার কাছে পছন্দনীয়। কেননা,উমর(রদ্বিঃ)থেকে এমনই বর্ণিত আছে। আর মক্কাবাসীগণও তারাবীহ এর নামায এভাবেই আদায় করেন এবং তিন রাকা’আত বিতর পড়েন। ” (‘কিতাবুল উম্ম’ ১/১৪২, দারুল মারিফা সম্পাদনা,বৈরুত, ২য় সম্পাদনা, ১৩৯৩ হিঃ) , ( ইমাম বায়হাক্বীর ‘মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার’কিতাবে ৪/৪০, নং ৫৪০৩ এবং ৫৪০৪, কাল আযী সম্পাদনা)।

৪। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (মৃঃ২৪১ হিঃ)

হাম্বলী ফ্বকীহ ইবনে ক্বদামা আল মাকদিসী (মৃঃ৬২০ হিঃ) বলেন – ” আর আবু আবদুল্লাহ (আহমেদ ইবনে হাম্বল) (রহঃ) এর অগ্রগণ্যমত হল, এটি ২০ রাকাআত এবং এটি (সুফিয়ান) আল সাওরী, আবু হানীফা, আল শাফি এর মত এবংমালিক বলেছেন এটি ৩৬ রাকাআত … ” (‘আল মুগনী’ (২/১৬৭))
বাস্তবতা হল, আবুল কাসিম উমর ইবনে আল হুসাইন আলখিরাক্বী তাঁর ‘আল মুখতাছার’ কিতাবে (পৃঃ ৩১) ২০ রাকাআতকেই হাম্বলীদের একমাত্র মত বলে উল্লেখ করেছেন। ভূমিকা হিসেবে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (মৃঃ ১১৭৬ হিঃ) এর একটি কথা দিয়ে শুরু করলাম।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেছেন – “২০রাকাআত তারাবীহ ধারাবাহিক প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত যার উপর মুসলিমদের আমল প্রথম যুগথেকে চলে আসছে। বিশেষভাবে, চার ইমামের এই বিষয়ে ঐক্যমত্য সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে এটিএকটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত।” (হুজ্জাতুলাহিল বালিগা ১/৪১২-৪১৩).

১। ইমাম আবু হানিফা (মৃঃ ১৫০ হিঃ)

ইবরাহীম আল নাখাঈ এর রায় ২০ রাকাআত এর পক্ষে ।তিনি বলেন- “ লোকেরা রমযানে ৫ তারবীহাত আদায় করত।” (কিতাবুল আছার ইমাম মুহাম্মদ)।
৫ তারবীহাত বলতে যে ২ রাকাআত করে করে এবংপ্রত্যেক ৪ রাকাআত পর বিশ্রামের মাধ্যমে ২০ রাকাআতকে বুঝানো হয় তা ইমাম মুহাম্মাদইবনে আবি বকর আল রাযীও (মৃঃ ৬৬৬ হিঃ) তাঁর হানাফী ফিক্বহ এর কিতাব ‘তুহফাতুলমুলুক’এ (১/৮০, দারুল বাশাইর আল ইসলামিয়া, ১ম সম্পাদনা, ১৪১৭ হিঃ) উল্লেখ করেছেন।একই রকম কথা হানাফী ইমাম আবদুল্লাহ আল মাওসিলি (মৃঃ ৬৮৩ হিঃ) তাঁর ‘আল ইখতিয়ার লিতা লীল আল মুখতার’ কিতাবে (১/৭৫, দারুল কুতুব ইলমিয়া, বৈরুত, ২য় সম্পাদনা, ২০০৫)উল্লেখ করেছেন।
সনদের মানঃ
ইমাম আবু হানিফা এই রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন তারশায়খ হাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনাকরেছেন তার উস্তাদ, ইরাকের ফক্বীহইমাম ইবরাহীম আল নাখাঈ থেকে। হয়। ইবরাহীম এর রেওয়ায়েতটি একটি মুরসাল রেওয়ায়েতএবং তার সময়ের জরাহ ওয়া তাদীলের ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এর ভাষ্যমতে ইবরাহীমেরসমস্ত মুরসাল রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য শুধুমাত্র ২টি রেওয়ায়েত ছাড়া এবং উপরোক্তরেওয়ায়েতটি এই ২ ধরণের অগ্রহণযোগ্য মুরসাল রেওয়ায়েতের মধ্যে পড়ে না। ( ইবনে মাঈনের এই উক্তি দেখুনঃ ইমাম বাইহাক্বী এর সুনান আলকুবরাঃ ১/১৪৮ )
ইমাম ইবরাহীম আল নাখাঈ এমন সময় বসবাস করতেন যখন কিছু সংখ্যক সাহাবারা জীবিত ছিলেন এবং তিনি প্রসিদ্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রদ্বিঃ) এর ছাত্রদের কাছ থেকে অনেক হাদীস এবং উক্তি গ্রহণ করেছেন। তিনি ৫ তারবীহা পড়তেন বলে যেসব লোকদের কথা উল্লেখ করেছেন, সেসব লোকেরা হয় সাহাবা হয়ে থাকবেন অথবা তাদের ছাত্র যারা বড় বড় তাবেঈন ছিলেন, যেমন তার উস্তাদ আলকামা, আসওয়াদ এবং তাদের সমকালীন/বংশের লোক, তারা হয়ে থাকবেন। সহীহ সনদের মাধ্যমে বর্ণিত এই উক্তিটি হানাফী স্কলারদের মতে এই কথার প্রমাণ বহন করে যে ইমাম আবু হানিফার রায় ছিল ২০ রাকাআত এরউপর এবং সাথে সাথে তার শায়খ এবং তার পরে তার শাগরেদদেরও রায় এটি।

২। ইমাম মালিক (মৃঃ১৭৯ হিঃ)

মদীনাতে মদীনাবাসীরা ইমামের পিছনে প্রত্যেক ৪ রাকাআততারাবীহ আদায় করার পর তারা ব্যক্তিগতভাবে ৪ রাকাআত (নফল) পড়তেন। এভাবে, ইমামেরপিছনে তারাবীহ হয় মোট ২০ রাকাআত এবং ব্যক্তিগত নামায হয় ১৬ রাকাআত (নফল), তার সাথেথাকে ৩ রাকাআত বিতর। এভাবে সর্বমোট ৩৯ রাকাআত হয় আর তার বিতরের পর যদি অতিরিক্ত ২রাকাআত নফল যোগ করা হয়, তখন সর্বমোট হয় ৪১ রাকাআত।
ক্বাযী শাহনুন (মৃঃ ২৪০ হিঃ) এর ‘আলমুদাওওনাতুল কুবরা’, যা মালিকি ফিক্বহের কিতাব এবং যেখানে ইমাম মালিক ইবনে আনাসেরঅনেক বিখ্যাত ফাতওয়ার সমাহার ঘটেছে সনদ সহকারে, কিতাবে ইমাম মালিকের মাযহাবের রায়লিখা হয়েছে এভাবেঃ ” ইবনে আল ক্বাসিম বলেনঃ রাকাআত (তারাবীহ) হল বিতর সহ ৩৯,৩৬ রাকাআত (তারাবীহ) এবং ৩ রাকাআত বিতর। ”

৩। ইমাম আল শাফী (মৃঃ ২০৪ হিঃ)

কোন ধরণের সন্দেহ নেই ইমাম শাফী এর মত ২০রাকাআত এর পক্ষে। ইমাম শাফী এর ছাত্র ইমাম আল মুযানী তার ‘মুখতাছার’ কিতাবে (পৃঃ৩৪) ইমাম শাফী থেকে ২০ রাকাআত এর কথা বর্ণনা করেছেন।
ইমাম শাফী তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুলউম্ম’ এ লিখেনঃ ” তারাবীহ এর নামায ২০ রাকা’আত পড়া আমার কাছে পছন্দনীয়। কেননা,উমর(রদ্বিঃ)থেকে এমনই বর্ণিত আছে। আর মক্কাবাসীগণও তারাবীহ এর নামায এভাবেই আদায় করেন এবং তিন রাকা’আত বিতর পড়েন। ” (‘কিতাবুল উম্ম’ ১/১৪২, দারুল মারিফা সম্পাদনা,বৈরুত, ২য় সম্পাদনা, ১৩৯৩ হিঃ) , ( ইমাম বায়হাক্বীর ‘মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার’কিতাবে ৪/৪০, নং ৫৪০৩ এবং ৫৪০৪, কাল আযী সম্পাদনা)।

৪। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (মৃঃ২৪১ হিঃ)

হাম্বলী ফ্বকীহ ইবনে ক্বদামা আল মাকদিসী (মৃঃ৬২০ হিঃ) বলেন – ” আর আবু আবদুল্লাহ (আহমেদ ইবনে হাম্বল) (রহঃ) এর অগ্রগণ্যমত হল, এটি ২০ রাকাআত এবং এটি (সুফিয়ান) আল সাওরী, আবু হানীফা, আল শাফি এর মত এবংমালিক বলেছেন এটি ৩৬ রাকাআত … ” (‘আল মুগনী’ (২/১৬৭))
বাস্তবতা হল, আবুল কাসিম উমর ইবনে আল হুসাইন আলখিরাক্বী তাঁর ‘আল মুখতাছার’ কিতাবে (পৃঃ ৩১) ২০ রাকাআতকেই হাম্বলীদের একমাত্র মত বলে উল্লেখ করেছেন।
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
চার ইমাম থেকে নিচের অভিমতগুলোও রয়েছে
ইমাম আবূ হানীফা রহ. অভিমত:
ইমাম মুহাম্মদ বলেন, “আবূ হানীফা আমাদের জানিয়েছেন, যিনি বলেন, আমাদের নিকট আবূ জাফর বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন, নবী (সা:) ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে ১৩ রাকআত পড়তেন, যার ৮ রাকআত নফল, ৩ রাকআত বিতর, এবং দুই রাকআত ফজরের সালাতের সুন্নাত ছিল।”
[মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বিতরসহ সালাত আদায়ের অনুচ্ছেদ]
ইমাম মালিক রহ. অভিমত:
আমি ১১ রাকআত রামাযানের কিয়াম হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং উমার বিন খাত্তাব লোকদেরকে একত্রে করেছিলেন এই সালাতের উপর এবং এটাই আল্লাহর নবীর (সা:) এর সালাত। এবং আমি জানিনা কোথা থেকে মানুষ এই বহু রাকআতের উদ্ভাবন করল।” [কিতাবুল তাহাজ্জুদ, আব্দুল হক আল-শাবীলি; হাদীস নং ৮৯০]
আল্লামা আইনি হানাফী রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর অভিমত ছিল ১১ রাকআতের উপর। [দেখুন উমদাতুল কারী ১১/১২৬, ২০১০ নং হাদীসের আলোচনায়]
শাইখ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মতানুযায়ী, ইমাম মালিক রহ. এর মাযহাব হল ৩৬ রাকআত। [আল-ইখতিয়ারাত, পৃ: ৬]
কাযী আবূ বকর আল-আরবি আল-মালিকী রহ. বলেন:
এবং সঠিক (মত) হল যে ১১ রাকআত পড়া উচিত। এটা ছিল রাসূল (সা:) এর সালাত ও কিয়াম। এর বাইরের কোন সংখ্যার কোন সত্যতা নাই। [عارضۃ الاحوذی 4/19 ح806]
ইমাম শাফেয়ী রহ. ২০ রাকাআত তারাবীহর কথা বলার পর বলেছেন:
“(তারবীহর সালাতের) ব্যাপারে কোন সমস্যা নাই এবং এর (রাকআত সংখ্যার) কোন সীমাবদ্ধতা নাই কারণ এটা নফল সালাত। যদি রাকআত সংখ্যা কম এবং কিয়াম লম্বা হয় তাহলে তা উত্তম এবং আমি এই মত পছন্দ করি আর যদি বেশি রাকআত সংখ্যা হয় তাহলেও তা উত্তম।” [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২, ২০৩]
ইমাম আহমাদ ইবনে হানবল রহ. বলেন:
– ইসহাক বিন মানসুর রাকআতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: ৪০ রাকআত এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, এটা শুধু নফল সালাত। [মুখতাসার কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ২০২]
– ইবনে তাইমিয়াহ রহ. বলেন, “কিন্তু সঠিক অভিমত হল যে সবগুলোই ভাল, যেমন বলেছেন ইমাম আহমাদ রহ.। কিয়ামুল রামাযানের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকআত নাই, কারণ রাসূল (সা:) কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি।” [মাজমুআল ফাতাওয়া, ২৩/১১৩]
– তিরমিযি রহ. একই কথা বলেছেন যে ইমাম আহমাদ রাকআতের কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে যান নি। “ولم يقض فيه بشيء”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s