Gallery

মাজহাব মানা ও না মানা এর সংশয় নিরসন !

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর। দুরুদ ও সালাম নাজিল হোক প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর।

ইসলামের ৪ মহান ইমাম-
ইমাম আবু হানীফা নু’মান বিন ছাবিত রাহিমাহুল্লাহ,
ইমাম মালেক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহ,
ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইদরীছ আশ-শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ এবং
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল আশ-শাইবানী আল-বাগদাদী রাহিমাহুল্লাহ
এছাড়াও আরো মুজতাহিদ ইমাম ছিলেন,তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইমাম আওযাঈ,ইমাম ইসহাক ইবন রাহ’ওয়া, ইমাম লাইছ ইবন সা’দ, ইমাম ইবন জারীর আত-তাবারী।

বর্তমানে আমাদের মুসলিমদের মধ্যে একটি বড় ব্যাধি হল – মাজহাব মানা ও না মানা নিয়ে ঝগড়া করা।

মাজহাব মানা বলতে বুঝানো হচ্ছে কোন একজন(নির্দিষ্ট) ইমামের(৪ ইমাম হতে) মত ও পথ অনুসরণ করা (এই অনুসারীদের বলা হয়- মাযহাবী)
আর মাজহাব না মানা বলতে বুঝানো হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট ইমামের পথ অনুসরণ না করা (এদের বলা হয়- লা মাযহাবী)
অপর কথায় বলা যায়ঃ
১.নির্দিষ্ট কোন একজন মুজতাহিদ ইমামের অনুসারী হল- মাজহাবী
২.নির্দিষ্ট কোন একজন মুজতাহিদ ইমামের অনুসারী নয় বরং এই ৪ ইমামের মধ্য হতে যার ইজতিহাদ কোরআন ও সুন্নাহর নিকটবর্তী তার অনুসারীরা হল- লা মাযহাবী
মাযহাবীরা আবার ২ ভাগে বিভক্ত,

১. ইমামের ইজতিহাদের অন্ধ অনুসারী(তাকলীদ করা)
২.ইমামের ইজতিহাদের অনুসারী কিন্তু অন্ধ অনুসারী নয়(তাকলীদ না করা বরং ইত্তেবা করা)
তাকলীদের পারিভাষিক অর্থ- তাক্বলীদ হল শারঈ বিষয়ে কোন মুজতাহিদ বা শরী‘আত গবেষকের কথাকে বিনা দলীল-প্রমাণে চোখ বুজে গ্রহণ করা।
তাকলীদ করার ব্যাপারে বিশিষ্ট আলেমদের মন্তব্যঃ

১. ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন,
তাক্বলীদ হল রায়-এর অনুসরণ এবং ইত্তেবা হল রেওয়ায়াতের অনুসরণ। ইসলামী শরীআতে ইত্তেবা সিদ্ধ এবং তাক্বলীদ নিষিদ্ধ (শাওকানী, আল-ক্বাওলুল মুফীদ, মিসরী ছাপা ১৩৪০/১৯২১ খৃঃ, পৃঃ ১৪)

২. মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রহঃ) বলেন,
তাকলীদ হল কারো দলীল সম্পর্কে অবহিত না হয়ে তার কথা গ্রহণ করা, যা তার ইজতিহাদ বা গবেষণা ব্যতীত কিছুই নয়। পক্ষান্তরে শারঈ দলীল কারো মাযহাব ও কথা নয়, বরং তা একমাত্র অহী-র বিধান, যার অনুসরণ করা সকলের উপর ওয়াজিব। (ঐ)

৩. ইমাম ইবনে রাজাব আল-হাম্বলী(রহ) বলেছেনঃ ‘যার কাছেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ পৌঁছে যায় এবং তিনি তা বুঝতে পারেন তাহলে তার উপর এটাকে উম্মতের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করে দেখা ও তাদের মঙ্গল কামনা করা এবং তার নির্দেশ পালন করার আদেশ প্রদান করা ওয়াজিব যদিও তা উম্মতের বিরাট কোন ব্যক্তিত্বর বিরোধী হয়’(আলবানী-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত;৩৫-তাওহীদ পাবলিকেশন্স)
ইমামের অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের অনুসারীরা ইমামদের কিছু কথার বিরদ্ধে অবস্থান করেছেন তার পরও তারা সেই মাজহাবের অন্তর্ভুক্ত হিসাবেই গণ্য হতেনঃ

১. ইমাম মুহাম্মাদ ইবন হাসান ও ইমাম আবু ইউসুফ ছিলেন ইমাম আবু হানিফার অনুসারী। কিন্তু তারা ইমাম আবু হানিফার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফতওয়ার বিরোধিতা করেছেন (ইবন আবিদীন; ১/৬২)

২. ইমাম মুহাম্মাদ তার মুয়াত্তা গ্রন্থের ১৫৮ পৃঃ তে বলেছেন- আবু হানিফা ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) কোন সালাত আছে বলে মনে করতেন না, তবে আমার কথা হচ্ছে (ইসতিসকার সালাত হল) ইমাম লোকজনকে নিয়ে ২ রাকাত সালাত পড়বেন অতঃপর দোয়া করবেন।
[ইমাম মুহাম্মাদ তার এই মুয়াত্তা গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফার প্রায় ২০টি ফতওয়ার বিরোধিতা করেছেন, তা যথাক্রমে- ৪২,৪৩,১০৩,১২০,১৫৮,১৬৯,১৭২,১৭৩,২২৮,২৩০,২৪০,২৪৪,২৭৪,২৭৫,২৮৪,৩১৪,৩৩১,৩৩৮,৩৩৫,৩৩৬ পৃঃ রয়েছে]

৩. তাফসীর ইবনে কাসীরের লিখক- ইমাম ইবন কাসীর ছিলেন শাফী মাজহাবের অনুসারী। শাফী মাজহাব অনুসারে মুক্তাদিরা ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় সুরা ফাতিহা পাঠ করবে এবং এটা ওয়াজিব(ইমাম শাফেয়ীর মতে) ইমাম ইবন কাসীর শাফী মাজহাবের অনুসারী হওয়া সর্তেও ইমামের পিছনে মুক্তাদির যেহরী কিরাত বিশিষ্ট সালাতে(যেমনঃ ফজর,মাগরিব) সুরা ফাতিহা পরবে না বলে মত প্রকাশ করেছেন (তাফসীর ইবন কাসীর,সুরা আরাফের ২০৪ নং আয়াতের তাফসীর,৮-১১ খণ্ড)

৪. ইমাম ইবন তাইমিয়াহ ছিলেন হাম্বলী, হাম্বলী মাজহাব মতে ৩ তালাক একত্রে দিলেও ৩ তালাক হিসাবে তা গণ্য হবে কিন্তু ইমাম ইবন তাইমিয়াহ বলেছেন- ৩ তালাক একত্রে দিলে ১ তালাক হিসাবে তা গণ্য হবে। যা হাম্বলী মাজহাবের বিরদ্ধে।

৫. মুহাদ্দিস দেহলভী শাহ ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন হানাফী(কেহ কেহ তাকে লা মাযহাবীও বলে থাকেন) তিনি ইমাম আবু হানিফার বিরদ্ধে অবস্থান করে রুকুর আগে ও পরে রাফুল ইয়াদিন(হাত উত্তোলন) করাকে পছন্দ করেছেন (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা;২/১০)

৬. মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেনঃ সালাতে রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময়
দু হাত না তোলা সম্পর্কে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সবই বাতিল হাদীস। তন্মধ্যে একটিও সহীহ নয় (মাওযুআতে কাবীর, পৃ-১১০)
আর অনেক এমন প্রমাণ রয়েছে, এখানে মাত্র ৬ টি প্রমাণ উল্লেখ্য করলাম। এসব অনুসারীরা তাদের ইমামদের বিরোধিতা করার পরও মাজহাবের গণ্ডি থেকে বের হন নি। সুতরাং বর্তমানে কেহ যদি তার মাজহাবের কোন কথা কোরআন অথবা সহীহ হাদিসের বিরদ্ধে পায় এবং মাজহাবের সেই কথাকে বর্জন করে সঠিক কথা (কোরআন অথবা সহীহ হাদিসের ভিত্তিক) কে মেনে নেয় তাহলে সে মাজহাব থেকে বের হবে না বরং সে মাজহাবকে সঠিক ভাবে মানলো।
এক্ষেত্রে আমি উল্লেখ্য করছি একজন প্রখ্যাত আলেমের কথা,
শেইখ নাসীরুদ্দিন আলবানী(রহ) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি ইমামদের কিছু কথার বিরুদ্ধে গেলেও সকল সুসাব্যস্ত হাদীস আঁকড়ে ধরবেন তিনি ইমামদের মাজহাব বিরোধী হবেন না এবং তাদের তরীকা থেকে বহিস্কারও হবেন না বরং তিনি হবেন তাদের প্রত্যেকের অনুসারী। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি শুধু ইমামদের বিরোধিতা করার কারণে সুসাব্যস্ত হাদীস প্রত্যাখ্যান করে তার অবস্থা এমনটি নয়,বরং সে এর মাধ্যমে তাদের অবাধ্য হল এবং তাদের পূর্বোক্ত কথাগুলর বিরোধিতা করল’ (আলবানী-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত;৩৪-তাওহীদ পাবলিকেশন্স)
ইমামদের ইজতিহাদ অনুসরণের কারণঃ
আপনি যদি নিজে ইজতিহাদ করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে আপনার জন্য কোন ইমামের অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনি যদি ইজতিহাদ করার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে আপনাকে ইমামের ইজতিহাদ অনুসরণ করতে হবে। এখানে আমি বিশিষ্ট আলেম- শেইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমিন(রহ) এর বক্তব্য পেশ করলাম,
(শেইখ বলেছেন) এ ব্যাপারে মানুষ ৩ ভাগে বিভক্তঃ
১.আলেম, যাকে আল্লাহ ঈলম ও সমঝ দান করেছেন

২.তালেবে-ইলম, যার ইলম আছে কিন্তু তিনি ঐ বড় আলেমের দরজায় পৌঁছেননি

৩.সাধারণ মানুষ, যার কোন(শরয়ী) ইলম নেই
(তিনি আরো বলেন) প্রথম শ্রেণীর মানুষের ইজতিহাদ করে বলার অধিকার আছে।
দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ,যাকে আল্লাহ ইলম দান করেছেন কিন্তু তিনি ঐ বড় আলেমের দরজায় পৌঁছেননি। এমন শ্রেণীর মানুষ যদি শরীয়তের ব্যপক ও সাধারণ এবং তার নিকট যে ইলম পৌঁছেছে তা দ্বারা ফয়সালা দিয়ে থাকেন তাহলে তার জন্য তা দোষের কিছু নয়। তবে তার পক্ষে জরুরী এই যে, তিনি এ ব্যাপারে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং তার থেকে বড় আলেমকে জিজ্ঞাসা করে নিতে কুণ্ঠিত হবেন না। কারণ তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কখন বা তার ইলম বা সমঝ ব্যাপক কে সীমাবদ্ধ, সাধারণকে নির্দিষ্ট অথবা রহিত আদেশকে বহাল মনে করতে পারেন। অথচ তিনি এ ব্যাপারে কোন টেরই পাবেন না।
পক্ষান্তরে তৃতীয় শ্রেণীর মানুষ, যাদের নিকট শরীয়তের ইলম নেই, তাদের জন্য আহলে ইলমকে জিজ্ঞাসা করে নেওয়া ওয়াজিব। [ইবনে উসাইমিন- উলামাদের মতানৈক্য ও আমাদের কর্তব্য;২৬-২৭-তাওহীদ পাবলিকেশন্স]
হাদীস থাকতেও সাধারন মানুষদের জন্য আলেমদের অনুসরনের মাধ্যমেই আহকাম এর অনুসরন করতে হবে, বিস্তারিত এখানে।

ইমামদের তাকলীদ করার ব্যাপারে তাদের(৪ ইমামের) নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের অনুসরণের কথাঃ

১- ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা :

১. যখন ছহীহ হাদীছ পাবে, জেনো সেটাই আমার মাযহাব (হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩)২. আমি যদি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর কথার (হাদীছ) বিরোধী কোন কথা বলে থাকি, তাহলে আমার কথাকে ছুঁড়ে ফেলে দিও (ছালেহ ফুল্লানী, ইক্বাযু হিমাম, পৃঃ ৫০)

২- ইমাম মালেক (রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা :
আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি ভুল করি, আবার ঠিকও করি। অতএব আমার সিদ্ধান্তগুলো তোমরা যাচাই কর। যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে হবে সেগুলো গ্রহণ কর। আর যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিকূলে হবে তা প্রত্যাখ্যান কর (ইমাম ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ৬/১৪৯)

৩- ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা :
আমি যেসব কথা বলেছি, তা যদি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছহীহ হাদীছের বিপরীত হয়, তবে রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছই অগ্রগণ্য। অতএব তোমরা আমার তাক্বলীদ কর না (ইবনু আবী হাতেম, পৃঃ ৯৩, সনদ ছহীহ)

৪- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা :
তুমি আমার তাক্বলীদ কর না এবং তাক্বলীদ কর না মালেক, শাফেঈ, আওযাঈ ও ছাওরীর (ইলামুল মুওয়াক্কি’ঈন, ২/৩০২)
৪ ইমামের উপরোক্ত কথা গুল থেকে বুঝা যায় যে তারা তাদের তাকলীদ(অন্ধ অনুসরণ) করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তাদের কথা থেকে এটি প্রমাণিত যে, তখন থেকেই তাদের অনুসরণ করা হত। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেছেনঃ তুমি আমার তাক্বলীদ কর না, কিন্তু তিনি বলেন নি যে তুমি আমার অনুসরণ কর না। অর্থাৎ ইমামদের অনুসরণ সম্পূর্ণ বৈধ।

যারা বলে- নির্দিষ্ট কোন ইমামের(মাজহাব) অনুসরণ করা অনর্থক কাজ অথবা ভুল কাজঃ

১. ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল-বোখারী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ২৫৬ হিজরি) [কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ মুজতাহিদ ছিলেন, কেউ কেউ বলেন তিনি কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না]

২. ইমাম মুসলিম(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ২৬১ হিজরি) [কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ মুজতাহিদ ছিলেন, কেউ কেউ বলেন তিনি কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না]

৩. ইমাম আবু দাউদ(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ২৭৫ হিজরি)

৪. ইমাম নাসাঈ(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৩০৩ হিজরি) [কেউ কেউ তাকে শাফীঈ মাযহাবের অনুসারীও বলেন]

৫. ইমাম ইবন খুজাইমা(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৩১১ হিজরি)

৬. ইমাম আবু জাফর আত-তহাবী(রহ) ছিলেন হানাফী (মৃত্যু- ৩২১ হিজরি)

৭. ইমাম আল-হাসান ইবন আলী আল-বারবাহারী(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৩২৯ হিজরি)

৮. ইমাম তাবারানী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৩৬০ হিজরি)

৯. ইমাম বাইহাকী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৪৫৮ হিজরি)

১০. ইমাম ইবনে আকিল(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৪৮৮ হিজরি)

১১. শেইখ আব্দুল কাদের জিলানী(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৫৬১ হিজরি)

১২. ইমাম ইবন কুদামা(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৬২০ হিজরি)

১৩. ইমাম মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া আন-নববী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৬৭৬ হিজরি)

১৪. ইমাম ইবন তাইমিয়াহ(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৭২৮ হিজরি)

১৫. ইমাম যাহাবী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৭৪৮ হিজরি)

১৬. ইমাম ইবন কাইয়ুম(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৭৫১ হিজরি)

১৭. ইমাম ইবন কাসীর(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৭৭৪ হিজরি)

১৮. ইমাম ইবন রাজাব(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ৭৯৫ হিজরি)

১৯. হাফেজ ইবন হাজার আল-আস্কালানী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৮৫২ হিজরি)

২০. ইমাম শাখাবী(রহ) ছিলেন শাফী (মৃত্যু- ৯০২ হিজরি)

২১. ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দ)
এছাড়াও আমরা প্রায় সবাই যাদের সম্মান করি তাদের অনেকেই ছিলেন হাম্বলী। যেমনঃ

১. শেইখ আব্দুল আজিয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ)।
তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ছিলেন। তার হম্বলী হওয়ার প্রমানঃ

http://www.hanabilah.com/were-ibn-taymiyyah-ibn-qayyim-ibn-abdulwahab-ibn-baz-and-ibn-uthaymin-hanbalis/

http://www.binbaz.org.sa/mat/8225

http://islamqa.info/en/ref/23280/hanbali

২. শেইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমিন(রহ) ছিলেন হাম্বলী (মৃত্যু- ২০০১ খ্রিস্টাব্দ)
তার প্রমানঃ

http://www.hanabilah.com/were-ibn-taymiyyah-ibn-qayyim-ibn-abdulwahab-ibn-baz-and-ibn-uthaymin-hanbalis/

http://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad_ibn_al_Uthaymeen

আমি জানি, অনেকেই হয়তো বা বলবেন যে, শেইখ বিন বায এবং ইবন উসাইমীন(রহ) এর অনেক মতামত হাম্বলী মাজহাবের বিরদ্ধে যায়, তাহলে তারা কিভাবে হাম্বলী? হ্যাঁ, আমি মানি তাদের অনেক মত হাম্বলী মাজহাবের বিরদ্ধে যায় কিন্তু আমি আগেই আলোচনা করেছি যে, নিজ ইমামের বিরদ্ধে কিছু মত গেলেই সে তার মাজহাব থেকে বহিষ্কৃত হবেন না, পূর্ববর্তী অনেক আলেমের উদাহরণ আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ্য করেছি। এ ব্যাপারে শেইখ আব্দুল আযিয ইবন বায(রহ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, সেই প্রশ্ন এবং তার উত্তর আমি এখানে উল্লেখ করলাম,

[Question posted to Shaikh AbdulAzīz bin Bāz رحمه ﷲ]
س1: هل لسماحتكم مذهب فقهي خاص وما هو منهجكم في الفتوى والأدلة؟
ج1: مذهبي في الفقه هو مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله وليس على سبيل التقليد ولكن على سبيل الاتباع في الأصول التي سار عليها، أما مسائل الخلاف فمنهجي فيها هو ترجيح ما يقتضي الدليل ترجيحه والفتوى بذلك سواء وافق ذلك مذهب الحنابلة أم خالفه، لأن الحق أحق بالاتباع، وقد قال الله عز وجل
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
Translation:
Question: Do you Esteemed Shaikh follow a specific madh-hab and what is the methodology that you give the fatwa upon and deal with proofs?
Answer: My madh-hab in Fiqh is the madh-hab of Imām Ahmad bin Hanbal رحمه ﷲ, not on the methodology of Taqlīd rather it’s is by following him in his foundations (Usūl) in extracting rulings from fiqh which he took. As for the issues of Fiqh that have differences of opinions, my method in dealing with those is that I choose that which is substantiated with the proof, and then I give rulings based upon that which I’ve selected from that, whether or not it agrees with the opinion of the Hanbalī Madhab or goes against it, That is because the truth is more worthy of being followed, And Allah Says:
“O you who have believed, obey Allah and obey the Messenger and those in authority among you. And If you disagree over anything, refer it to Allah and the Messenger, if you should believe in Allah and the las day. That is the best way and best in result”
Reference:
http://www.binbaz.org.sa/mat/8225

যদি নির্দিষ্ট কোন ইমামের অনুসরণ করা অনর্থক কাজ অথবা ভুল কাজ হয়ে থাকে তাহলে কি উপরে বর্ণীত সকল উলামাগন ভুল করেছেন? অনর্থক কাজ করেছেন? না কখনই না।
অনেকেরাই মুহাদ্দিস দেহলভী শাহ ওয়াউল্লীলাহ এর একটি বক্তব্য দিয়ে মাযহাব এর অনুসরন কে অস্বীকার করেন, মুহাদ্দিস দেহলভী শাহ ওয়াউল্লীলাহ বলেছেনঃ “৪০০ হিজরির পূর্বে মাযহাবের অন্ধ অনুসরন ছিল না”।
মুহাদ্দিস দেহলভী শাহ ওয়াউল্লীলাহ এর উপরক্ত কথা থেকে প্রমানিত হয় যে, ৪০০ হিজরির পূর্বে মাযহাবের নামে গোঁড়ামি করা হত না, মাযহাবের নামে সহীহ হাদীস অস্বীকার করা হত না। কিন্তু এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, মুহাদ্দিস দেহলভী শাহ ওয়াউল্লীলাহ বলেছেন “মাযহাবের অন্ধ অনুসরন করা হত না” কিন্তু তিনি এই কথা বলেন নি যে ‘মাযহাবের অনুসরন করা হত না’, এ থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হয় যে, ৪০০ হিজরির পূর্বে মাযহাবের অন্ধ অনুসরন করা হত না কিন্তু মাযহাবের অনুসরন করা হত।
যারা বলে নির্দিষ্ট কোন ইমামকে মানা ওয়াজিবঃ
শরীয়ত এ কোন কিছু ওয়াজিব হওয়ার জন্য কোরআন অথবা সহীহ হাদিসের দলিল লাগবে। কেহ কেহ বলে থাকেন যে, ৪ ইমাম মিলে ইজমা করেছেন মাজহাব মানার জন্য, এটি একটি কাল্পনিক কথা। কারণঃ
ইমাম আবু হানিফা(রহ) এর জন্ম ৮০ হিজরি আর তিনি ইন্তেকাল ১৫০ হিজরি তে
ইমাম মালেক ইবন আনাস(রহ) এর জন্ম ৯৩ হিজরি আর তিনি ইন্তেকাল ১৭৯ হিজরি তে
ইমাম শাফেঈ(রহ) এর জন্ম ১৫০ হিজরি আর তিনি ইন্তেকাল ২০৪ হিজরি তে
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রহ) এর জন্ম ১৬৪ হিজরি আর তিনি ইন্তেকাল ২৪১ হিজরি তে
উপরোক্ত বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে ইমাম আবু হানিফার সাথে ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ এর দেখাও হয় নি। ইমাম মালেক ইবন আনাস(রহ) যখন ইন্তেকাল করেন তখন ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রহ) এর মাত্র ১৫ বছর বয়স।
অর্থাৎ তাদের ইজমা হওয়ার বিষয় তা অবান্তর। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন ইমামকে মানা ওয়াজিব নয় বরং মুবাহ অর্থাৎ মানলেও দোষ নেই আবার না মানলেও দোষ নেই, এই বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমদের মতামত সামনে আসবে।(ইন শা আল্লাহ)
যারা বলে ইমামদের ইজতিহাদে ভুল নেই ,
ইমামদের ইজতিহাদে ভুল নেই এই কথা অবান্তর। কেননা, ইমাম মালেক ইবন আনাস(রহ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর পরে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার সকল কথাই গ্রহণীয় (ইমাম ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ৬/১৪৫)
সাহাবীদেরও ইজতিহাদী বিষয়ে ভুল থাকা স্বাভাবিক। ইমাম আবু হানিফা(রহ) ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রহ) বলেছেনঃ সাহাবীগণ ভুলের উর্ধে না হলেও কোরআন ও হাদীসে বারবার তাদের পরিপূর্ণ মর্যাদার কথা ঘোষণা করা হয়েছে (আবু বকর সারাখসী,আল-মুহাররার ফী উসুলিল ফিকহ ২/৮১-৯১, আবু হামেদ গাযালী, আল-মুসতাসফা ১/৬১৬-৬২৬, মুহাম্মাদ ইবন হুসাইন আল-জিযানী,মাআলিমু উসুলিল ফিকহি,পৃঃ২২২-২২৭)
যেখানে সাহাবীদের ইজতিহাদে ভুল থাকতে পারে সেখানে ৪ ইমামদের ভুল থাকতে পারে না?
ইমাম আবু হানিফা ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) কোন সালাত আছে বলে মনে করতেন না, কিন্তু সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম এ ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) সালাত নামে আলাদা অধ্যায়(বা’ব) রয়েছে।
সুনান আবু দাউদ এর ১১৬১,১১৬২,১১৬৩,১১৬৪,১১৬৫,১১৬৬,১১৬৭,১১৬৮,১১৭০,১১৭১,১১৭২,১১৭৩,১১৭৪,১১৭৬ নং হাদীস ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) সালাত সম্পর্কে আমাদের বলছে(এছাড়াও আর অনেক হাদীস রয়েছে)।
তাহলে কি ইমাম আবু হানিফা(রহ) এর ইজতিহাদ ভুল ছিল না এই ক্ষেত্রে? সম্ভবত ইমাম আবু হানিফার কাছে এসব হাদিস গুল পৌঁছে নি।
ইতিপূর্বে আমি আলোচনা করেছি যে ইমাম মুহাম্মাদ(রহ) ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) সালাত সম্পর্কে মত দিয়েছেন এবং বলেছেন যে ইসতিসকার(বৃষ্টি প্রার্থনার) সালাত ২ রাকাত।
এছাড়াও আমি ইতিপূর্বে আরো আলোচনা করেছি যে, এই ৪ ইমামের অনেক অনুসারী তাদের ইমামের অনেক ফতওয়ার বিরোধিতা করেছেন, এতেই স্পষ্ট হয় যে এই ৪ মুজতাহিদ ইমামদের কিছু ইজতিহাদে ভুল ছিল। তবে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রহ) এর ইজতিহাদে সবচেয়ে কম ভুল পাওয়া যায়, এর অন্যতম কারণ হল- তিনি মুহাদ্দিস ছিলেন, তার প্রায় ১০ লক্ষ হাদীস মুখস্ত ছিল। এছাড়াও তিনি ইমাম বোখারী(রহ) এর পণ্ডিত ছিলেন।
ইমামদের(মাজহাব) অনুসরণ করার পদ্ধতিঃ
১. ইমামের ইজতিহাদ সঠিক ও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে এই কথা খেয়াল রেখে তার অনুসরন করা।
২. ইমামের ফতওয়ার পক্ষের দলিল খোজ করা (তালেবে ইলম ও আলেমদের জন্য)
৩. ইমামের ফতওয়ার বিপক্ষে কোরআন অথবা সহীহ হাদীস থাকলে আগে দেখে নেওয়া যে ইমামের ফতওয়ার পক্ষে দলিল আছে কিনা (তালেবে ইলম ও আলেমদের জন্য)
৪. ইমামের ফতওয়ার পক্ষে ও বিপক্ষে(অর্থাৎ ২ পক্ষেই) দলিল থাকলে যা উৎকৃষ্ট তা পালন করা আর ২ পক্ষের দলীল সমান পর্যায় এর হলে ইমামের মত অনুসরণ করলে ইমামের অনুসারীদের সাথে ঐক্য থাকবে আর ইমামের মত না মেনে বিপরীত মত মানলেও তা দোষের কিছু নয় (তালেবে ইলম ও আলেমদের জন্য)
৫. ইমামের ফতওয়ার বিপক্ষে কোরআন অথবা সহীহ হাদীস থাকলে ও ইমামের ফতওয়ার পক্ষে দলিল না থাকলে ইমামের মতকে বর্জন করা এবং সেই কোরআন অথবা সহীহ হাদীসের আলোকে যার ইজতিহাদ রয়েছে(অথবা আলেমকে জিজ্ঞাসা করা) তাকে অনুসরণ করা(সাধারণ মানুষের জন্য) আর তালেবে ইলমদের জন্য কোরআন অথবা সহীহ হাদীসের আলোকে মত গ্রহণ করা এবং আলেমদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে কুণ্ঠিত না হওয়া এবং আলেমদের জন্য সরাসরি সেই কোরআন অথবা সহীহ হাদীসের আলোকে মত গ্রহণ করা
উপরোক্ত ৫ টি নিয়ম মেনে চললে কোরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরণ হবে, অনুসরণ হবে ইমামগণের এবং অনুসরণ হবে পূর্ববর্তি আলেমগণের(ইমাম বোখারী থেকে ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব পর্যন্ত)
কিছু মাসলাতে ২ পক্ষেই সহীহ হাদীস থাকে, সে ক্ষেত্রে যেকোন একটির উপর আমল করলেই চলবে।
নির্দিষ্ট ইমাম(মাজহাব) মানার ক্ষেত্রে ডাঃ জাকির নায়েকের মতঃ
ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেনঃ সাধারণের মধ্যে কেউ যদি বিশেষ কোনো ইমামের রীতি পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তা অবশ্যই দোষের কিছু নয়। (লেকচার সমগ্র,ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের আপত্তি সমূহের জবাব,মুসলিমরা এত দলে বিভক্ত কেন?,পৃঃ-২৩৪) এখানে তিনি মাজহাবকে জাতীয় পরিচয় হিসাবে উল্লেখ্য করতে নিষেধ করেছেন কারণ এতে করে ইসলামে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।
মাজহাব মানা কি বিভক্তি নয়?
আল্লাহ পাক কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আমাদের বিভক্ত হতে নিষেধ করেছেন,
যেমনঃ সুরা আনআম এর ১৫৯ নং আয়াত, সুরা রুম এর ৩১-৩২ আয়াত।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন, সুরা আলে ইমরান এর আয়াত ১০৩ নং আয়াতে।
কিন্তু এসব আয়াত ইমামদের সঠিক অনুসরণকারীদের উপর বর্তাবে না। কেননা ইমামদের সঠিক অনুসারীরা কোরআন এবং সুন্নাহ অবশ্যই আঁকড়ে ধরে রাখবে। ইমামদের অনুসরণ করে বলেই একে অপরের সাথে আলাদা হবে না। কারণ মাজহাব দ্বীন নয় বরং মাজহাব হল দ্বীন(ইসলাম) মানার একটি উপায়। আমি আগেই বলেছি যে, কেউ যদি ইজতিহাদ করার ক্ষমতা রাখে তাহলে তার জন্য মাজহাব মানার কোন প্রয়োজন নেই। আবার কোন সাধারণ মানুষ যদি মাজহাব না মানে বরং বর্তমান সময়ের সঠিক আলেমদের অনুসরণ করে তাতেও সমস্যা নেই। তবে বর্তমান সময়ের আলেমগণ কি পূর্ববর্তীদের থেকে বেশী জ্ঞানী?
মাজহাব মানা যদি বিভক্তি হত তাহলে ইমাম বোখারী সহ এত বড় আলেমগণ মাজহাব মানতেন না। মাজহাব মানা যদি বিভক্তি হত তাহলে ডাঃ জাকির নায়েক মাজহাব মানতে নিষেধ করতেন। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই পর্যন্ত কোন জ্ঞানী আলেমকে মাজহাবের বিরোধিতা করতে দেখি নি তবে তারা সবাই মাজহাবের অন্ধ ভক্তির(তাকলীদ) বিরোধিতা করেছেন।
কিছু কিছু সময় কিছু কিছু অজ্ঞ মানুষ মাজহাবের মাধ্যমে ইসলামকে বিভক্ত করছেন। যেমনঃ কেউ কেউ বলে থাকেন যে, আমরা হাম্বলীদের জায়গা দেই না। এসব কথা বলা শরীয়াত কখনও সমর্থন করে না,এসব কথার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হবে। আবার কখনো দেখান যায় যে শুধু মাজহাব মানার কারণে লা মাযহাবী ভাইরা তাদের অপছন্দ করে থাকেন,যা কখনও বৈধ নয় তবে যারা তাকলীদ অর্থাৎ অন্ধ অনুসরণ করে তাদের কথা ভিন্ন।
মাযহাব মানা কি ওয়াজিব? এ ব্যাপারে পূর্ববর্তীদের মতামতঃ
1. Shaykh Al-Islam Imaam Ibn Taymiyyah Says: “it is not obligatory on a layman to follow a Madhab”

অনুবাদঃ শায়খ উল-ইসলাম ইমাম ইবন তায়মিয়্যাহ বলেছেনঃ “সাধারন মানুষের জন্য মাযহাব অনুসরন করা আবশ্যিক(ওয়াজিব) নয়” [Majmu’ah 20/116, 124-126]
2. Ibn al-Humam al-Hanafi says in his Tahrir : “Adhering to a particular Madhab is not obligatory, according to the correct opinion”
অনুবাদঃ ইবন আল-হুমাম আল-হানাফী বলেছেনঃ “একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরন করা সঠিক মতামত অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়” [Mukhtasar al-Tahrir 103]
3. Ibn Muflih al-Hanbali, in al-Furu’, mentions the difference of opinion amongst the Malikis and Shafi’is, saying: “It not(following a madhab) being obligatory is the most famous opinion”. Al-Mardawi comments: “And this is the correct opinion”.
অনুবাদঃ ইবন মুফলিহ আল-হাম্বলী, মালিকি ও শাফেয়ীদের মধ্যে মতভেদ উল্লেখ করে বলেছেনঃ “একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরন করা ওয়াজিব নয়, ইহাই সবচেয়ে বিখ্যাত মতামত”।
এবং তিনি মন্তব্য করেছেনঃ “এবং এটাই সঠিক অভিমত” [আল-ফুরু]
4. Ibn al-Najjar al-Hanbali says: “A layman is not obliged to adhere to a Madhab”
অনুবাদঃ ইবন আন-নাজ্জার আল-হাম্বলী বলেছেনঃ “একজন সাধারন মানুষের জন্য মাযহাব মানা ওয়াজিব(আবশ্যক) নয়”
5.Ibn Qawan al-Shafi’i says in his al-Tahqiqat, “The truth is that it is not incumbent to adhere to a Madhab; Rather, a person should ask whoever he likes.
অনুবাদঃ ইবন কাওয়ান আল-শাফেয়ী তার আল-তাহকীকাত এ বলেছেনঃ “সত্য হলো মাযহাব অনুসরন করা আবশ্যক নয়,বরং একজন ব্যাক্তির প্রয়োজন তাকে জিজ্ঞাসা করা, যাকে সে পছন্দ করে” [আল-তাহকীকাত]
6. Mulla ‘Ali al-Qari al-Hanafi says: “It is not obligatory upon anyone from the Ummah to be a Hanafi, or a Maliki, or a Shafi’i, or a Hanbali; rather, it is obligatory upon everyone, if he is not a scholar, to ask someone from Ahl al-Dhikr (people of knowledge), and the four Imams are from amongst the Ahl al-Dhikr.”
অনুবাদঃ মোল্লা আলী আল-কারী আল-হানাফী বলেছেনঃ “এই উম্মাহ(মুসলিম) এর কারো উপর এটি আবশ্যিক(ওয়াজিব) নয় যে তাকে হানাফী,শাফেয়ী,মালিকী,হাম্বলী হতে হবে; বরং যদি কেউ আলেম না হয়(সাধারন মানুষ) তাহলে তার জন্য আবশ্যক(ওয়াজিব) যে, সে আলেমদের মধ্যে থেকে কাউকে জিজ্ঞাসা করবে, এবং চার ইমাম আলেমদের মধ্য হতেই” [Tuḥfaŧ ‘l-Anām by Muḥammad Ḥayāħ ál-Sindī pg. 33-34,, Dār Ibn Ḥazm Beirut, 1st edition]
উল্লেখ্য যে, উপরের ৬ জন প্রখ্যাত আলেম বলেছেন মাযহাব মানা ওয়াজিব নয়, কিন্তু এটি বলেন নি যে মাযহাব মানা জায়েজ নয় অথবা মাযহাব মানাকে তারা হারাম বলেন নি। অর্থাৎ মাযহাব মানা হালাল তবে ওয়াজিব নয় এবং তারা মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
শেষ কথাঃ
উপরের আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে, মাজহাব মানা এবং না মানা ২ টাই শরীয়াত সমর্থিত। কাজেই আমরা এই ছোট বিষয়টি নিয়ে একে অপরের প্রতি কোন বিদ্বেষ রাখব না। তবে যারা তাকলীদ(অন্ধ অনুসরণ) করে তাদের বুঝাতে হবে যে তারা ভুল করছে। বর্তমানে শেইখ নাসীরুদ্দিন আলবানী(রহ) এর তাকলীদ করতেও কাউকে দেখা যায়, এটাও ভুল, এ থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। এই বিষয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য আমার একটাই, তা হল মুসলিম উম্মাহ এই ছোট বিষয় নিয়ে বারাবারী করবে না বরং সঠিক ভাবে উভয় পক্ষকে বুঝে নিবে, ইমামদের নামে অন্ধ অনুসরণ বন্ধ করে কোরআন ও সহীহ হাদীসের উপর আমল করবে, ইমামদের পূর্ববর্তী অনুসারীরা যে ভাবে অনুসরণ করেছেন ইমামদের ঠিক সেই ভাবেই অনুসরণ করা। আসুন আমাদের সমাজ থেকে শিরক ও বিদআত দূর করি এবং কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে আমল করি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা অধিক জ্ঞাত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s